সাহসী 6 জন নারী, যাঁরা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদান করেছিলেন

Updated on 6 May, 2016 at 2:28 pm

Advertisement

ভারতবর্ষ এক বিচিত্র দেশ। তার সংস্কৃতি, ভাষা এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা বৈচিত্র্য দেখা যায়। কিন্তু যখনই স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ব স্মৃতিকথা চারণ করা হয়, তখন সমস্ত বৈচিত্রের বাঁধা, বিভাজন গুলি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত মনে হয়।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল- সবাই এই আন্দলনে যোগদান করেছিলেন। নারীশক্তি ছিল এই আন্দলনের এক বিশাল বাহিনী এবং তখনকার পিতৃশাসিত সমাজে এটি একটি মহান ঘটনা। যেহেতু বাংলা এই সংগ্রামে খুবই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, এই প্রয়াসে আমরা বাংলার এমনই কিছু নেত্রীদের কথা জানব।

1. কণকলতা বরুয়া

কণকলতা বরুয়া ছিলেন তখনকার বঙ্গ প্রদেশের এক স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং মহিলা শহীদদের মধ্যে অন্যতম। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের নিয়ম অনুযায়ী, সব সরকারী জায়গায়, এমনকি থানাতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হত। তিনি আরও কিছু সংগ্রামীদের একত্রে নিয়ে এই আন্দোলনে এগিয়ে আসেন।

ব্রিটিশ পুলিশ তাদের একাজে বাধা দেন এবং অনেক তোলপাড়ের পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি পুলিশের গুলীতে মারা যান। কনকলতাদেবীর ব্যাপারে এর বেশি কিছু আর জানা যায়নি।

2. অরুণা আসাফ আলি


Advertisement

অরুণা আসাফ আলি, স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি প্রখ্যাত নাম। জন্মসুত্রে তিনি অরুনা গাঙ্গুলী নামে পরিচিত। আসাফ আলির সাথে বিবাহের পর তিনি ভারতীয় কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্য হন এবং সত্যাগ্রহ আন্দলনে যোগদান করেন। পরবর্তীকালে তিনি ভারত ছাড়ো আন্দলনেও যোগ দেন এবং সেই আন্দোলনের এক অন্যতম চরিত্র হয়ে ওঠেন।

১৯৩২ সালে সরকার বিরোধী কাজের জন্য তাঁকে তিহার জেলে পাঠানো হয়। সেখানে রাজনৈতিক বন্দীদের সাথে ভিন্ন ব্যবহার বন্ধ করার উদ্দ্যেশে তিনি অনশন শুরু করেন। তাঁর উদ্দ্যেশ্য সফল হলে খুব শীঘ্রই তাঁকে নির্জন কারাবাসের জন্য আম্বালা পাঠানো হয়।

3. সরোজিনী নাইডু

সুমধুর কণ্ঠস্বর ও তাঁর কবিতার জন্য তিনি ভারতের নাইটইঙ্গেল নামে পরিচিতহলেও সরোজিনী নাইডু স্বাধীনতা সংগ্রামের এক সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম হলেও ১৯০৫ সালে, যখন বঙ্গভঙ্গের প্রচেষ্টা চলছে, তখন তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন। ১৯১৭ সালে নিজ প্রচেষ্টায়ে ভারতীয় নারীদের সমিতি গঠন করেন। শুধু তাই নয়, তিনি হলেন প্রথম মহিলা যিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনের(কানপুরে অধিবেশিত) অধ্যক্ষ হন।

স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িত সব আন্দলনে বিপুল ভূমিকা পালন করার পর তিনি স্বাধীন আগ্রা ও অয্যোধ্যা যুক্তপ্রদেশের প্রথম রাজ্যপাল নিযুক্ত হন।



4. বীণা দাস

বাংলার ছাত্রী সংঘের এক অন্যতম সদস্য বীণা দাস তাঁর সাহসিকতা এবং প্রাণবন্ত স্বাভাবের জন্য পরিচিত। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন হলঘরে, অসংখ্য লোকের সামনে তিনি বাংলার তাত্কালীন রাজ্যপাল এবং ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়াক, স্ট্যানলি জ্যাকসন-কে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেন। পর-পর পাঁচটি গুলী চালানোর পর ও তিনি তাঁর কাজে ব্যর্থ হন ও ধরা পড়েন এবং ৯ বছর কারাগারে নির্যাতিত হন।

5. প্রীতিলতা ওয়াদেদ্দার

এই বাঙ্গালী স্বাধীনতা সংগ্রামী এমন এক বিপ্লবী দলের সদস্য ছিলেন যে দলের অধিনায়ক ছিলেন সূর্য সেন, যিনি মাস্টারদা নামে পরিচিত। তাঁর সাহস এবং আগ্রহ তাঁকে একটি ১৫ জন সদস্যের দলের নেত্রীতে পরিণত করে। এই দলটি পাহাড়তলি ইউরোপিয়ান ক্লাবে আক্রমণ করে যেখানে একটি সাইনবোর্ডে লেখা ছিল-“কুকুর ও ভারতীয় প্রবেশ নিষেধ”।

তাঁরা ক্লাবটি আক্রমণ করতে সফল হলেও পরে তাঁদের বন্দী করা হয়। প্রীতিলতা আত্মসমর্পণ না করে স্যাইয়ানাইড খেয়ে প্রান ত্যাগ করেন।

6. মাতাঙ্গিনী হাজরা

গান্ধীবুড়ি নামে পরিচিত এই বৃদ্ধা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সক্রিয় সদস্যা ছিলেন। ১৯০৫ সালে স্বাধিনতার উদ্দেশ্যে তিনি গান্ধীজীর সাথে যোগ দেন। “অসহযোগী আন্দোলন” থেকে শুরু করে “ভারত ছাড়ো আন্দোলন”- সবরকম অসহিংস আন্দলনের অংশ ছিলেন তিনি। এমনকি বিনা আপত্তিতে জেলের কঠোর শাস্তি মেনে নেন।

ভারতীয় কংগ্রেসের সদস্য হওয়ার পর তিনি গান্ধিজির পদ্ধতিতে নিজের খাদি সুতো বোনা শুরু করেন। এই অসহিংস সদস্য তমলুক থানার সামনে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন।


Advertisement


  • Advertisement