দর্জি থেকে রাধে মা হওয়া পর্যন্ত যাত্রা আকর্ষণীয়

author image
4:19 pm 11 Sep, 2017

Advertisement

সম্প্রতি, গুরমিট রাম রহিম, যিনি নিজেকে ঈশ্বরের একজন প্রেরক বলতেন, তার দুই মহিলা অনুগামীদের সাথে ধর্ষণের জন্য 20 বছরের জেল হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে দেশের নজর অন্যান্য ধর্ম গুরুদের ওপর রয়েছে। যার উদাহরণ হলো রাধে মা। নিজেকে দেবী রূপে পরিচয় দেওয়া রাধে মা-ওর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হতে চলেছে। সুরেন্দ্র মিত্তালের আবেদনে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট পাঞ্জাব পুলিশকে এই নির্দেশ দিয়েছে।ফগওয়ারার বাসিন্দা মিত্তাল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য। তার অভিযোগ প্রথমে তাকে বিমোহিত করেছে এবং তারপর তাকে অভিশপ্ত করেছে।

তবে, এই মামলাটি দুবছর পুরানো। এখন মিত্তল চাইছে হাইকোর্ট রাধে মার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। পাঞ্জাবের একটি ছোট্ট শহরে দর্জির কাজ করতো রাধে মা। সেখান থেকে রাধে মা-র সফর ছিল অনেক লম্বা। আসুন জানা যাক রাধা মা-র সম্পর্কে কিছু তথ্য।

রাধে মা এর আসল নাম হল সুখভিন্দর কৌর।

রাধে মা-র জন্ম 3 মার্চ, 1965 সালে হয়েছিল। পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরের দোরংলা গ্রামে বসবাস করতেন।


Advertisement

তিনি দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। তিনি 18 বছর বয়সে মহন সিংকে বিয়ে করেন। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, তখনও পর্যন্ত তার ধর্ম এবং ভগবানেরর প্রতি সেরকম কোনও ভক্তি ছিল না।

তার স্বামীর আয় বেশি ছিল না, তাইজন্য তিনি ঘর চালানোর জন্য কাপড় সেলাই করার কাজ শুরু করেন। এরপর তার স্বামী চাকরির খোঁজে কাতারে চলে যান এবং তিনিও আধ্যাত্মিকতার পথে চলে আসেন।

23 বছর বয়সে তিনি পাঞ্জাবের হওশিয়ারপুরের 1008 পরমহাঁস বাগের ডেরা মুকেয়ারের মহান্ত রাম দানা দাসের শিষ্য হন। মহন্ত তার নামে দেন রাধে মা।

রাধে মা তার শিষ্য এবং ভক্তদের সাথে নাচেন। এমনকি তার ভক্তরা তাকে চুম্বনও করতে পারবেন। তাদের মতে, এটা রাধে মার আশীর্বাদ। ভক্তদের মতে তিনি দুর্গা মা এর পুনর্জন্ম।

তিনি তিন সন্তানের মা এবং এখন তিনি ঠাকুমাও হয়ে গেছেন। কিন্তু তার অনুসারীদের মতে, রাধ মা এবং তার স্বামী, সন্তান ও নাতি-নাতনির মধ্যে সম্পর্ক গুরু ও শিষ্যের মতো।



29 আগস্ট, 2015 সালে দ্বারকাপীঠ শঙ্করাচার্য স্বামী স্বরূপানন্দ মহারাজ রাধে মা-কে নাসিক কুম্ভ মেলাতে নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। কারণ তাঁর মনে হয়েছিল “এই ধরনের প্রার্থীদের প্রবেশপথ সাধুদের পবিত্র পথের দিকে বাড়ায়” তিনি ত্রিকল ভবনাত, রাধে মা, এবং সচিচন্দ্রান্দকে রাজকীয় স্হানের অংশ হওয়ার থেকে নিষিদ্ধ করেছিলেন।

রাধে মা-র দুজন প্রধান শিষ্য হলো তল্লি বাবা এবং ছোটী মা। প্রথমে সমস্ত প্রস্তাব তাদের কাছে আসে। তারপর রাধে মা-র কাছে যায়। ছোটী মা হলো রাধে মা-র সবথেকে কাছের শিষ্য এবং তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহকর্মীও। সকলের মতে রাধে মা সমস্ত ঐশ্বরিক ক্ষমতা ছোটী মাকে দিয়েছেন।

 

রাধে মা-কে সাধারণত লাল পোশাক ও সোনার অলঙ্কার ছাড়া দেখা যায় না, কিন্তু দুবাইতে তাকে আলাদা রকমের ছোট লাল রঙের পোশাকে দেখা গেছে। তখন মিডিয়া এই উপসংহারে পৌঁছায় যে ,তার কাছে কাপড়ের আলাদা আলমারি রয়েছে।


Advertisement


  • Advertisement