৮টি কারণ যার জন্য কলকাতায় কখনই ট্রাম নিষিদ্ধ করা উচিত নয়

author image
1:48 pm 20 May, 2016


যুগ-যুগ ধরে কলকাতার শনাক্তকরণে ট্রাম একটি অপরিহার্য অংশ নিয়েছে। এটি হল এশিয়ার প্রাচীনতম যাণ এবং এই শহরে এখনও চলমান, বহুদিন ধরেই যা শহরের বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এমনকি আমরা এই যানটিকে ঐতিহাসিক সম্পদ হিসেবে না দেখলেও এটি এখনো কলকাতাবাসীদের কাছে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম গুলির মধ্যে একটি। যাইহোক কলকাতার এই ট্রাম উচ্ছেদ নিয়ে চারপাশে অনেক কথাই উঠছে। তাই আমরা এর বিপক্ষে যুক্তিগ্রাহ্য কিছু কারণ দর্শাব। কারণগুলো হলঃ

১. ঐতিহাসিক কারণ

আমরা কলকাতার অতীত নিয়ে গর্ব করতে ভালবাসি। আমিও আপনাদের সাথে একমত। আপনিও জেনে খুশি হবেন যে কলকাতার ট্রাম হল এশিয়ার প্রাচীনতম অপারেটিং ইলেকটনিক ট্রাম নেটওয়ার্ক। সুতরাং অতীতের এই যানটিকে সংরক্ষনের জন্য, এই যান যাতে বাতিল না হয় সেদিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরী।

২. প্রশস্ত ও অনাবদ্ধ পরিবেশ

যেসব কলকাতাবাসী নিয়মিত রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত যানবাহন ব্যাবহার করেন তাদের ট্রাম সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। কলকাতার রাস্তায় যেসব অটো, মিনিবাস, বাস চলাচল করে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় জানলা ও খোলা দরজা রযেছে ট্রামের, যা বায়ু চলাচলের পক্ষে সবচেয়ে উপযুক্ত। গ্রীষ্মের দিনগুলির আদ্রতা যখন কলকাতাবাসীর নিকট ভয়ংকর শত্রু স্বরুপ হয়ে ওঠে তখন ট্রামের এই প্রশস্ত ও অনাবদ্ধ পরিবেশ তাদেরকে আরাম প্রদান করে।

৩. বাসের তুলনায় অধিক সংখ্যক আসন

কখনো-কখনো আমরা এই ঐতিহ্যবাহী সম্পদটিকে নিয়ে হাস্যকৌতুক করে থাকি এই সত্য সম্পর্কে অবগত না হয়েই যে, এই পরিবহনে ৬০ জন যাত্রী ভালভাবে আরামের সঙ্গে (সংখ্যাটি 70 ও হতে পারে যদি আপনি আরাম শব্দটা বাদ দেন) বসে যেতে পারে এবং ২০০ জনের কাছাকাছি যাত্রী পরিবহন করতে পারে (দারানো যাত্রীসহ)। সংখ্যাটা বাসের বহনকারী যাত্রী সংখ্যা অপেক্ষা অনেক বেশি।

৪. ভ্রমণে পরিবেশ সহায়ক

যখন কলকাতায় সি.এন.জি বাসগুলো অধরা স্বপ্ন তখন ট্রাম সর্বশ্রেষ্ঠ ও উৎকৃষ্ট পরিবেশ সহায়ক পরিবহন হিসেবে বিদ্যমান। হ্যাঁ আপনি এই বিষয়ে অটোর উদাহরন দিতে পারেন কিন্তু সেগুল শুধুমাত্র কোন স্থায়ী ঠিকানাতেই পৌঁছে দেয়, এবং শহরের প্রধান কেন্দ্রে অটো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং সেক্ষেত্রে অটোর বিকল্প হিসেবে বাকি থাকল ট্রাম। তাই পরিবেশ সুরক্ষার কথা ভাবলে ট্রাম বন্ধ না করাই উচিত।


৫. সহজলভ্য নিকটবর্তিতা

লাভহীন সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব ট্রামকে বাস ও মিনিবাসের থেকে আলাদা করে তুলেছে কারণ এটা যাত্রীদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়ার স্বার্থে শহরের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথ গ্রহন করে। হ্যাঁ, এই অভিযোগ আপনারা করতেই পারেন যে ট্রাম ধীরগতি সম্পন্ন কিন্তু এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ট্রাম অসংখ্য সোজা রাস্তা অবলম্বন করে আপনাদেরই সময় বাঁচানোর জন্য!

৬. নারকীয় যানজট তৈরি করেনা

ট্রাম পরিবহন যানজট তৈরি করে এই ভ্রান্ত ধারনা আপনাদের অনেকের (বাসযাত্রী) মনেই আছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ এই যে এই সঠিক ধারনা সম্পর্কে আপনাদের অবগত হওয়া উচিত যে ট্রাম চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট গমন পথ রয়েছে। কিন্তু সর্বদাই জনযান ও ব্যাক্তিগত যানগুলোই একে অপরকে অতিক্রম করার চেষ্টায় লিপ্ত হওয়ার দরুন নিজ গতি লঙ্ঘন করে ও ট্রামের স্বাভাবিক গতি রুদ্ধ করে।

৭. সস্তায় ভ্রমণ

কলকাতায় প্রচলিত যানবাহনগুলির মধ্যে সবচেয়ে সস্তা ও সুলভ যান ট্রাম। নির্দিষ্ট ও বেশি দুরত্বের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণীর জন্য ৫ টাকা ও দ্বিতীয় শ্রেণীর জন্য ৪.৫০ টাকা নির্ধারিত যাতে সমস্ত শ্রেণীর মানুষেরা ট্রামে ভ্রমণ করতে সক্ষম হন। যদিও দূরত্বের সাথে সামঞ্জস্য রেখে টিকিটের মুল্য সেই অর্থে বৃদ্ধি পায়না। এমনকি ট্রাম হল উত্তর ও মধ্য কলকাতার নিকটবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের যোগাযগের এক অন্যতম উপায়। আর হ্যাঁ, ট্রাম কন্ডাক্টররা খুচরো পয়সা দিতে হাঙ্গামা তৈরী করেনা, কলকাতাবাসীরা প্রতিদিন অন্যান্য পরিবহনে যে সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে!

৮. মনোরম ভ্রমণ

কলকাতার ময়দানে ট্রামে চড়ে বেড়ানোর মত মনোরম অভিজ্ঞতা আর কোনকিছুতেই নেই। এর শ্রেষ্ঠত্ব এই যে (এটি আপনাকে সবুজ সিক্ত তৃণভূমিতে বিচরণের অনুভুতি দান করে যেখানে কোন গগনচুম্বী অট্টালিকার কঠোরতা আপনার সান্নিধ্যে আস্তে পারবেনা) কুয়াশাছহন্ন শীতের সকাল ও বৃষ্টি মুখর দিনগুলিকে আরও উপভোগ্য করে তোলে, যা পরম স্বর্গসুখের ন্যায়।

Popular on the Web

Discussions