সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুন থেকে মুক্তি পেলো না লাদাখও

author image
12:17 pm 13 Sep, 2017

নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর লাদাখের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কিন্তু এবার সেই লাদাখে ছড়ালো সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুন। সেখানে এক বৌদ্ধধর্মাবলম্বী যুবতীর সঙ্গে মুসলিম যুবকের বিয়ে নিয়ে ক্রমাগত চড়ছে সাম্প্রদায়িক হিংসার পারদ। উত্তেজনা এতটাই বেড়েছে যে লাদাখ বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাহায্য চেয়েছে। এ বিষয়ে সমাধানের রাস্তা খুঁজে জম্বু কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির কাছে চিঠি পাঠায় ওই বৌদ্ধ সংগঠন। 2015 সালে হওয়া ওই বিয়েতে ওই বৌদ্ধ যুবতী ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

আগাকে বিয়ে করার বিষয়ে শফিয়া জম্বু কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীকে লিখেছেন দিল্লি ভিত্তিক এনজিওতে কাজ করার সময় তারা প্রেম বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তিনি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে ও ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে শফিয়া বলেছেন,

লাদাখ বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি মিথ্যা ।কাউর অধিকার দমন করার ক্ষমতা কাউর নেই। আমি ভালবাসা এবং সমবেদনার দ্বারা জয় করতে চাই।

তিনি আরও বলেছেন, তার ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত ছিল তার আধ্যাত্মিক পছন্দ। এর সাথে বিবাহের কোনও সম্পর্ক নেই।

মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন নাইমা মাহজুরের বিবৃতি অনুযায়ী 2015 সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর 2016 সালে ব্যাঙ্গালোরে বিয়ে করে।

জম্বু কাশ্মীর হাইকোর্টের কাছে সম্মতি নিয়ে আগাকে বিয়ে করার বিষয়ে শফীয়া তার বিবৃতিও রেকর্ড করেছে। আদালত কর্তৃক এই দম্পতিকে বিরক্ত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লাদাখ বৌদ্ধ সমিতি সদস্য পিটি কিংসঝং বলেছেন, রাজ্যজুড়ে সংখ্যালঘুদের অধিকার রোধ করতে চাইছে রাজ্য সরকার।

বৌদ্ধরা মনে করছেন লাদাখের 51% (মুসলমান 49%) জনসংখ্যার মধ্যে রাজ্য সরকার ক্রমাগত অবহেলা করছে বৌদ্ধ নারীদের ইসলামে রূপান্তরের বিষয়টিকে।

কুনজাঙ্গ বলেছে, “45 -র বেশি বৌদ্ধ নারীদের ইসলাম ধর্মে রূপান্তরিত করা হয়েছে। তারা তাদের ইচ্ছামত তাদের ধর্মকে মুক্ত করে দিয়েছে।”

লক্ষ করা যায় যে, লাদাখ দুটি জেলার অন্তর্গত, লেহ এবং কার্গিল, যার মোট জনসংখ্যা প্রায় 2,74,000। লেহ-তে বৌদ্ধদের আধিক্য সবথেকে বেশি আর লাদাখে মুসলিমদের। তবে মুসলমানদের মতে, ধর্মান্তরিত প্রক্রিয়াটি একতরফা নয়: অনেক মুসলিম নারীরাও বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন। বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে উত্তেজনা এতটাই চরমে সমস্যা সমাধানে লাদাখ বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাহায্য চেয়েছে।