আজ নোট বাতিলের একবছর পূর্তি, জানুন এর থেকে হওয়া লাভ-ক্ষতির সম্বন্ধে

author image
2:12 pm 8 Nov, 2017

Advertisement

আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে 8 নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী মোদি ঘোষণা করেছিলেন মধ্যরাত্রি থেকে বাতিল হয়ে যাবে 500 ও 1000 টাকার নোট। 500 ও 1000 টাকার পুরাতন নোটগুলি অর্থনীতির বাইরে বের করা হয়। এক বছর হয়ে গেলও এর প্রভাব এখনও রয়েছে।

8 নভেম্বর 2016 সালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে নোট বাতিলের জন্য তিনটি কারণ বলেছিলেন- কালো ধন শেষ করার জন্য, জাল নোটের সমস্যা সমাধান করার জন্য, সন্ত্রাসবাদ অর্থনৈতিক সূত্র থামানোর জন্য।


Advertisement

নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে সফল বলে সরকার অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। অন্যদিকে বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ, বিশেষ়জ্ঞ নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে অসফল বলেছেন। সুতরাং আসুন আমরা একটি রিপোর্ট দেখি নোটবাতিলের পর আমরা কোথায় এখন দাঁড়িয়ে রয়েছি।

নোট বাতিলের পর কালো টাকার সম্পাত্তি হয়েনি।

নোট বাতিলের মতো বড় সিদ্ধান্তের পেছনে মূল ধারণা ছিল কালো টাকা বন্ধ। মনে করা হয়েছিল অর্থনীতি থেকে পুরাতন মুদ্রা অপসারণ করে কালো ধন শেষ হবে। প্রকৃতপক্ষে, এই ধারণা ভুল। বাতিল করা নোটের 90% পাল্টানো সম্ভব হয়েছে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে কালো ধন শেষ করার বদলে সাদা করার রাস্তা সহজ হয়েছিল।



মানি লন্ডারিংয়ের মৌলিক প্রয়োজন ছিল কালো টাকার উৎস বন্ধ করা। নোট বাতিল করার লক্ষ্য ছিল ড্রাগ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ হবে। অতএব, সিস্টেমের বাইরে নেওয়া কালো নগদ পুনরায় অর্জনের প্রয়োজন।

জাল নোট আটাকানোর বিষয়টির ধারণাও ভুল।

নোট বাতিল করার সিদ্ধান্তের আরেকটি লক্ষ্য হলো জাল নোট আটাকানো। কিন্তু এই যুক্তিটিও বিভ্রান্তিকর বলে মনে হয়। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক এবং সরকার দাবি করছে যে এই নোটগুলি জাল করা খুব কঠিন, কিন্তু এখন এই রিপোর্ট অনুযায়ী নতুন নোটের জাল নোট বের করা হয়েছে। এই যুক্তিটি যৌক্তিক বলে মনে হয় না।

নোট বাতিলের পক্ষে সরকার তৃতীয় যুক্তি হলো সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থী ঘটনা বন্ধ হবে, তবে বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে না।

‘নগদহীন অর্থনীতি’ হঠাৎ কিভাবে অগ্রাধিকার পেলো।

নোট বাতিলের কয়েক সম্পাহ পরে সরকারে পক্ষ থেকে আরেকটি যুক্তি দেওয়া হয় যেটা প্রথমের ভাষণে ছিল না। ভারতের উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য নগদহীন অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। বিবৃতিতে এই পরিবর্তন অস্বাভাবিক ছিল, কারণ নোট বাতিলের পেছনে যে তিনটি কারণ বলা হয়েছিল সেটা ফলস্বরূপ হয়েনি।

নোট বাতিল অনেক ক্ষেত্রে উপকারী ছিল।

সমস্ত অর্থনীতিবিদ এবং বিশেষজ্ঞ নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে ব্যর্থ বলেছেন, কিন্তু এটি অর্থনীতিতে উপকৃত হয়েছে। নোট বাতিলের পর ব্যঙ্কে জমা টাকার পরিমাণ বাড়ে এবং প্রায় 1 শতাংশ সুদের হার কমে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, 2016-17 সালে ইনকাম টেক্স দেওয়া লোকের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় 25 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। 2015-16 সালে 2.23 কোটি মানুষ আয়কর রিটার্ন ভরেন। 2016-17 সালে, 2.79 কোটি মানুষ আয়কর রিটার্ন ভরেছেন।

নোট বাতিলের পর সরকার 17 লক্ষেরও বেশি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছে। যাদের টেক্স রিটার্নের সাথে ব্যঙ্কগুলিতে টাকা জমা দেওয়ার পরিমাণ সমান ছিল না। আয়কর বিভাগে বিপুলসংখ্যক লোককে নোটিশ পাঠায়।


Advertisement

গবেষণা জানা গেছে ভারতে মোট কালো টাকা শুধুমাত্র 6 শতাংশ নগদ আকারে উপস্থিত রয়েছে। এটা অবশ্যই সমগ্র দেশকে অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন করার একটি সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল, কিন্তু কালো মুদ্রা শেষ হওয়ার পথে সফল হয়নি বলে মনে হয় না, জাল মুদ্রার সমস্যা সমাধানে এবং ‘সন্ত্রাসবাদ’ এর অর্থনৈতিক উত্স বন্ধ করাও সম্ভ হয়েনি।


  • Advertisement