এই ব্যাক্তির ব্যাটিং নকল করতেন শচীন টেন্ডুলকার, আজ তিনি থাকেন একটি ছোট চলে

author image
4:05 pm 27 Oct, 2016

এই জীবনের খেলাও আস্চর্যধরনের কখন কার ভাগ্য পাল্টে যাবে কেউ বলতে পারে না। কেউ অনেক উচুতে পৌছে যায় আবার কেউ সেই এক জায়গায় থেকে যায়। ক্রিকেটের জগতে্ শচীন টেন্ডুলকার এমন একটি নাম,যিনি মাত্র 16 বছর বয়সে নিজের ক্রিকেটের যাত্রা শুরু করেছিলেন। এখন শচীন যে জায়গায় আছেন সেখানে পৌছানোর জন্য তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এছাড়াও এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিশেষ অবদান রয়েছে।

শচীন টেন্ডুলকারকে বিশ্ববিখ্যাত ক্রিকেটার তৈরি করার পেছনে তার বড় ভাই অজিত অহোরাত্রের যথেষ্ঠ অবদান রয়েছে।

 

শচীন যখন ক্রিকেটের অনুশীলন করতেন তখন তার ভাই একজন কোচের ভূমিকায় থাকতেন। শচীনের অনুশীলনে সমস্ত সময় দেওয়ার জন্য তিনি সারাজীবন অবিবাহিত ছিলেন।

ক্রিকেটের দ্রোণাচার্য রমাকান্ত আচরেকর ছিলেন শচীন টেন্ডুলকারের কোচ। রমাকান্ত শচীনকে ক্রিকেটের সমস্তরকম তারতম্য শিখিয়েছিলেনব এবং তাকে এই খেলার মাস্টার তৈরি করেছেন।

 

কিন্তু এমন একজনও ছিলেন যার ব্যাটিং দেখে শচীন তারই মতো শট লাগানোর চেষ্টা করতেন। মুম্বাই দাদরে অবস্হিত সারদাশ্রম স্কুল থেকে বেরোনোর পর শচীন তার শৈশবের বন্ধু বিনোদ কাম্বলির সাথে শিবাজি পার্কের মাঠে ক্রিকেটের অনুশীলন করতে যেতেন।


আচরেকর পর্যবেক্ষণ অনুশীলন করার সময়,মাঠে অবস্হিত একজন খেলোয়াড়কে দেখে তার মতো ব্যাটিং করার চেষ্টা করতেন। এই খেলোয়াড়ের নাম হলো অনিল গুরভ। অনিল গুরভ এমন একজন খেলোয়াড় যার ব্যাটিং টেকনিকের অনুরাগী ছিলেন স্বয়ং শচিনের গুরু রমাকান্ত আচরেকর।

রমাকান্ত আচরেকর একবার বলেছিলেন যে শচিন অনিল গুরভের ব্যাটিং টেকনিক নকল করার চেষ্টা করে।

এই সময় মুম্বাইয়ের ভিভ রিচার্ডস নামে পরিচিত অনিল গুরভ অনূর্ধ্ব -19 র জন্য খেলতেন। অনিলের সম্বন্ধে তার কোচ এবং বন্ধুরা বলতেন একদিন এই ছেলে নিশ্চই ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবে।

একবার শচিন অনিল গুরভের ব্যাট নিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শচীন লাজুক প্রকৃতির হওযায় তার এই ইচ্ছার কথা বলতে পারেননি। একদিন ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে স্কোরলেখক রমেশ পরব শচীনের এই ইচ্ছার কথা অনিল গুরভকে বলেন। তখন অনিল শচীনের কাছে গিয়ে বলেন শচীন যদি পরের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে তাহলে তার ব্যাট শচীনকে দিয়ে দেবেন। এরপর শচীন পরের খেলায় 118 রান করেন এবং ঐ ব্যাট পেয়ে যান এখনও তার কাছে ব্যাটটি রয়েছে।

কিন্তু ভাগ্যের খেলা,এই খেলোয়াড়ের প্রতি সবার আশা ছিল যে সে একদিন ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা হবে কিন্তু সেই খেলোয়াড় আজ এক ছোট ঘরে থেকে নিজের জীবন কাটাচ্ছেন।

যেমন শচীনের প্রথম গুরু তার ভাই অজিত ছিলেন। তেমনই অনিলেরও বড় ভাই ছিল তারও নাম ছিল অজিত গুরভ। কিন্তু এই অজিত নিজের ছোট ভাই অনিল গুরভের ক্রিকেট জীবন শেষ করে। অনিলের ভাই অজিতের সম্পর্ক ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে। প্রতিদিন চুরি, ব্যাংক ডাকাতি ও হত্যাকান্ডের সাথে তার নাম জড়িত থাকার খবর পাওযা যেত। প্রায়ই অনিল এবং তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হতো।

এমনকি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলিতেও পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবদ করতে ডাকতো। প্রতিদিনকার এই অপমানে অনিল একেবারে ভেঙ্গে গিয়েছিলেন। তিনি এতটাই ভেঙ্গে পড়েছিলেন যে কথনও এই বিষয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি।। মদের অভ্যাস তাকে পুরোপুরি ঘিরে ফেলেছিল। হাতে ব্যাটের বদলে চলে এসেছিল মদের বোতল।

ক্রিকেটে নাম করার পর শচীন অনিলের সাথে দেখা করেছিলেন।

অনিলের সাথে শচীনের শেষ দেখা হয়েছিল 1990 এর গোড়ার দিকে ইসলাম জিমখানা ক্লাবে। চারদিক দিয়ে রক্ষিবাহিনী দিয়ে ঘিরে থাকার পরও এক কোণে দাড়িয়ে থাকা অনিলকে দেখে চিনতে পারেন শচীন। অনিলের সাথে দেখা করেন তাঁর বাড়িতে অনিলকে আমন্ত্রণও জানান। কিন্তু অনিল সেখানে যাননি। কখনও শচীনের সাথে দেখা করারও চেষ্টা করেননি।

যেখানে শচীন টেন্ডুলকার ক্রিকেট জগতের তারকা হলেন। সেখানে অনিল বহু পেছনে রয়ে গেলেন। আজ অনিল, মুম্বাই এর নালাসোপারাতে অবস্হিত একটি চলের 10 × 15 ফুটের একটি ছোট রুমে থাকেন।

Discussions



TY News