কুম্ভলগড় দূর্গের প্রাচীর চিনের মহাপ্রাচীরের সমান মজবুত

author image
2:19 pm 12 Aug, 2017

Advertisement

রাজস্হানের উদয়পুরের কাছে প্রায় 82 কিলোমিটার দূরে অবস্হিত কুম্ভলগড়ের দূর্গ নিছক সৌন্দর্য এবং মজবুতের জন্য বিখ্যাত। এই দূর্গের প্রাচীর 36 কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এই দূর্গটিকে গ্রেট ওয়াল অফ চায়নার পর বিশ্বের দ্বিতীয় এবং ভারতের দীর্ঘতম প্রাচীর বলা হয়।

এই প্রাচীরের বৈশিষ্ট্য হলো এর ওপর 300 মন্দির তৈরি করা হয়েছে এবং মহাকাশ থেকে দেখা যায় না। দূর্গটিকে অজয়গড় বলা হয়, কোনও শত্রুর পক্ষে এখানে বিজয়লাভ করা ছিল অসম্ভব।

কুম্ভলগড় দূর্গের ইতিহাস

এই প্রাচীরের নির্মাণ রানা কুম্ভ শত্রুদের থেকে কুম্ভলগড় দূর্গ রক্ষা করার জন্য তৈরি করিয়েছিলেন। কুম্ভলগড় রাজস্থানের রাজসামান্দ জেলায় অবস্হিত। এই স্হানটি রাজ্যের দক্ষিণ অংশে অবস্হিত রয়েছে এবং কুম্ভলগড় নামে পরিচিত এই দূর্গের সাথে ভারতীয় ইতিহাস গভীরভাবে যুক্ত।



পৃথ্বীরাজ চৌহান থেকে মহারানা সাঙ্গার শৈশবের সময়কাল কেটেছে। এখানে মহারাণা উদয় সিং-কে পান্না দাই এই দূর্গে লুকিয়ে লালন পালন করেছিলেন। হলদিঘাট যুদ্ধে পরাজয়ের পর মহারাণা প্রতাপ দীর্ঘ সময় এখানে কাটিয়েছিলেন। এই দূর্গটি মেওড়ারের সংকটকালীন রাজধানীর সাথে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য।

বাস্তুপুরক হলো কুম্ভলগড় দূর্গ

এই দূর্গ সম্পর্কে বলা হয় বাস্তুশাস্ত্র নিয়ম অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছিল। এই দূর্গের প্রবেশদ্বার, প্রাচীর, জলাশয়, জরুরি অবস্থা দরজা, স্তম্ভের মতো স্থাপত্য এই নিয়ম অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে।

বিখ্যাত পর্যটক স্হান

দূর্গের কাছাকাছি অবস্হিত অভয়রাণ্যের জন্য স্হানটি জনপ্রিয়। পর্যটক শুধুমাত্র কুম্ভলগড় না এখানে তৈরি প্রাসাদ পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

কুম্ভলগড়ের অভয়ারণ্য


Advertisement

কুম্ভলগড়ের অভয়ারণ্য রাজস্থানের একমাত্র জায়গা যেখানে নেকড়ে দেখতে পাওয়া যায়। প্রায় 578 বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্হিত। এই অভয়ারণ্যে শৃগাল, চিতাবাঘ, আলস্য ভালুক, বন্য বিড়াল, হায়না, শাময়, নীলগাই, চৌসিঙ্ঘা (চার শিংওয়ালা হরিণ), খরগোশ পাওয়া যায়। এই অভয়ারণ্যটি সম্পূর্ণরূপে কুম্ভলগড়কে ঘিরে রয়েছে।


  • Advertisement