কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করবার ৬টি কারণ

7:06 pm 5 Jul, 2016


প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি (আগে এটি প্রেসিডেন্সি কলেজ নামে পরিচিত ছিল) ভারতের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রথমে এর নাম ছিল ‘হিন্দু কলেজ’। পরে নাম পাল্টে যায়। এটি ভারত তথা এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন কলেজ যেখানে একমাত্র সেরা ছাত্র–ছাত্রীরাই পড়াশোনার সুযোগ পায়। এই কলেজের প্রাক্তনীরা দেশের গর্ব। অধ্যাপকেরা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।

যদি আপনি কলকাতায় পড়াশোনা করতে চান তবে কয়েকটি কারণে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির ব্যাপারে চিন্তা–ভাবনা করতে পারেনঃ

1. দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে পশ্চিমী শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ১৮১৭ সালে প্রতিষ্ঠার সময় এর নাম ছিল ‘হিন্দু কলেজ’।

হিন্দু কলেজের এই অংশটি পরিচিত ছিল ‘মহাপাঠশালা’ নামে। ইউনিভার্সিটির হওয়ার আগে ১৮৫৫ সালে এর নাম হয় প্রেসিডেন্সি কলেজ। ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি বিল পাশ হয়। এর পর থেকে প্রেসিডেন্সি কলেজ স্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়।

2. এই কলেজ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী ছিলেন বিশিষ্ট বাঙালিরা

প্রেসিডেন্সি প্রাথমিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলার নবজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া প্রখ্যাত বাঙালি রাজা রামমোহন রায়ের উদ্যোগে।

এই কলেজ প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে ছিলেন রাজা রাধাকান্ত দেব, বর্ধমানের মহারাজা তেজেন্দ্র রায়, ডেভিড হেয়ার, জাস্টিস স্যার এডওয়ার্ড হাইড ইস্ট, বাবু বুধিনাথ মুখার্জি এবং প্রশান্ত কুমার ঠাকুরের মতো জ্ঞানী–গুণী মানুষেরা। কলেজ ভবন তৈরি হয়েছে কঠোর পরিশ্রমে ও অনেকের আন্তরিক চেষ্টায়।

3. হেনরি লুইস ভিভিয়ান ডিরোজিও এখানকার অধ্যাপক ছিলেন

ডিরোজিওর লেখা কবিতা আপনি অবশ্যই পড়েছেন। খুব অল্প বয়সেই ডিরোজিও প্রেসিডেন্সিতে ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। সেই সময় হিন্দুরা ইংরেজি ভাষা শেখার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ছিল। এবং ডিরোজিও এই বিদেশি ভাষাটি শেখানোর ব্যাপারে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

কম বয়সে হঠাতই তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু এই কলেজের পেছনে তাঁর অবদানের কারণে আজও প্রেসিডেন্সির পড়ুয়াদের স্মৃতিতে তিনি অমর। প্রেসিডেন্সি কলেজে তাঁর নামে একটি অডিটোরিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে। তাঁর স্মৃতিতে ডিরোজিও মেমোরিয়াল বক্তৃতা নামে কলেজে একটি বার্ষিক বক্তৃতারও আয়োজন করা হয়।


4. এখানে অনেক গ্র্যাজুয়েট ও আন্ডার–গ্র্যাজুয়েট কোর্স রয়েছে

প্রেসিডেন্সি কলেজের অনেক আন্ডার–গ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সের মধ্যে থেকে পড়ুয়ারা পছন্দের বিষয়টি বেছে নিতে পারেন। অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় এখানে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার স্থান অনেক ওপরে।

এমনকী যদি আপনি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্য কলেজ থেকে স্নাতক হন তবুও এই কলেজে স্নাতোকোত্তর পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। সমস্ত ছাত্র–ছাত্রীদের জন্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা সবসময় খোলা।

5. বিখ্যাত প্রাক্তনীরা

প্রেসিডেন্সির বিখ্যাত প্রাক্তনীদের তালিকা বিশাল লম্বা। সারা পৃথিবী জুড়ে তাঁরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের পন্ডিত মানুষেরা লেখাপড়া করেছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন শিক্ষাবিদ, চলচ্চিত্র ব্যাক্তিত্ব, স্বাধীনতা সংগ্রামী, লেখক এবং সাংবাদিক।

এখানে কয়েকজনের নাম দেওয়া হলঃ সত্যজিত রায়, স্বামী বিবেকানন্দ, অমর্ত্য সেন, অপর্ণা সেন (চলচ্চিত্র পরিচালক), আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস (বিজ্ঞানী), সত্যেন্দ্রনাথ বোস (বিজ্ঞানী), বঙ্কিমচন্দ্র চ্যাটার্জি (বাংলা সাহিত্যিক), সুকুমার রায় (সত্যজিত রায়ের বাবা), জীবনানন্দ দাস (বাঙালি কবি), মাইকেল মধুসূদন দত্ত (বাঙালি সনেট লেখক), প্রীতীশ নন্দী (বিখ্যাক সাংবাদিক), নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস এবং ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ (স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি)।

6. পাঠক্রমের বাইরের কাজ

খেলাধূলা থেকে বিতর্ক থেকে সেমিনার — কোনও কিছুতেই পিছিয়ে নেই প্রেসিডেন্সি। এটা পড়াশোনা ছাড়া আপনার অন্যান্য দক্ষতাকেও প্রসারিত করে। বছরে একবার খেলাধূলার অনুষ্ঠান হয়। ফিস্ট এবং বিতর্ক সভার বন্দোবস্ত করে স্টুডেন্ট ইউনিয়ান। জাতীয় তো বটেই আন্তর্জাতিক স্তরেও সেমিনার–এর আয়োজন করা হয়।

বিশিষ্ট অধ্যাপকেরা সেখানে যোগ দেন। আর বিতর্কসভা তো প্রেসিডেন্সির অবিচ্ছেদ্য অংশ। যা আপনার কন্ঠ ও যুক্তি–সহ কথা বলার দক্ষতা বহুগুণ বাড়াতে সাহায্য করে। এখানে কখনই আপনি উদাসী বা বিষাদ বোধ করবেন না। কোনও না কোনও কিছু সবসময়েই আপনাকে ব্যস্ত রাখবে।

Discussions





TY News