৭টি সুস্বাদু বাঙ্গালী খাবার যেগুলির কথা বাকি ভারতীয়দেরও জানা উচিত

1:14 pm 25 Apr, 2016


বাঙ্গালীরা নিঃসন্দেহে তাদের খাবার খুবই ভালোবাসে। তারা সম্ভবত এই পৃথিবীর একমাত্র এমন সম্প্রদায় যারা দুপুরের খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই রাতে কি খাওয়া হবে সেই আলোচনা শুরু করে দেয়।

আপাতদৃষ্টিতে বাঙালিরা ইহ জগতে যেকোনো বিষয়ে আপস করতে পারে কিন্ত খাবারের ব্যাপারে? কদাচিত নয় ! ভাত দিয়ে মাছ, সবজি ও ডাল – এই তাদের প্রধান খাদ্য।যদিও বাঙ্গালী খাবারের বিষয়ে বেশি কিছু জ্ঞাত নয় তবে তা যে শুধুমাত্রই মাছ-ভাত দিয়ে শুরু হয়ে এবং মিষ্টি দই দিয়ে শেষ হয় (যেমন সবাই ভাবে) তা নয়।

এখন আমরা এমন কিছু মুখরোচক বাঙ্গালী খাবার নিয়ে আলোচনা করব যা অবশ্যই সারা ভারতের জানা উচিত।

১. সুক্ত :

সুক্ত হল একটি গতানুগতিক বাঙ্গালী তরকারী যেটির প্রধান উপাদান হল উচ্ছে। যে কোনো বাঙ্গালী ভোজন সাধারনত সুক্ত দিয়ে শুরু হয়।

উচ্ছে ছাড়াও এতে বেগুন, লাউ, পেঁপে, শালগম ইত্যাদি ব্যবহৃত হয় এবং এই মিশ্রণে দুধ ও মশলা দিয়ে খাঁটি বাঙ্গালী স্বাদ আনা হয়। আজও সমস্ত বনেদী পরিবারে এই সুস্বাদু পদটি রোজ তৈরী হয়ে।

২. ভাজা মুগের ডাল :

এটি মূলত বাঙ্গালী ডাল যা মুগডাল দিয়ে তৈরী হয়। শীতকালের আগমনকে অত্যন্ত আনন্দদায়ক এবং সুস্বাদু করে তুলতে বাঙ্গালীরা কড়াইশুটি ও ফুলকপি দিয়ে এই বিশেষ ডালটি রান্না করে।

সুস্বাদুতম বাঙ্গালী রন্ধনাবলিগুলির মধ্যে একটি হওয়া সত্বেও এটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং এটি বানানোও খুবই সহজ। এটি ভাত ও লেবু দিয়ে খেয়ে দেখুন। আমি বাজি ধরতে পারি আপনি দ্বিতীয়বার খেতে চাইবেনই।

৩. ধোঁকার ডালনা :

এই পদটি বানানোর জন্য ছোলার ডাল পিষে এক ধরনের তরল কাই বানিয়ে তা গোলাকার বা বরফির আকারে তৈরী করে একটি বিশেষ জিভে জল আনা ঝোলে রান্না করে পরিবেশন করা হয়। পাচক এবং ঘরোয়া রাঁধুনিরা এটিকে একটি অন্যতমও কঠিন রন্ধনাবলী বলে মনে করেন- কিন্ত এটি চেখে দেখলে যে তৃপ্তি পাওয়া যায় যে তাতে সমস্ত খাটনি পুষিয়ে যায়।

আগের খাবার দুটির মতো এই পদটিও তৈরী হয় পেঁয়াজ বা রসুন ছাড়াই। তাই আপনি যদি শাকাহারী হন, তবে এই পদটি আপনার জন্য একেবারে সঠিক!

৪. চিংড়ি মাছের মালাইকারি :

এটি বাঙ্গালীদের সর্বাধিক বিখ্যাত ও সর্বোত্তম রন্ধনাবলিগুলির মধ্যে একটি। এটি বিশেষ করে একটি “পশ্চিম”বঙ্গীয় পদ, যাতে নারকেলের দুধে গলদা চিংড়ি রান্না করা হয়।গলদা চিংড়ি আজকাল বহুমূল্য হয়ে যাওয়ার দরুন এই পদটি সাধারণ চিংড়ি দিয়েও তৈরী হয়।


একবার খেলে এই খাবারটির চিন্তাও আপনার জিভে জল আনতে বাধ্য!

৫. ইলিশ পাতুরি :

ইলিশ পাতুরি কে চিরকালই দেখা হয় পশ্চিমবঙ্গের চিংড়ি মাছের মালাইকারীর বিরুদ্ধে পূর্ববঙ্গের জবাব হিসেবে। এটি আরও একটি কঠিন বাঙালি পদ যা তৈরী হয় ইলিশ মাছকে এক বিশেষ সর্ষে বাটা, সর্ষের তেল, কাঁচা লঙ্কাও অন্যান্য মশলার মিশ্রণে মেখে কলাপাতায় মুড়ে।

তারপর এটিকে ভাপিয়ে (মূলত ভাতের সাথে) গরম ভাত দিয়ে পরিবেশন করা হয়। আপনি যদি মাংসাশী হন তাহলে এই পদটি আপনার অবশ্যই খেয়ে দেখা উচিত- শুধুমাত্র স্বাদের জন্যে নয়, এর অসাধারণ সুবাসের জন্যেও।

৬ কচি পাঁঠার ঝোল :

ঐতিহ্যগতভাবে বাঙ্গালীরা কখনই মুরগির মাংসে বিশেষ আগ্রহী ছিল না। তাদের কাছে মাংস বলতেই পাঁঠার মাংস এবং সেই চল আজও তেমনি রয়েছে। যদিও পাঁঠার মাংস দিয়ে একাধিক পদ রান্না করা যায় বাঙ্গালীদের সেই ঐতিহ্যবাহী মাংসের ঝোল যা তৈরী হয় শুধুমাত্র আদা-রসুন বাটা, পেঁয়াজ ও আরো কিছু পরিচিত মশলা দিয়ে তাই সব বাঙ্গালীর অতি প্রিয়।

৪৫০ টাকা প্রতি কিলোর মহার্ঘ সত্বেও যে কোনো বিশেষ দিনে কসাইয়ের দোকানের বাইরে লম্বা লাইন দেখা যায়, এমনকি দূর্গা অষ্টমীর আগেও। গরম ভাত ও লেবুর সাথে খেলে এই পদ আপনার মধ্যাহ্নভোজে এক আলাদা মাত্রা এনে দেয়।

৭. পাটিসাপটা :

এটি আরো একটি অন্যতম বাঙ্গালী খাবার।এটি একটি মিষ্টান্ন যা পৌষ সংক্রান্তির বিশেষ তিথিতে নবান্ন উপলক্ষ্যে বানানো হয়। যদিও এটি বছরের যে কোনো সময়ে বানানো যায়, সমস্ত বাঙ্গালী পরিবারে এই পদটি অন্তত একবার বানানো হয়- তা হলো পৌষ সংক্রান্তির দিন।এই প্রথা বাঙ্গালীরা এখনও মানে (যা প্রমান করে একজন বাঙ্গালী কতটা খাদ্যরসিক!) পাটিসাপটা, যাকে প্রায়ই পিঠে বলা হয় সাধারনত চালের গুঁড়ো ও নারকোল দিয়ে তৈরী হয় এবং খেজুরের গুড় দিয়ে পরিবেশন করা হয়।

তবে এই পদটি তৈরী করার আরো ১৫-১৬ টি প্রণালী আছে। এখন কলকাতা ও তার আশেপাশের নানান মিষ্টান্ন ভান্ডারে চকলেট পিঠেও পাওয়া যায়।

Popular on the Web

Discussions



  • Co-Partner
    Viral Stories

TY News