হীরার জন্য বিখ্যাত ছিল এই স্হানটি, আজও এখানে সমাহিত রয়েছে মুঘল যোদ্ধার হাত

author image
1:39 pm 18 Aug, 2017

Advertisement

রাজধানী থেকে 5 কিলোমিটার দূরে অবস্হিত রয়েছে গোলকুন্ডা দুর্গ। কখনও অনন্য এবং বহুমূল্য হীরার জন্য বিখ্যাত এই দূর্গটি আজ অত্যন্ত করুণ অবস্হায় রয়েছে। এই দূর্গের সাথে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা যুক্ত রয়েছে। একটি যুদ্ধে মুঘল সেনাবাহিনীর সেনানায়ক তাঁর হাত হরিয়েছিলেন, যেটা এখনও এখানে সমাহিত রয়েছে।এই যুদ্ধ হয়েছিল কুতুব শাহী রাজবংশের আবুল হাসান কুতুব এবং ঔরঙ্গজেবের মধ্যে। এই যুদ্ধে জয়ী হয়ে ঔরঙ্গজেব দূর্গ দখল করেন।

28 জানুয়ারি, 1627 সালে ঔরঙ্গজেব গোলকুন্ডা দুর্গ আক্রমণ করেন। এই যুদ্ধে মুঘল সেনাবাহিনীর সেনানায়ক ছিলেন কিলিচ খান। যুদ্ধে কিলিচ তাঁর একটি হাত কামানের গোলার কারণে হারান। যা আজও সমাধি থেকে 500 মিটার দূরে কিস্মতপুরে সমাহিত করা হয়েছে।



এই যুদ্ধে হাত হারানোর পর কিলিত খানের ক্ষত স্হানে ঘা হয়ে যায়। যে কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। ঔরঙ্গজেবের প্রধানমন্ত্রী জমদাতুল মুল্ক অসদের মতে যখন তিনি কিলিচ খানের সাথে দেখা করতে যান তিনি দেখেন কিলিচ খান চুপ করে বসে রয়েছেন। সেই সময় শিবাজি বিজাপুর এবং গোলকুন্ডার সুলতানদের খুব বিরক্ত করছিলেন। বহু দূর্গ দখল করে নিয়েছিলেন শিবাজি।


Advertisement

এই দূর্গটির নির্মাণ করিয়েছিলেন চতুর্দশ শতাব্দীতে ওয়ারাঙ্গালের রাজা। এরপর বাহমনী রাজারা দখল করে নেন যে কারণে এই নগরটির নাম হয় মুহাম্মাদ নগর। কাকতীয়র প্রতাপ রুদ্র দূর্গটিকর সংস্কার করান। দূর্গটি দখল করে নেয় মুসুনুরী নায়করা। তুঘলক সেনারা ওয়ারাঙ্গাল পরাজিত হয়।


Advertisement

1512 খ্রিস্টাব্দে কুতুব শাহী রাজারা দখল করে নেয় এবং হায়দ্রাবাদ তৈরি হওয়ার আগে পর্যন্ত এটা তাদের রাজধানী ছিল। চারপাশে বড় বড় দেওয়ালের নির্মাণ করা হয়েছে। দূর্গের দক্ষিণ দিকে থেকে প্রবাহিত হয় মুসি নদী। গোলকুন্ডা দূর্গকে সপ্তদশ শতাব্দীতে হীরের রাজধানী বলা হতো। এখানের কোল্লুর খনি থেকে পাওয়া গিয়েছিল কোহিনূর হীরা। সেই কারণে বহু শাসক এই দূর্গটি দখল করার চেষ্টা করতো।


  • Advertisement