সুনামির সময় তামিলনাড়ুর এই প্রাচীন মন্দিরটি কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্হ হয়েনি

author image
6:00 pm 7 Nov, 2017

Advertisement

তামিলনাড়ুতে ভগবান কার্ত্তিকেয় নিবেদিত একটি অনন্য মন্দির আছে। কন্যাকুমারী থেকে 75 কিলোমিটার দূরে অবস্হিত তাত্তিকরিন জেলায় তিরুচিচন্দুর মুরুগান মন্দির বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই মন্দির প্রতিষ্ঠার প্রকৃত সময় কেউ জানে না। তবে মনে করা হচ্ছে মন্দিরের নির্মাণ হয়েছিল হাজার হাজার বছর আগে।

মন্দির নির্মাণে পান্ড্য এবং চোল, চের বংশগুলির অবদান রয়েছে। বর্তমানে এই মন্দিরটি সমুদ্রের ধারে রয়েছে। আপনারা জেনে অবাক হবেন 26 ডিসেম্বর 2004 সুনামিতে যখন চারিদিকে ভয়ানক বিপর্যয় হয়েছিল তখন আশ্চর্যজনকভাবে মন্দিরটির কোনও ক্ষতি হয়েনি। মন্দির চারপাশের জিনিসগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে কিভাবে সুনামিতে মন্দিরের কোনও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েনি।


Advertisement

আসুন আজ আমরা এই মন্দিরের পেছনের আকর্ষণীয় গল্পটির সম্পর্কে জানুন।

17 শতকে ডাচরা ভারতে এসেছিলেন এবং তারা তাদের উপনিবেশ তৈরি করতে শুরু করেন। ডাচরা শ্রীলঙ্কা ও তামিলনাডুর দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় শাসন করতেন।



অন্যান্য ঔপনিবেশিক শাসকদের মতো, তারা হিন্দু মন্দির লুণ্ঠন করে সেই সম্পত্তি তাদের দেশে পাঠিয়ে দেয়।

সেই সময়ে তুটিকোরিন ডাচদের অধীনে ছিল তারা তিরুচন্দুর মুরুগান মন্দিরের সম্পত্তি এবং মুরুগান মূর্তি (কার্তিকিয়া) লুণ্ঠন করেন।

যখন তারা মূর্তিতে চুন্ঠন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন ভয়ঙ্কর দুর্যোগের কারণে তাদের যাত্রা মাঝপথে আটকে যায়।

অনেকের মতে মুরুগান ক্রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং নিজেদের রক্ষা করার জন্য তারা ভগবানের মূর্তিকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার কথা চিন্তা করে। কথিত আছে যে সমুদ্রে
মূর্তি ফেলে দেওয়ার পর দুর্য়োগ থেমে যায় এবং ডাচরা তাদের গন্তব্যে ফিরে যায়।


Advertisement

এই মন্দিরটি তিরুচন্দুরে মুরুগানের মন্দির মুরাগানের ছয় পবিত্র ধামের মধ্যে একটি। এই মন্দির মুরুগান এবং তাঁর দুই স্ত্রী বল্লী ও দীবানাথকে সমর্পিত করা হয়েছে। বলা হয় যে এই মন্দিরের অস্তিত্ব বৈদিক কাল থেকে রয়েছে এবং প্রাচীন গ্রন্থে এর উল্লেখ রয়েছে।


  • Advertisement