বাংলা ঘুরতে যাওয়ার সেরা গন্তব্য হওয়ার ১৭ টি কারণ

8:17 am 15 Apr, 2016


হাল আমলের বলিউড ছবিতে বারংবার দেখা যায় বাংলার মুখ। ‘পিকু’-তে পুরনো কলকাতার ঝলক তো ‘গুন্ডে’-তে পুরুলিয়া আর ‘বরফি’-তে দেখা যায় গ্রাম বাংলার মায়া।

এত জায়গা থাকতে বাংলাই কেন? বেড়াতে যাওয়ার দুর্দান্ত জায়গা না হওয়া সত্তেও কি এমন আছে বাংলায় যা আমাদের বেড়াতে যেতে টানে? এখানে আমরা বাংলার এমনকিছু বিষয়েরই উল্লেখ করছি যা জেনে পর্যটকরা খুশি হবেন।

পুনশ্চঃ সবথেকে ভাল ব্যাপার হল নিম্ন লিখিত বিষয়গুলির কোনটাই স্মৃতির সাগরে ভাসা মনগড়া গল্প নয়, সবই সত্যি।

১. প্রথমত, বাংলায় এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে এখনও পুরনো দিনের স্বকিয়তা নিয়ে বিরাজমান। তুমি যদি নবাবিয়ানা চাও, তো মুর্শিদাবাদ তোমার জায়গা।

অথবা ভারতের ঔপনিবেশিক অতীতের ঝলক চাও তবে দার্জিলিং বা কলকাতা ভ্রমণ তোমাকে মুগ্ধ করবে।

২. উত্তরে বিশালাকার হিমালয় থেকে দক্ষিনে চঞ্চল বঙ্গোপসাগর, সুন্দরবনের শান্ত মান্গ্রভ অরন্য, বাংলায় কী নেই?

অবশ্যই সস্তা রাজনীতির ব্যাপারটা যদি আমরা বিস্মৃত হই।

৩. প্রকৃতির নির্জনতায় দিন কাটাতে ছটফট করছেন? তবে আপনার জন্য সেরা জায়গা হল ঝালং।

না হয় মূর্তি নদীর ধারে অলসভাবে বসেই প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করুন।

৪. ৫১ শক্তিপীঠের অনেকগুলিই বাংলায় অবস্থিত।

আধ্যাত্মিক জাগরণের পথে যাত্রার কি এটাই সময়?

৫. মন্দিরের কথা বলতে প্রথমেই মনে পরে বাংলার টেরাকোটার সুক্ষ্ম কাজ সম্বলিত অসংখ্য মন্দির।

আসুন সৌন্দর্যের নিগূঢ়তায় মুগ্ধ হই।

৬. সুক্ষতার কথাই যখন উঠলো তখন আমরা সুন্দর সিল্কের শাড়ির সুবিস্তৃত সুক্ষ কাজের কথা কি করে ভুলতে পারি!

বিশেষত রামায়ন ও মহাভারতের দৃশ্য নিয়ে বোনা বালুচরী শাড়ির আঁচল রেশমের রূপকথা বুনে চলে।

৭. আসুন শান্তিনিকেতনের কলাভবন।এখানকার বিশাল-বিশাল ভাস্কর্য আর বৈচিত্রময় দেওয়াল অঙ্কন, আপনার শিল্পকলারসিক মনকে জাগিয়ে তুলবে।

calcuttaweb


৮. বসন্ত উত্সব বা পৌষমেলায় কাটানো মুহুর্তগুলো আপনার স্মৃতির মণিকোঠায় অবিস্মরনীয় হয়ে থাকবে।

৯. পুরুলিয়ার টিলার নিঃশব্দতায় নিজেকে হারিয়েই দেখুন।

উঁচুনিচু ঢেউ খেলানো জমির ছন্দ যদি আপনার অন্তরের কবি সত্তাকে জাগিয়ে তোলে তবে পুরুলিয়া-ই হল আপনার জন্য সঠিক গন্তব্য। পাখির কুজনর, নদীর কলতান ছাড়া আপনাকে কেউই বিরক্ত করবেনা। আর আপনি যদি শান্তভাবে বসে থাকতে না চান, সে উপায়ও আছে, ঘুরে আসুন অযোধ্যা পাহাড়।

১০. ট্রেকিংয়ের নেশা থাকলে চলে আসুন সান্দাকফু।কাঞ্চনজঙ্ঘার স্বর্ণ আবৃত সৌন্দর্য আপনাকে সাদরে বরণ করতে উন্মুখ হয়ে আছে এখানে।

১১.আপনার রোমাঞ্চ-সন্ধানী মনের ক্ষুধা আরও একটু বাড়াতে হিমালয়ের অসীম সৌন্দর্য আর তীরবর্তী উদার ঘন পাইন বনকে সঙ্গী করে তিস্তানদীতে দুগ্ধ-সাদা জলে চতুর্থ মাত্রার রিভার রাফটিং করুন।

১২.সূর্যাস্তের সময় সমুদ্র সৈকত, সমুদ্রের পাড় ধরে দীর্ঘ দিশাহীন হাঁটা — এসবের আনন্দ নিতে সমুদ্র সৈকতে আপনাকে আসতেই হবে। জমজমাট দীঘা না রোমাঞ্চময় মন্দারমণি, কিংবা তাজপুর, জুনপুট বা বকখালির নির্জনতা – বেছেনিন খুশি মতো যেকোনও সমুদ্র সৈকত।কাজটা বড্ড কঠিন হয়েগেল তো? কোনটা ছেড়ে কোথায় যাবেন ?

১৩. বাংলার খাবার নিয়ে কী কিছু বলতে হবে? বাংলাই তো ভারতের সামুদ্রিক খাবারের প্রাণকেন্দ্র।

১৪. হ্যাঁ, কলকাতাই ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী।

এখানকার নানা-আধুনিক আর্টগ্যালারি বা শুধুই কুমারটুলি গেলেই আপনি এই বড়াই-এর কারণটা টের পেয়েযাবেন।

১৫.কলকাতার পুরনো পারার পাশ দিয়ে ট্রামে চরে বেড়াবার আমেজটাই আলাদা।

উঠেই দেখুননা ,বুঝে যাবেন আমরা ঠিক বলেছি কিনা!

১৬.সবমরশুমেই বাংলায় আসা যায়, আহা! এটাইবাংলারটান।

১৭.সবথেকে সেরা ব্যাপারটা হল, এদেশের আর কোনও রাজ্য আপনার পকেট খালি না করেই এভাবে রাজার হালে রাখবেনা!

ভুল বলছি? তাহলে শুধরে দেবেন আমাদের!

তা কবে আসছেন আমাদের অপরূপ রাজ্য ভ্রমণে?

Popular on the Web

Discussions



  • Viral Stories

TY News