শিবের উপাসক হলেন আঘরী সাধু, তাদের সম্পর্কে 12 টি রহস্যময় তথ্য জানুন

author image
12:13 pm 8 Dec, 2017

Advertisement

আঘর ধর্ম হলো হিন্দু ধর্মের একটি সম্প্রদায়। যারা এটিকে অনুসরণ করে তাদের বলা হয় অঘোরি। আঘর ধর্মের উত্পত্তি সম্পর্কে এখনও কোনও সঠিক তথ্য নেই। তবে তারা কাপালিক সভ্যতার সমতুল্য বলে বিবেচিত।

এই ধর্মাবলম্বীদের অনুসরণকারী সাধুদের জীবন অপ্রচলিত এবং সভ্য সমাজ থেকে ভিন্ন। এই কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের প্রতি কৌতুহল বেশি থাকে। জানুন তাদের সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য।

1. শিব ভক্তি

আঘরী সাধুদের শৈব সম্প্রদায়ের বলা হয়। অর্থাত্ তারা শিবের উপাসক তারা বিশ্বাস করেন যে শিব একমাত্র শক্তি, যিনি বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

2. সার্বলৌকিক ওষুধ


Advertisement

আঘরীরা বিশ্বাস করেন যে তাদের কাছে মানুষের সব রোগ নিরাময়ের ওষুধ আছে। তারা মৃতদেহ থেকে অসাধারণ তেল বের করে ঔষধ তৈরি করেন, যা খুব কার্যকর বলে মনে করা হয়।

3. কঠোর পরিস্থিতিতে জীবন

আঘরি সাধু বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন এবং কঠিন প্রাণীগুলির মধ্যে একটি। হিমালয়ের ঠান্ডা আবহাওয়া হোক বা গরম তারা প্রতিটি ঋতুতে জামাকাপড় ছাড়া থাকেন।

4. কোনও আকর্ষণ নেই

আঘরিদের মলিন থাকার পেছনে রয়েছে কারণ। তারা বিশ্বাস করেন যে, ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর জন্য ছোটো জিনিসগুলি নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়, যেমন পরিচ্ছন্ন থাকা এবং শরীরকে আচ্ছাদন করা। চুল কাটাকেও প্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করেন না।

5. মৃতদেহের ওপর ধ্যান

মন্ত্রের উচ্চারণ থেকে মোহাজের পদে আসার পর শশ্মানে ধ্যান করেন। তারা বিশ্বাস করেন যে, এগুলি তাদের মুক্তির পথ দেখাবে।

6. বস্ত্রবিহীন



আঘরি সাধু খুব সামান্য কাপড় পরেন। তারা ঈশ্বরের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য দুনিয়ার সমস্ত পার্থিব আনন্দকে উৎসর্গ করে দেন।

7. কারো প্রতি ঘৃণা নেই

আঘরি সাধুরা ঘৃণা থেকে দূরে থাকেন। তাদের কর্মের উপর ভিত্তি করে ভগবান শিবের দ্বারা প্রদান করা প্রদত্ত সব কিছু গ্রহণ করেন। তাদের মতে, পরিত্রাণের জন্য এটা প্রয়োজনীয়।

8. বস্ত্র ও গহনা

আঘরি নিজের কাপড় ত্যাগ করলেও মৃতদেহগুলি জ্বলন্ত চিতার ছাই দিয়ে নিজের শরীর ঢেকে রাখেন। মানুষের হাড়কে গহনার মতো পরিধান করেন।

9. যৌন অনুষ্ঠান

তারা নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেন। কিন্তু তাদের ইচ্ছা না থাকলে স্পর্শ করেন না। তারা যৌন সম্পর্ক শশ্মানের মৃতদেহের সাথে করেন। তবে এটা আনন্দের জন্য মোহবস্হায় আসার জন্য করেন।

10. নরমাংস-খাওয়া এবং মাংস-খাওয়া

আঘরিদের নরমাংস খেতে দেখা গেছে। যদিও এই প্রথা বিস্ময়কর এবং বেআইনী, এটি উন্মুক্তভাবে বারানসীতে প্রচলিত।

11. তান্ত্রিক শক্তি

বলা হয় যে অধিকাংশ আঘরিদের কাছে তান্ত্রিক ক্ষমতা আছে। তারা কালো জাদুতে বিশেষজ্ঞ এবং তারা যখন মন্ত্রকে উচ্চারণ করতে শুরু করেন। তখন তাদের মধ্যে অলৌকিক ক্ষমতা আসে।

12. গাঁজার ব্যবহার


Advertisement

আঘরিদের খোলাখুলি ভাবে গাঁজা খেতে দেখা গেছে। গাঁজার মাধ্যমে ভক্তি ও ধ্যানমগ্ন হয়ে ঈশ্বরের নিকটে যাওয়ার চেষ্টা করেন।


  • Advertisement