2013 সালের মধ্যে 21 জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়, গৌরী লঙ্কেশ হত্যা মামলার মধ্যে তাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়

author image
12:46 pm 8 Sep, 2017

ভারত সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ স্থান নয়। বিশ্ব প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স 2017 অনুযায়ী 180-র মধ্যে 136 নম্বর স্হানে রয়েছে ভারত, পাকিস্তানের চেয়ে মাত্র তিনটি স্থান ওপরে আফিগানিস্তান রয়েছে। 120 নম্বরে যদিও তালিকাটি মোদি সরকারকে দোষারোপ করছে, তবুও এটা সত্যি যে ভারত কখনোই সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ জায়গা নয় এবং এর জন্য একক দল, রাজনীতি অথবা মতাদর্শকে হত্যার জন্য দায়ী করা যায় না। মাফিয়া, রাজনীতিবিদ বা নকশালদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার জন্য সাংবাদিকদের হত্যা করা হয়েছে। দুর্নীতি প্রকাশের জন্যও তাদের হত্যা করা হয়েছে।

সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যখন চারিদিকে বিতর্ক শুরু হয়েছে তখন সেই 21 জন সাংবাদিককে স্মরণ করা উচিত, যাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল। এই সাংবাদিকদের মধ্যে কেউই ইংরেজী মিডিয়াতে কাজ করেন নি।

1. রাজেশ ভার্মা

মুজাফ্ফরনগরের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ রিপোর্ট করার সময় সময় তিনি নিহত হন। তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং রাজেশ ভার্মার বাড়ি পরিদর্শনে যান।

2. নেমি চান্ড জৈন

12 ই ফেব্রুয়ারি মারা যান, সুকমা জেলার নামা গ্রামে হতাহত হন। তিনি নকশালদের দ্বারা নিহত হন। তার হত্যার পর ছত্তিশগড়ের সাংবাদিকরা নকশালদের বয়কট করার একটি প্রস্তাব পাস করে। জৈনকে হত্যা করার জন্য নকশালদের ক্ষমা প্রার্থনা করতে বাধ্য করা হয়।

3. সায় রেড্ডি

বাসাগুদাতে রেড্ডিকে হত্যা করে নকশালরা। 2013 সালে তিনি হলেন দ্বিতীয় সাংবাদিক যাকে হত্যা করা হয়। পুলিশের সাথে কাজ করার অভিযোগ তাকে হত্যা করে নকশালরা।

4. রাকেশ শর্মা

50 বছর বয়েসী এই সাংবাদিককে হত্যা করে মাফিয়ারা। পুলিশ জানায়, ব্যক্তিগত কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

5. জিতেন্দ্র সিং

43 বছর বয়সের সিংকে 2013 সালে নকশালরা খুনতি জেলার মুড়ু এলাকায় গুলি করে হত্যা করে। হত্যা করার কারণ ছিল সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক। নকশালরা চাইছিল না যে সেই এলাকায় উন্নতি হোক।

6. তরুণ কুমার আচার্য

খল্লকোটে আচার্যকে হত্যা করা হয় তখন তার বয়স ছিল 29। এই মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করে বাদাম কারখানার মালিক পি. শ্যাম সুন্দর পাস্টিকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আচার্য সেখানে বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়কে প্রকাশ্যে আনতে চেয়েছিল।

7. এম.ভি.এন শংকর

শঙ্করের হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল তেল মাফিয়ারা। লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তেল মাফিয়া দ্বারা কেরোসিন সহ অন্যান্য পণ্যের অবৈধ বিক্রির সম্পর্কে রিপোর্ট করেছিলেন।

8. মিথিলেশ পাণ্ডে

মুখোশধারী লোকরা গয়া জেলার কাশতা গ্রামের পারাইয়া ব্লকে মিথিলেশের বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করে। 40 বছর বয়েসী পাণ্ডেকে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

9. হেমন্ত যাদব

চান্দৌলির ধীমাতে বাইক আরোহীরা তাকে হত্যা করে।

10. অজয় বিদ্রোহী

সিরামড়ি জেলায় তার বাড়ির বাইরে অজ্ঞাত বন্দুকবাজদের গুলিতে নিহত হন। তার হত্যাকাণ্ড এই অঞ্চলের সাংবাদিকতার গড়িমাকে ক্ষুব্ধ করে। পুলিশেরও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছিল।

11. সঞ্জয় পাঠক

একটি স্থানীয় হিন্দি দৈনিকের পার্ট টাইম সাংবাদিক ছিল পাঠক ফরিদপুরের বক্সারিয়ার দুজন ব্যক্তি তাকে হত্যা করে। একটি ভারী বস্তু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এই মামলায় একজন ধরা পড়লে অন্যজন পলাতক।

12. দেবেন্দ্র চতুরবেদী

কনৌজে তার বাড়িতে তাকে হত্যা করা হয়। হামলাকারীরা তার ছেলে রাজা, একজন সাংবাদিক ও একজন আইনজীবীকে গুলি করে।

13. অক্ষয় সিং

ভায়াপ্পাম কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত মৃত্যুর তদন্ত করার সময় একটি সাক্ষাত্কারে তিনি অবসন্ন হয়ে পড়েন। তাকে প্রথমে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তারপর গুজরাটের দাহোদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মারা যান। সিবিআই মামলাটির দায়িত্বে ছিল।

14. সন্দীপ কোথারি

বালঘাট জেলার অবৈধ খনন এবং ভূমি দখলের খবর প্রকাশ্যে আনার জন্য তাকে হত্যা করা হয়। তার খুনের ঘটনায় যুক্ত পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এই তিনজন অবৈধ খনি এবং চিট ফান্ড সংস্থাগুলির সাথে সংযুক্ত ছিল।

15. যোগেন্দ্র সিং

এসপি মন্ত্রী রামমোহন সিং ওয়ার্নার সহকর্মীদের দ্বারা নিহত হন সিং। তিনি অবৈধ খনি এবং দুর্নীতিতে ভার্মার সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আনার চেষ্টা করেছিলেন।

16. করুণ মিশ্র

সুলতানপুরে গুলিতে নিহত হয় মিশ্র। এই মামলায় দুই খনির ঠিকাদারের নাম আসে। অবৈধ খনির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার জন্য মিশ্রকে হত্যা করা হয়েছিল। তারপর মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব হত্যার তদন্তের জন্য বিশেষ পুলিশ দল গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

17. ইন্দ্রদেব যাদব ওরফে অখিলেশ প্রতাপ

পুলিশ জানায়, চুক্তি নিয়ে বিরোধের কারণে যাদবকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। মামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে 2 জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

18. রাজদেব রঞ্জন

সিয়নে গুন্ডারা তাকে হত্যা করে। তিনি প্রাক্তন আরজেডি এমপি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের,একজন অপরাধমূলক রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন। রঞ্জন এর স্ত্রী অনুযায়ী, তিনি শাহাবুদ্দিনের হিট লিস্টে সপ্তম স্হানে ছিলেন। রঞ্জনের হত্যার মামলা তদন্ত করছে সিবিআই।

19. কিশোর ডেভ

ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে ডেভকে হত্যা করা হয়েছিল। একটি ভ্রমণ ব্যবসা ড্যাভ এর অংশীদার সহ তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।

20. ধর্মেন্দ্র সিং

রোহাতের আমরা তালাবে 35 বছর বয়সী সিংকে অজ্ঞাতপরিচয় মোটরসাইকেল আরোহী গুলি করে হত্যা করে। মাফিয়াদের সাথে পুলিশের যুক্ত থাকার রিপোর্ট তৈরি করেছিল সিং।

21. কমলেষ জৈন

মদ মফিয়াদের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন জৈন। তিনি পিপলিয়ামমণ্ডিতে গুলিবিদ্ধ হন। পরে পুলিশ তদন্তের শেষে জানায় ব্যক্তিগত কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

গৌরী লঙ্কেশের হত্যার পর ভারত একটি অনিরাপদ জায়গা তৈরি করেছে তা নয়। এটি সবসময় একটি অনিরাপদ জায়গা। সাংবাদিকদের প্রত্যেক হত্যার নিন্দা করতে শিখতে হবে ইংরেজী মিডিয়া বা স্থানীয় দৈনিকগুলি হো সবাইকে।