কলকাতার ১৩টি থীম রেস্তোরাঁ যেখানে সব খাদ্যারসিকের অবশ্যই যাওয়া উচিত

7:10 pm 29 Apr, 2016


বাঙালিদের খাবারের প্রতি ভালোবাসা ও সুপ্রচুর খিদের কথা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। আসলে অন্য কোথাও তো আর রেস্তোরাঁয় বিরিয়ানিতে আলু না দেওয়ার জন্য লোকে প্রায় হরতাল করতে উদ্যত হয় না।

রেস্তোরাঁর কথা বলতে গেলে বলাই বাহুল্য যে রাস্তার ধারে অসাধারণ সব খাবারের দোকান ও মোমোর স্টল থেকে শুরু করে উত্কৃষ্ট মানের আলো-ঝলমলে পাঁচ-তারা রেস্তোরাঁ সবই কলকাতায় রয়েছে প্রভূত পরিমানে।এই প্রবন্ধটিতে কলকাতার কিছু দুর্দান্ত থীম রেস্তোরাঁর কথা আলোচনা করা হয়েছে, যেগুলি গত এক বছর ধরে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঠিক পুজোর আগে এই তালিকা সমস্ত খাদ্যরসিকের কাছেই বরদান হয়ে উঠতে পারেঃ

১. ইতিহাসের পথে পা রাখুন ঔধ ১৯৫০ -এ পদার্পণ করে

এটির চমত্কার বসার ব্যবস্থা, অভিজাত সাজসজ্জা, এবং দারুন রাজকীয় বিস্তার আপনাকে অবশ্যই “এক দিনের রাজা” হওয়ার অনুভূতি দেবে। নেপথ্যে ঠুমরির সুর এক উপরন্তু পাওনা। দেশপ্রিয় পার্ক ও সল্ট-লেকে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটিতে পুজোর মধ্যে অন্তত একবার আহার করা কিন্ত অবশ্যকরণীয়!

ওখানে গেলে কিন্ত ওদের ‘নিহারি খাস’টি চেখে দেখতে ভুলবেন না। আমি বাজি ধরতে পারি আপনি অভিভূত হবেনই!

২. কলকাতার একটি গুপ্ত রত্ন আবিষ্কার করুন ‘সান্তার ফান্তাসিয়া’ এ

সম্ভবত এটি কলকাতার একমাত্র রেস্তোরাঁ যেখানে ভারতীয় উপজাতীয় খাবার ও বহুমূল্য সামুদ্রিক খাবার একই সাথে পাওয়া যায়।আপনার খাদ্যরসিক সত্ত্বাটিকে উন্মুক্ত করে দিন তাকে সান্তার ফান্তাসিয়ার অসাধারণ সমস্ত খাবারের আস্বাদ নিতে দিয়ে। গোলপার্কের ধারে বালিগঞ্জের টেরেস রোডে গোঁজা এই রেস্তোরাঁর সুস্বাদু খাবার আর ততটাই মনোহর উপজাতীয় বেষ্টনী আপনাকে আয়েশ করে আহার করার সুযোগ করে দেয়। এখানের আমাদের প্রিয়তম খাদ্যটি হল বাঁশ পোড়া মটন বা চিকেন।

৩. দেসী ড্রাগ এর কায়দায় হুঁকো টানুন

গ্রাম্য হুঁকো টানার মজাটাই বা কোথায় যদি না তা হয় অসাধারণ সব গন্ধ ও এক অতি শহুরে বিন্যাসে! অন্য রকম ভাবুন, অন্য রকম হন এবং প্রচন্ড আনন্দ করুন দেসী ড্রাগ এ এসে!

৪. রাজকীয় ট্রেনের রাজকীয় পরিবেশন ও আয়োজন উপভোগ করুন ‘অন ট্র্যাক’ এ

এটির বেষ্টনী আপনাকে কোনো রাজকীয় ট্রেন-এ অথবা কোনো দর্শনীয় অথচ ঐতিহ্যশালী স্টেশন-এ বসে এক আড়ম্বরপূর্ণ ভোজনের অনুভূতি দেবে। অন ট্র্যাক সত্যি এক নিপূন প্রতিভার পরিকল্পনা! যদি আপনি এখনো ‘জব বী মেট’ এর মায়া না কাটিয়ে উঠতে পেরে থাকেন এবং একটি রাজকীয় ট্রেনের আভাস পেতে চান (হোক না তা নকল) তাহলে অবশ্যই আপনার অন ট্র্যাক এ আসা উচিত।

৫. ফারাও-এর আড়ম্বরের আভাস পান “ব্লু নাইল এ এসে

ব্লু নাইল এ পদার্পণ করে ফারাও ও ক্লিওপেট্রার যুগে দ্বীপান্তরিত হন। সিটি সেন্টার ২ এ অবস্থিত এই রেস্তোরাঁ, বলাই বাহুল্য আপনাকে চীনে ও উত্তর-ভারতীয় খাবারের পাশাপাশি মধ্য-প্রাচ্য ও ভূমধ্যের সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

এখানকার লাসাগ্না একবার চেখে দেখলে তা আপনাকে আরো খাওয়ার জন্য উদগ্রীব করে তুলবে।

৬. ছোটবেলার আমেজ অনুভব করতে ডিজ্নিলৈন্ড কিংবা অন্য কোনো পোশাকি জায়গায়
যাওয়ার প্রয়োজন নেই

Mrs Magpie আপনার জন্য নিয়ে এসেছে একটি সুন্দর ছোট্ট ক্যাফে তথা বেকারি যা আপনার ছেলেবেলার বর্ণে তৈরী। তাদের খাবারের চমত্কার সাজসজ্জায় এক অপূর্ব মাত্রা এনে দিতে তারা উপস্থিত করেছে এক-গুচ্ছ অভিনব ও মিষ্টি দেখতে কাপকেক, যার থেকে আপনি আপনার পছন্দেরটা বেছে নিতে পারেন।

telegraphindia


৭. একটি আফঘান কুটিরে নিজের প্রিয়জনের সাথে কিছুটা রোমান্টিক বী টাইম কাটালে কেমন হয়?

এবং তার সাথে যদি পাওয়া যায় অনন্যসুলভ সব খাবার তবে তা তো আপনার জন্য কাফিলা! এখানে একবার এলে অবশ্যই চেখে দেখবেন এদের জিভে জল আনা লাবাব্দার তন্দুরি কাবাব, যদি আপনি জানতে চান খাবার আপনাকে কতটা প্রলুব্ধ করতে পারে!

৮. জ্যাক স্প্যারোর ভঙ্গিতে ভোজন করুন পাইরেট্স ডেক-এ এসে

এই অসাধারণ হুঁকো জয়েন্ট তথা ক্যাফেটিতে এমন সব কিছু আছে যা যুব সম্প্রদায়কে আপ্লুত করবে! জলদস্যুদের জাহাজের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে, মুখরোচক জলখাবার, এমনকি খেলা দেখার জায়গা, কি নেই এখানে! পাইরেট্স ডেক সত্যিই এই শহরের নবতম সম্পদগুলির মধ্যে একটি!

৯. নিজের সপ্তম স্বর্গের পথে উড়ান নিন ফ্লাই কোজিনা এ এসে

ইউরোপ ও চীন থেকে রাজকীয় উত্তর ভারত, এই উড়ান আপনাকে খাদ্যের দুনিয়ায় আপনার জীবনের এক অবিস্মরনীয় যাত্রার অনুভূতি দেবে। কাজেই সিট বেল্ট বাঁধুন আর বেরিয়ে পড়ুন!

১০. ভেবে দেখুন তো আসল কয়েদীরা এত ভালো সুস্বাদু খাবার খাওয়ার সুযোগ পায় কিনা

যা আপনার সামনে উপস্থাপন করে কৈদী কিচেন (কয়েদীর রান্নাঘর), নিঃসন্দেহে এটি কলকাতার শ্রেষ্ঠ থীম রেস্তোরাঁগুলির মধ্যে একটি! এটি শ্রেষ্ঠ এর খাবারের গুণমানের জন্য এবং এর বৈচিত্রের জন্য! তাছাড়া সব জায়গায় তো আর আপনাকে শ্রীঘরে পুরে জিভে-জল-আনা ভুরিভোজ খাওয়ানো হবে না!

১১. উত্তম-সুচিত্রার জুটির মহিমা আবারও অনুভব করুন সপ্তপদীর বাঙালি খাবারের সাথে।

এই দারুন রেস্তোরাঁটির নামকরনের উত্স খুঁজে বার করা কোনো কঠিন কাজ না! বাংলা সিনেমার অবিস্মরনীয় জুটি উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন এর সাফল্যকে উদযাপন করুন এই রেস্তোরাঁর সুলভ এবং সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নিয়ে।

১২. জঙ্গলের রাজার মতো জীবন উপভোগ করুন (এবং খান) মাচান এ এসে

কখনো ভেবে দেখেছেন একটি মাচানে বসে অন্ধকার ও বিপদসঙ্কুল জঙ্গল দেখতে-দেখতে আহার করাটা কতটা রোমাঞ্চকর? অবশ্য ওই ভয়াবহতাটা বাদ দিয়ে জঙ্গলের সমস্ত রাজকীয়তাই আপনি পাবেন মাচান এ। মানি স্কয়ার মল ও অভনি রিভারসাইড মল-এ অবস্থিত এই রেস্তোরাঁ আপনার জন্য নিয়ে এসেছে দারুন সব উত্তর ভারতীয় খাবার। কাজেই খান আর আনন্দের সাথে সময় কাটান মাচান এ!

১৩. নিজের ইন্দ্রিয়গুলিকে শান্তি প্রদান করুন ও আত্মাকে পুনর্জীবিত করুন দ ফিফ্থ এলিমেন্ট এ এসে

এদের বৈশিষ্ট হলো চারটি পৃথক সজ্জা-সমৃদ্ধ চারটি বিভিন্ন ঘর– বায়ু, জল, অগ্নি ও পৃথিবী! এই অভিজাত রেস্তোরাঁ এর পৈন-এশিযন খাদ্য পরিবেশন করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কলকাতার প্রিয় হয়ে উঠেছে!

Popular on the Web

Discussions



  • Viral Stories

TY News