এই হ্রদের মধ্যে রয়েছে প্রচুর ধন-সম্পত্তি, কিন্তু বের করে আনার সাহস কাউর নেই

author image
3:51 pm 27 Jul, 2017

Advertisement

হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার জেলার সদর দপ্ত রথেকে 60 কিলোমিটার দূরে অবস্হিত রোহান্ডা নামক স্হানে গভীর জঙ্গলের মধ্যে অবস্হিত রয়েছে “কমরুনাগ” ঝিল। এই হ্রদ তার দেবত্ব এবং সুবিশাল ‘কোষাগার’ -র জন্য বিখ্যাত। মনে করা হয় যে প্রাচীনকাল থেকে এখানে সোনা, রূপা সহ মূল্যবান রত্ন এখানে নিক্ষেপ করা হয়। সেইগুলি ঝিলের মধ্যে জমায়েত হয়ে কোষাগারে পরিণত হয়েছে।

এই হ্রদের রক্ষা করেন বাবা কমরুনাগ। প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী এই ঝিলে সোনা বা রূপার জিনিস নিক্ষেপ করলে তাদের ইচ্ছা পূরণ হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী এই সমস্ত সম্পদ পাতালে চলে যায়, যেখানে রয়েছে দেবতাদের ধন-সম্পদ। তবে ধন- সম্পদে পূর্ণ এই ঝিলের নিরাপত্তার দাযিত্বে রয়েছেন বাবা কমরুনাগ।

যে এই সম্পত্তি বের করার চেষ্টা করে তার সবকিছু শেষ হয়ে যায়। সেজন্য এখান থেকে কিছু বের করে আনার সাহস কারও নেই।

মহাভারতের সাথে সংযোগ রয়েছে ঝিল এবং কমরুনাগের।


Advertisement

মহাভারতে কমরুনাগকে বভ্রুবাহন বলা হতো। শক্তিশালী এবং অপরাজেয় বভ্রুবাহন হলেন অর্জুনের পুত্র। কিন্তু তিনি যুদ্ধে তাঁর পিতার সাথে ছিলেন না। কারণ তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে যুদ্ধে পরাজয় হতে থাকা সেনার পক্ষে থাকবেন এবং সেইকারণে যুদ্ধে তিনি কোনও পক্ষের সাথে থাকবেন সেই সিদ্ধান্ত যুদ্ধের মাঝথানে নেবেন।



ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে একটি শর্তে হারিয়ে দিয়েছিলেন এবং এর পরিবর্তে তাঁর গলা কেটে দেওয়ার জন্য রাজি করান। কারণ কমরুনাগ যুদ্ধে অংশ নিলে পাণ্ডবরা পরাজিত হতো। তাঁর কাটা মাথা ভীম একটি বড় আকারের পাথরের সাথে বেঁধে পান্ডবদের দিকে ঘুরিয়ে দেন। যাতে পান্ডবদের সেনা যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারে।

কমরুনাগের মাথার সম্মুখে এই হ্রদের নির্মাণ করেছিলেন ভীম।

পাহাড়ের প্রধান দেবতা হলেন কমরুনাগ।

গভীর জঙ্গল এবং পাহাড়ের মধ্যে অবস্হিত এই হ্রদের পাশে রয়েছে কমরুনাগের মন্দির। পাহাড়ি লোকেদের মধ্যে কমরুনাগের প্রতি রয়েছে গভীর ভক্তি। কমরুনাগকে বৃষ্টির দেবতা বলা হয়।


Advertisement

প্রত্যেক বছর জুন মাসের 14 বা 15 তারিখে বাবা কমরুনাগ ভক্তদের দর্শন দেন। আষাঢ় মাসে মেলার আয়োজন করা হয়। সেই সময় ভক্তরা তাদের অলঙ্কার এই ঝিলে নিক্ষেপ করে। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ম পালন করা হচ্ছে।


  • Advertisement