১৪টি এমন লক্ষণ যা প্রমান করে তুমি আনন্দের শহর কলকাতাকে ভালোবাসো

author image
3:13 pm 18 May, 2016


কলকাতা বাকি ভারতের সমসাময়িক প্রগতিশীল শহরের থেকে অনেকটাই আলাদা, তবু এর একটা সহজাত আকর্ষণ আছে যা মানুষের মনে ছাপ রেখেই দেয়।

যদি তুমি এ শহরের কোনো অংশেও ঘুরে থাক, তার স্মৃতি কখনই তুমি মন থেকে মুছতে পারবেনা। নীচে এমনই কিছু লক্ষণের কথা দেওয়া হল যা এই শহরের প্রতি তোমার ভালবাসা দেখায়।

১. প্রিন্সেপ ঘাট, আউটরাম ঘাট অবধি বোটিং, আর পাও ভাজি- এই ভাবেই তো এই শহরের সাথে বন্ধুত্বের শুরু হয়।

তোমার যদি সব বন্ধুদের সাথে একত্রে মিলিত হয়ে অসামান্য সময় কাটাতে হয় তবে প্রিন্সেপ ঘাটের আশেপাশে ঘর উচিত, আউটরাম ঘাট নৌকাবিহার করা উচিত, আর অবশ্যই ওখানকার পাও ভাজি খাওয়া উচিত।

২. রাস্তার ধারের অস্থায়ী দোকান থেকে বেশ খানিক দর- দাম করে জিনিস না কিনলে তোমার বাজার করাই অসম্পূর্ণ।

সে তুমি যতই মাইকেল করের ব্যাগ, গুশির ব্যালেরিনা আর দীয়র এর ছোট জামা ভালোবাসো, যদি তুমি মনে প্রাণে কলকাতাবাসী হও তবে হগ মার্কেট বা নিউ মার্কেট এ দরদাম করে বাজার একদিন তোমায় করতেই হবে।

৩. কলকাতা চলচ্চিত্র উত্সব তোমার মনে আলাদাই জায়গা করে নেবে।

সে তুমি যতই বলিউডের মশলা দেওয়া সিনেমা ভালোবাসো, কলকাতা চলচ্চিত্র উত্সব বা সিনে সেন্ট্রাল চলচ্চিত্র উত্সব তুমি কখনই মিস করবেনা।

৪. আমরা এখনও ঘটি বাঙাল কুল নিয়ে স্পর্শকাতর।

আমরা পুরনো স্মৃতি রসিক। দেশভাগ অনেক আগের ঘটনা হলেও আমরা এখনও আমাদের ঘটি আর বাঙাল কুল নিয়ে গর্বিত। তুমি লকি জান আমরা এর ওপর নির্ভর করে আমাদের পছন্দের ফুটবল দল ও প্রিয় মাছের সিদ্ধান্ত নিযে থাকি।

৫. কফি হাউস এখনও বুদ্ধিজীবী আড্ডার সেরা জায়গা।

সে যতই সারা শহর জুড়ে কাফে কফি দে, বারিস্তা, আইরিশ হাউস বা স্মোক হাউস দেলি খুলুক না কেন- কফি হাউসের আড্ডাকে কেউ মাত দিতে পারেনি। সে খাবার সেরকম উচ্চমানের না হলেও।

৬. মিষ্টি দই। যে বলে এটি মাত্রাতিরিক্ত প্রশংসিত সেই শত্রু।

আমরা আমাদের মিষ্টি নিয়ে খুবই গর্বিত। সে তুমি যতই আমাদের সামনে চকলেট বা কাপকেক রাখোনা কেন আমাদের কিন্তু গিরিশ চন্দ্র দেয় নকুর চন্দ্র নন্দীর চকলেট মিষ্টি আর মিষ্টি দই ই চাই। আর কেউ যদি একে মাত্রাতিরিক্ত প্রশংসিত বলে তাকে মেরে ফেলতেই পার।

৭. আমরা বিশ্বের বৃহত্তর মাছপ্রেমী।

সে যত বড় আর দামী রেস্তোরাই হোক না কেন, মাছ ছাড়া খাওয়া অসম্পূর্ণ।


৮. এই সত্যিটা মানতেই হবে, তোমার যেকোনো মানসিক স্থিতির জন্য একজন রবীন্দ্রনাথ আছেন।

৯. তোমার পুরনো বাড়ি, স্মৃতি সৌধের প্রতি অগাধ ভালবাসা আছে।

দামী এলাকা, উচু ফ্ল্যাট, নিবির কলনী বা শহরতলি তুমি যেখানেই থাকনা কেন, তোমার পুরনো বাড়ি, স্মৃতি সৌধের প্রতি অগাধ ভালবাসা আছে।

১০. রং, সংস্কৃতি, রবীন্দ্র সদন বা একাডেমি অফ ফাইন আর্টস – তোমার শীতকালীন ভালবাসা।

শীতে রবীন্দ্র সদন বা একাডেমি অফ ফাইন আর্টস হল সবথেকে জনবহুল জায়গা। সারা শীতকাল জুড়ে চলতে থাকা এখানকার রঙ্গিন সংস্কৃতিক উত্সব কলকাতাবাসীর কাছে সেরা উপহার। তুমি নিশ্চই জান।

১১. সারা বছর সে আমরা জাতি নির্জনে থাকিনা কেন, দূর্গাপূজার ভিরকে আমরা পরোয়া করিনা।

তুমি ভিড় অপছন্দ কারো। ঠিকাছে। কিন্তু দূর্গাপুজোতে পছন্দের প্যান্ডেলের সামনে লম্বা লাইনে দাড়াতে বা বিসর্জনে অসংখ্য লোকের সামনে নাচতে কিছুই মনে হয়না।

১২. রাস্তার কুকুর বিড়ালের ওপর পাশবিক নির্জাতান দেখলে তুমি হরতাল করতে পারো।

১৩. এখানকার বেশিরভাগ লোক পড়াশোনা নিয়ে থাকতে বেশি ভালবাসে। উচ্চশিক্ষা লাভ এদের শখ।

সে যতই দেগ্রীধারী হোক না কেন আরও বেশি কিছু ডিগ্রী তার চাই ই চাই। হা খারাপ লাগলেও তা সত্যি।

১৪. কলকাতার স্ট্রিট খাবার আর ফুচকা খেতে আমরা পৃথিবীর যেকোনো কনা থেকে ফিরে আসতে পারি।

তুমি পরোটা গলি বা জুহু বিচে ঘুরতে পার কিন্তু ডেকার্স লেন থেকে ভালো জায়গা আর কলকাতার কাটি রোলের থেকে ভালো রোল আর রাস্তার ধারের ফুচকা কথাও পাবেনা।

Discussions



TY News