8টি জিনিস যা এক মাত্র কলকাতায় থাকলেই জানা যায়

1:34 pm 20 May, 2016


প্রতিটি শহরের নিজস্ব কিছু স্বতন্ত্রতা থাকে। কলকাতারও আছে, এবং প্রচুর পরিমানেই আছে। আপনারা যদি কখনো কলকাতায় ঘুরতে আসেন, তাহলে একটা জিনিস নজরে পড়বে যে এই শহরে এখনো সেই পুরনো দিনের ভাবটা থেকেই গেছে, এবং এই ব্যাপারটা আপনার কাছে অনেকটা চমকপ্রদ লাগতেই পারে।

কিন্তু তার জন্য আপনাকে এই শহরে থাকতে হবে, লোকজনদের সাথে মেলামেশা করতে হবে এবং শহরটাকে বুঝতে হবে। কলকাতার বিশেষ কিছু-কিছু ব্যাপার আছে যা তারাই জানে যারা এই শহরের গভীরে গিয়ে নিরীক্ষণ করেছেন। কিন্তু একবার ওই শহরে থাকা শুরু করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার আসেপাশে এমন অনেক কিছু হচ্ছে যা শুধুমাত্র কলকাতাতেই দেখা যায়। এইখানে এমন কিছু তালিকা দেওয়া হলোঃ

1. ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর সামনে উপলব্ধ চটজলদি খাবার!

একাধিক লোক এই ঐতিহাসিক স্থান দেখার জায়গায় খালি ঐখানকার পেছনের দরজার বাইরে বিক্রি হওয়া ঐস্বার্যবান চটজলদি খাবার গুলো খেতে আসে কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকে। এমনকি প্রেমিক-প্রেমিকারাও ঐখানে সময় কাটাতে যায়।

একমাত্র বিদেশী ও বাচ্চা সহ পরিবারেরা সাধারণত এই ঐতিহাসিক স্থানটির ভেতরে গিয়ে থাকে। আপনারা এই মহান ভিক্টোরিয়ার ছবি তো নিশ্চই দেখেছেন, কিন্তু ঐখানে গেলে আপনারা এটা বাদে আরো অনেক কিছু দেখতে পাবেন।

2. মাছের বাজারে দরকষাকষি বাধ্যতামূলক!

প্রায় সকল জিনিসেরই দাম কলকাতায় তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই কম বাকি শহরেরে তুলনায়। তার পরেও যেকোনো বাঙালির মনে শান্তি আসবে না যদি না সে সব্জি অথবা মাছ বাজারে দরকষাকষি না করে ফেরে। আর এই দরকষাকষি যেকোনো সাধারণ মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়।

এইটা বোঝার জন্যে আপনাকে নিজের চোখে দেখতে হবে এই ঘটনাটাকে। খালি যাতে কেউ তাকে বোকা বানাতে না পারে তার জন্যে এক বাঙালি পুরো বাজারটা চষে ঘুরে দেখতে পারে সকলের থেকে দামটা জানার জন্যে।

আর মানতেও হবে, তাকে ঠকানো সত্যই মুশকিল।

3. দূ মিনিটের রাস্তা চলার জন্যও রিক্সা ব্যবাহর করা

ওই বিশাল আকারের ভুড়িটা এমনি এমনি হয়ে যায়নি। আপনারা একমাত্র বাঙালি দের সাথে থাকলে জানবেন যে তারা সব থেকে কাছের দোকান অথবা বাজার এমন কি বড় রাস্তায় যাওয়ার জন্যও রিক্সা ব্যবহার করে থাকে। সবাই

যেই রাস্তাটা হেটে যাওয়াই শ্রেয় মনে করবে, বাঙালিরা খুশি-খুশি রিক্সায় উঠে সেই রাস্তা পারি দেবে। স্বাস্থ্য এবং ভুড়িকে গুলি মারো, রিক্সা যে কোনো বাঙালির জন্যে সব সময় প্রিয়।

4. সকালের জল খাবার নাকি দুপুরের ভোজন নাকি মাঝামাঝি কিছু?

আপনি এইটা ভাবতে বাধ্য যে এক বাঙালি সকাল বেলা ঠিক কোন ভোজনটি সারছে? সকালের জল খাবার নাকি দুপুরের ভোজন নাকি দুটোর মাঝামাঝি কিছু? সে স্কুলের আগেই হোক কিংবা কলেজ বা চাকরি সুত্রে কোনো কাজে বেরোনোর আগে হোক, সে ভাত না খেয়ে বেড়িয়ে গেলে বাঙালি মেয়েরা কখনই শান্তি পাবে না।

যদি মাছের সাথে খেয়ে যায় তালে তো সোনায় সোহাগা, নাহলে যে কোনো কিছু দিয়ে ভাত খেয়ে গেলেই তাদের মনে শান্তি। এমনকি বাঙালিরাও নিজেরা জানে না এই ধরনের ভোজন কে ঠিক কি বলে ডাকা যায়।


5. দূর্গা পুজোর 100 দিন আগের থেকে তার জন্যে অপেক্ষা করে বসে থাকা

এক বাঙালির বেচে থাকার মূল কারণই হচ্ছে দূর্গা পুজো। বর্ষা শেষ হতে না হতেই দূর্গা পুজোর আমেজটা যেন চলেই আসে। এমন মনে হয়ে যেন ওই দূর্গা পুজোর জন্যে বাঙালিরা সারাটা বছর অপেক্ষা করে থাকে। খালি লোকজনই কেনো, খবরের চ্যানেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন চ্যানেলও প্রায় একশো দিন আগের থেকে দিন গোনা শুরু করে দেয়।

আর এইবার এই 100 দিন টাকে মাসে ভেবে দেখুন – 3 মাস। 3 মাস ধৈর্য ধরে দূর্গা পুজোর 4 টে দিনের জন্যে অপেক্ষা করা? একমাত্র বাঙালিরাই পারে।

6. রোজ দুপুরেই ঘুমটা দরকারী

আপনি ভাববেন সবাই হঠাত গেলো কোথায়। আর এমনটাই যদি আপনি এখন ভাবছেন তাহলে এখন নির্ঘাত দুপুর বেলা আর সক্কলে নিজের নিজের ঘরে ঘুমোতে চলে গেছে। এবং তাদেরকে এইটা করার থেকে বাঁধা দিলে আপনি তাদের কাছে শত্রু হয়ে যেতে বাধ্য। আর এইটা আপনার পক্ষে বাইরের থেকে বোঝা খুবই মুশকিল।

একবার কলকাতায় থাকা শুরু করলে আপনি একমাত্র বুঝবেন যে এই চল ঘরে ঘরে খুবই প্রচলিত। দুপুর আসতে না আসতেই সকলের বড় বড় হাই আপানকে এইটা বোঝাতে বাধ্য করবে যে এইবার তাদের ঘুমাতে যাওয়ার সময় এসে গেছে। বেশিক্ষণ না হলেও, ঘুমানোটা ১০০ ভাগ জরুরি।

7. সক্কাল-সক্কাল রেডিও চলা অনিবার্য

প্রাতঃভ্রমণটা এখন বাঙালিরা একটা রোজকারের অভ্যাস করে তুলেছে। আপনি যেই না ঘর থেকে বেরোবেন, প্রতিটা বাঙালি ঘরেতেই আপনি রেডিওর শব্দ শুনতে পাবেন। বেশির ভাগ সময়ই আকাশবাণী চ্যানেল শোনা যায় নাহলে যেকোনো ধর্মীয় সঙ্গীত।

এক বাঙালি পরিবারে সক্কাল বেলা রেডিও শোনা হচ্ছে না, এ যেন এক অসম্ভব ব্যাপার। রেডিও তাদের জীবনের যেন এক মৌলিক অংশ। রেডিও ছাড়া বাঙালিদের জীবনযাত্রা সত্যই অসম্পূর্ণ।

8. খ্রীষ্টানদের মতো করে বড়দিনের পর্ব মানানো

আপনি ভেবে ছিলেন বড়দিন খালি খ্রীষ্টান দের জন্যে? তাহলে আপনার একবার শীতকালে কলকাতায় এসে ঘুরে দেখা উচিত। এইখানে যেই ভাবে বড় দিন উতযাপন হয়, মনে হয়ে না সারা ভারতে আর কথাও সেইভাবে মানানো হয়। সে বো-ব্যারাক হোক কি ক্যাথেড্রাল কি পার্ক স্ট্রিট ই হোক না কেন, বড় দিনের সময় কলকাতার সক্কলেই যেন খ্রীষ্টানদের সাথে খুশিতে রেঙে ওঠে।

একমাত্র কলকাতায় আসলে বোঝা যায় যে প্রায় প্রতিটা ঘরই বড় দিন মানায় – এমন কি নিজেরা বাড়িতে কেক তৈরী করে পরিবারের সাথে খায়। আসল কথা হলো বাঙালিদের খালি একটা কারন চাই মজা করার এবং সক্কলের সাথে আনন্দ সহকারে মেতে ওঠার।

Popular on the Web

Discussions