Advertisement

এই গ্রামের সুরঙ্গের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সম্পদ যে খুঁজতে গেছে ফিরে আসেনি

author image
5:23 pm 29 Jul, 2017

Advertisement

রাজস্হানের জয়সলমীরে অবস্হিত কুলধারা গ্রাম এক রাতের মধ্যে নির্জন জনশূন্য হয়ে গিয়েছিল। এখানে বসবাসকারী বাসিন্দারা তাদের সম্পত্তি সুরঙ্গের মধ্যে লুকিয়ে গিয়েছিলেন।

কুলধারা জয়সলমীর থেকে প্রায় 18 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রয়েছে। পালিওয়াল সম্প্রদায়ের এই এলাকায় 84 গ্রাম ছিল এবং এটা হলো তাদের মধ্যে একটি। পরিশ্রমী এবং ধনী পালিওয়াল ব্রাহ্মণের কুলধারা শাখা 1291 সালে ছয় শত ঘরের এই গ্রামকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এই গ্রামটিকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যতই গরম পড়ুক না কেন এই ঘরগুলি ঠান্ডা থাকবে। গ্রামবাসীদের বেদ এবং শাস্ত্রের প্রচুর জ্ঞান ছিল। এই জ্ঞানকে কাজ লাগিয়ে তারা এতকিছু তৈরি করে নেন। জয়সলমীরের সর্বাধিক খাজনা এরাই দিতো। বাস্তুশাত্রেরও পূর্ণ জ্ঞান ছিল।


Advertisement

জয়সলমীরের দেওয়ান সালমসিংহের নজর ছিল পালিওয়ালর মেয়ের ওপর। তিনি তার সাথে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। তিনি মেয়ের বাড়িতে বার্তা পাঠিয়ে জানান আগামী পূর্ণিমা পর্যন্ত পালিওয়াল যদি তাঁর মেয়েকে তার হাতে তুলে না দেন তাহলে তিনি সকালবেলা গ্রামে ওপর আক্রমণ করে মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবেন।

84 গ্রামের লোকেরা পঞ্চায়েতে সিদ্ধান্ত নেন যে তারা তাদের মেয়েকে দিওয়ানকে দেবেন না। নিজেদের আত্মসম্মান রক্ষা করার জন্য 84 গ্রাম এক রাতের মধ্যে খালি করে চলে যান যাওয়ার সময় অভিশাপ দিয়ে যায় যে এই বাড়িতে কেউ বসবাস করতে না পারে। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত এখানে কেউ বসবাস করতে পারেনি। যারা এখানে থাকার চেষ্টা তাদের পরিবারের একজনের মৃত্যু হয়ে যায়।

আজ এই গ্রামগুলিকে পর্যটক স্হান করা হয়েছে। প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী এখানে আত্মাদের বাস রয়েছে। রাত হতেই তারা বেরিয়ে আসে। এই ঘটনাটির 180 বছরেরও বেশি সময় হয়ে গেছে।

পালিওয়াল ব্রাহ্মণ মহারাজ হরিদাসের বংশের ছিলেন। রাণী রুকমণীর পুরোহিত পালিওয়াল দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। কয়েকজন রাজপুতে যোগদান করেছে। বাকিরা তাদের দুর্দশার এবং দুর্ভাগ্যের উপর কাঁদছে। এখন এই গ্রামে পালিওয়ালতো নেই। কিন্তু উপস্হিত রয়েছে সুরঙ্গ। যারা এখানে খাজানা খুঁজতে এসেছে তাদেরকে দ্বিতীয়বার দেখা যায়নি। সরকারও এই কাজ করতে পারছে না।

Advertisement


  • Advertisement