Advertisement

সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী ভারতকে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করার অনুমতি দিলো বিশ্বব্যাঙ্ক

author image
4:23 pm 2 Aug, 2017

Advertisement

কিসানগঙ্গা এবং রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পাকিস্তানের নিষেধাজ্ঞাকে প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক। বিশ্বব্যঙ্ক জানিয়েছে 1960 সালে সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী ভারত ঝিলাম এবং চিনাবের উপনদীর ওপর প্রজেক্ট তৈরি করার অনুমোদিত দিয়েছে। ভারত এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে IWT সেক্রেটারী পর্যায় আলোচনার পর বিশ্বব্যাঙ্ক বক্তব্য দিয়েছে। মঙ্গলবার একটি বিবৃতি জারি করে বিশ্বব্যাঙ্ক জানিয়েছে জম্বুতে তৈরি করা কিসানগঙ্গা এবং রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে পাকিস্তান।

ভারত ঝিলাম এবং চিনাবের উপনদীর ওপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে কিসানগঙ্গা প্রজেক্ট 330 মেগাওয়াট এবং রাতলে প্রকল্প 850 মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন। সিন্ধু জলচুক্তির ওপর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া বৈঠকে ফ্যাক্টশীটে বলা হয়েছে ভারতের তরফ থেকে তৈরি করা দুটি জলবিদ্যুত প্রকল্পে বিশ্বব্যাঙ্ক পরামর্শ দিয়েছে। সিন্ধু জল চুক্তি অনুযায়ী দুটি নদীর সাথে সিন্ধু নদীর জলের ব্যবহারের ওপর পাকিস্তানের অধিকার আছে।

ফ্যাক্টশীটে বলা হয়েছে দুটি দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহোযোগিতা বাড়ানোর জন্য IWT এর প্রযুক্তিগত সমস্যার ওপর এই সপ্তাহে বেঠক হবে। সেপ্টেম্বরে পুনরায় ওয়াশিংটনে এই বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশ্ব ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, পাকিস্তান দুটি জলবিদ্যুত প্রকল্পের নকশা উপরে উদ্বেগ প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী আদালত গঠন করার কথা বলেছে। অন্যদিকে, ভারত একটি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি করেছে। যাতে পাকিস্তানের দ্বারা উত্থাপিত করা প্রযুক্তিগত সমস্যার ওপর নজর দেওয়া যায়।


Advertisement

এই সমস্যার সমাধান পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারা করতে চাইছে। অন্যদিকে ভারত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের দ্বারা এই সমস্যার সমাধান করতে চাইছে। ফ্যাক্টশীট অনুযায়ী, দুই দেশের পক্ষ থেকে আবেদন করার ওপর বিশ্বব্যাঙ্ক পরামর্শ দিয়েছে। ভারতের এই দুটি প্রকল্প নিয়ে পাকিস্তানের সংসদে বিতর্ক হয়েছিল। পাক বিদেশমন্ত্রী জানুয়ারীতে বলেছিলেন, এই বিরোধের সমাধান করার জন্য বিশ্ব ব্যাঙ্কে আবেদন করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাঙ্কের সহায়তায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নয় বছরের আলোচনার পর 1960 সালে সিন্ধু জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা একটি স্বাক্ষরকারীও। ভারত যদি এই চুক্তিকে বাতিল করে দেয় তাহলে পাকিস্তানের একটি বড় অংশ তৃষ্ণার্ত থেকে যাবে। সিন্ধু ও বাকি পাঁচটি নদী পাকিস্তানের একটি বড় অংশের জলের যোগান দেয়। পাকিস্তানি সংবাদপত্র ট্রিবিউন কয়েক দিন আগে বলেছিল সিন্ধুর জল ছাড়া দেশের একটি বিরাট অংশ মরুভূমি হযে যাবে।

সিন্ধু, ঝিলাম, চেনাবের ওপর জল-ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চলমান। পাকিস্তানে বিদ্যুত্ নিয়ে বিরাট সমস্যা রযেছে। যদি এই চুক্তি বাতিল হয়ে যায় তাহলে পাকিস্তানে বিদ্যুত্ সমস্যা দেখা দেবে। তাছাড়া এই তিনটি নদীর জল দিয়ে সেচকার্যও সম্পন্ন হয়।

Advertisement


  • Advertisement