Advertisement

আপনি কি জানেন বখতিয়ার খিলজি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় মিলিয়ন বই আগুনে দগ্ধ করেছিল?

author image
11:16 am 17 Sep, 2017

Advertisement

প্রাচীনকাল থেকে, ভারত শিক্ষা ও ধর্মীয় দিক থেকে সর্বোচ্চস্তরে ছিল । এটা শুধুমাত্র ভারতবর্ষের বিভিন্ন আবিষ্কার ও উদ্ভাবন দ্বারা বার বার প্রমাণিত হয়েছে তা নয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ভারতীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, যা আধুনিক শিক্ষার জগতের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে একটি বলে বিবেচিত।

14 হেক্টর এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় 1193 সালের তুর্কি আক্রমণ পর্যন্ত সর্বোচ্চ শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। এখানে শুধুমাত্র ভারতের নয় তিব্বত, চীন, গ্রীস, এবং পারস্য থেকে বহু শিক্ষার্থী এখানে শিক্ষাগ্রহণ করতে আসতেন। শিক্ষার দিক থেকে গ্রন্হাগারের সংখ্যাও ছিল প্রচুর। এই গ্রন্হাগারে 9 মিলিয়নেরও বেশি বই ছিল। যার মধ্যে কয়েকটি সেই দিনগুলিতে বিরল হিসেবে পরিচিত ছিল।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়টি হলো এই বই আর ভবিষ্যতের প্রজন্মের কাছে পৌছাতে পারেনি। কারণ 1193 খ্রিস্টাব্দে তুর্কিরা সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে ধবংস করে দেয়। যখন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয় তখন বখতিয়ার খিলজী ছিলেন আওয়াদের সেনাপতি। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্হাগারে বহইয়ের সংখ্যা ছিল প্রচুর। যেগুলিকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে তুর্কীদের তিন মাস সময় লেগেছিল।

এই বিষয়টির সম্পর্কে উল্লেখ আছে ফার্সী ইতিহাসবিদ মিনহাজ-ই-সিরাজের বই ‘তাবাকাত-ই নাসরি’ -তে, যেখানে তিনি বখতিয়ার খিলজির কর্মকান্ড সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। এই বই অনুযায়ী, খিলজি বিহার সীমান্তে দুটি গ্রাম বরাদ্দ করেছিলেন, যা রাজনৈতিক নূন্যতম জমি হয়ে উঠেছিল। সুযোগের সন্ধানে, তিনি বিহারে আক্রমণ করে জয় করেন। তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্বারা তার প্রচেষ্টার জন্য স্বীকৃত এবং পুরস্কৃত হন। দস্যু, খিলজী বিহারে একটি দুর্গ আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সফলভাবে এটি দখলও করেন।


Advertisement
মিনহাজ-ই-সিরাজ বর্ণনা অনুযায়ী:

মুহম্মদ-ই-বাখত-ইয়ার দূর্গের ভেতর প্রবেশ করে সেখানে লুটপাঠ করেন। সেখানে বাস করতো অধিক সংখ্যায় ব্রাহ্মণ। যাদের মুন্ডচ্ছেদ করে হত্যা করা হয়। সেখানে প্রচুর সংখ্যক বই ছিল; এবং এই সমস্ত বইগুলি মুসলিমদের পর্যবেক্ষণে এসেছিল তখন তারা কয়েকটি হিন্দুকে আহ্বান জানিয়েছিল যারা ঐসব বইগুলির আমদানি সম্পর্কিত তথ্য দিতে পারে; কিন্তু সমগ্র হিন্দু নিহত হয়েছিল।

তাঁর বইয়ে ফার্সী ঐতিহাসিক বর্ণনা দিয়েছেন যে হাজার হাজার সন্ন্যাসীকে জীবিত পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং খিলজী ইসলাম ধর্মের শ্রেষ্ঠ প্রচার করছিলেন। কয়েক মাস ধরে গ্রন্হাগার জ্বলতে থাকে জ্বলন্ত পান্ডুলিপির ধোঁয়ায় পাহাড় অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল।

নালন্দার শেষ সিংহাসনধারী শকশ্রীধরদ, তিব্বত অনুবাদক ত্রিপু লতোওয়াের আমন্ত্রণে 1204 খ্রিস্টাব্দে তিব্বতে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি দুজন বিদ্যমান ব্যক্তিদের সমন্বয়ে মালাসর্ভস্তীবাদ বংশের একটি সমন্বয় বংশ শুরু করেন।

যখন তিব্বত অনুবাদক চাগ লতোওয়া 1235 সালে যখন স্হানটি পরিদর্শন করেন তখন সেই স্হানটি ক্ষতিগ্রস্থ ছিল। চাগ লতোওয়া এর সময়েও, তুর্কি সৈন্যদের আক্রমণে অবশিষ্ট ছাত্রদের পালাতে বাধ্য করেছিল। এই সব সত্ত্বেও, “বৌদ্ধ সম্প্রদায় অবশিষ্টাংশের সাথে সংগ্রাম করতে থাকেন। ”

মনে করা হয় যদি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় নির্মাণ করা হতো তাহলে প্রাচীন ভারতীয় বৈজ্ঞানিক চিন্তা, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, কেমোথেরাপি, এবং শারীরবিদ্যায় এক বিশাল পরিবর্তন আসতো।

Advertisement


  • Advertisement