প্রেসিডেন্সি কলেজের বিশ্বখ্যাত ১০ প্রাক্তনী

4:18 pm 30 Jun, 2016


এখন প্রেসিডেন্সি কলেজ হয়েছে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়। ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন কলেজ এটি। স্থাপিত হয় ১৮১৭ সালে। অবশ্য সেইসময় তার নাম ছিল হিন্দু কলেজ।

দেশের অন্যতম নামজাদা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু যত্নে লালিত – পালিত হয়েছে অনেক মহান নারী – পুরুষের মেধা, মনন। যাঁদের অনেকেই পরবর্তীকালে ছাপ রেখে গেছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে। বিজ্ঞানী থেকে অর্থনীতিবিদ, আবার চলচ্চিত্র পরিচালক থেকে নোবেল প্রাপক। সমস্ত ক্ষেত্রে অবাধ বিচরণ এই কলেজের প্রাক্তনীদের। আজও সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন।

আপনি চিনতে পারেন, এমন ১০ জন বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি – প্রাক্তনীদের একটি তালিকা এখানে দেওয়া হলঃ

1. প্রীতম চক্রবর্তী

এই সময়ে বলিউডের অন্যতম সেরা সঙ্গীত পরিচালক প্রীতমের আলাদা পরিচয় দেবার কিছু নেই। কলকাতায় জন্ম, প্রীতম প্রেসিডেন্সির প্রাক্তন ছাত্র। ওইসময় তিনি ‘চন্দ্রবিন্দু’ ও ‘মেট্রো’ নামে দুটি ব্যান্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ‘ধুম’ সিনেমার থিম সং ‘ধুম মচালে’ তাঁকে প্রথম প্রচারের আলোয় নিয়ে আসে। এছাড়াও বলিউডের বহু সিনেমায় সুরকার হিসেবে কাজ করে চলেছেন তিনি।

2. অশোক কুমার

আসল নাম কুমুদলাল কাঞ্জিলাল গাঙ্গুলি। বাঙালিদের ভালোবাসার ডাক ‘দাদামণি’। সেই সময়ের বলিউডে তিনিই এক ও অদ্বিতীয়। অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন। আবার ‘চলতি কা নাম গাড়ি’ সিনেমায় অশোক কুমারের সহ অভিনেতা ছিলেন তাঁর দুই ভাই কিশোর কুমার ও অনুপ কুমার। একটি সিনেমায় একসঙ্গে তিন ভাইয়ের অভিনয় করা বোধহয় বিরল।

১৯৮৮ সালে তিনি ‘দাদা সাহেব ফালকে’ পুরস্কার পান। ঠিক পরের বছরেই ১৯৮৯ সালে ভারত সরকারের তরফে তিনি ‘পদ্মভূষণ’ – এ ভূষিত হন। এই বিখ্যাত মানুষটির পড়াশোনাও প্রেসিডেন্সি কলেজেই।

3. অপর্ণা সেন

অপর্ণা সেন পরিচালক, তবে তার থেকেও বেশি দাপুটে অভিনেত্রী। আঞ্চলিক ছবি বিশেষ করে বাংলা সিনেমাতেই তাঁকে দেখা গেছে বেশি। তবে বলিউডের সিনেমাতেও তিনি সমান সাবলীল। যে সব সিনেমা পরিচালনা করেছেন সেখানেও রয়েছে মুন্সিয়ানার ছাপ। মনে আছে ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার’ সিনেমাটি? জিতে নিয়েছিল বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

ভারতীয় সিনেমা সমালোচকেরাও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন এই পরিচালককে। এহেন বিদূষী অপর্ণা সেন প্রেসিডেন্সি কলেজেই ইংরেজি অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন।

4. সত্যেন্দ্র নাথ বোস

রয়্যাল সোসাইটি – র (এফআরএস) সদস্য সত্যেন্দ্র নাথ বোস একজন পদার্থবিজ্ঞানী। পদার্থবিজ্ঞানে তাঁর বিষয় ছিল কোয়ান্টাম মেকানিকস ও ম্যাথামেটিক্যাল ফিজিক্স। বোস – আইনস্টাইন তত্ত্বে তাঁর উদ্ভাবনী ক্ষমতার পরিচয় আমরা পেয়েছি। এরপর থেকে বোস – আইনস্টাইন পরিসংখ্যান খ্যাতি পেয়েছে। এই মহান বিজ্ঞানীর পড়াশোনা প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপক আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর অধীনে ইন্টারমিডিয়েটে সায়েন্স নিয়ে।

5. জীবনানন্দ দাস

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর জীবনানন্দ দাসকেই বাংলার সেরা কবি হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। ক্লিল্টন ই শেলি – র কবিতার অনুবাদ তাঁকে বাংলার অন্যতম আধুনিক কবির মর্যাদা দেয়। সমালোচক অমিত চৌধুরির দাবি, জীবনানন্দ এমন একজন কবি যিনি সমস্ত বাঙালির চেতনায় আছেন। ১৯১৯ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক হন।


6. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

‘বন্দেমাতরম’ – এর রচিয়তা ও সুরকার বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র। বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত এই লেখক ‘বন্দেমাতরম’ গানে যে সংস্কৃত শ্লোক ব্যবহার করেছিলেন তা স্বদেশি বিপ্লবীদের বিপুল অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে তিনি প্রথম ব্যাচের স্নাতক।

7. সত্যজিত রায়

1921 সালে জন্ম সত্যজিত রায়ের। নিঃসন্দেহে তিনিই ভারতের সেরা চলচ্চিত্র পরিচালক। তাঁর সিনেমায় থাকে স্বাধীন চিন্তা – ভাবনার ছাপ। এবং এরকম সিনেমা তৈরিতে তিনি একমেবাদ্বিতীয়ম। তিনিই একমাত্র ভারতীয় হিসেবে ১৯২১ সালে সান্মানিক অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান। তাঁর প্রথম সিনেমা পথের পাঁচালি (১৯৫৫)। আর প্রথম সিনেমাটি কান চলচ্চিত্র উত্সবে সেরা মানবিক তথ্যচিত্রের মর্যাদা ছাড়াও এগারোটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ছিনিয়ে নেয়। এই মহান মানুষটিও অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক হয়েছিলেন।

8. অমর্ত্য সেন

অমর্ত্য সেনের জন্ম ১৯৩৩ সালে। অর্থনীতিবিদ হিসেবে তাঁর খ্যাতি বিশ্বজোড়া। ১৯৯৮ সালে ইকোনামিক সায়েন্স – এ তিনি নোবেল পুরস্কার পান। শান্তিনিকেতনে জন্ম অমর্ত্য সেনের, তাঁর নামকরণ করেন আর এক বাঙালি নোবেল প্রাপক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

‘ওয়েলফেয়ার ইকোনমিকস’ ও ‘সোসাল চয়েস’ এই দুই তত্ত্বের জন্যেই অমর্ত্য সেনের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী। ১৯৪৯ সালে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। স্নাতক হন প্রথম শ্রেণীতে অর্থনীতিতে অনার্স নিয়ে। শেষে তিনি পড়তে যান কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে।

9. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্ম ১৮৯৭ সালে। ফরওয়ার্ড ব্লক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। ভারতীয়দের হৃদয়ে তিনি শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর জন্মস্থান বাংলায় তাঁর মর্যাদা দেবতার সমান। তিনি যা দিয়েছেন সেই তুলনায় পাননি কিছুই।

ইংরেজ তাড়িয়ে দেশকে স্বাধীন করাই ছিল তাঁর একমাত্র ধ্যান–জ্ঞান। যুদ্ধ এবং রক্তক্ষয়কে তিনি পাশ কাটিয়ে যাননি। এই দেশবরেণ্য মানুষটি প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন ১৯১৩ সালে।

10. স্বামী বিবেকানন্দ

নরেন্দ্রনাথ দত্ত–র জন্ম ১৮৬৩ সালে। সন্ন্যাস নেওয়ার পর নাম হয় স্বামী বিবেকানন্দ। এই মহান পুরুষের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। পশ্চিমী বিশ্বে তিনি ছড়িয়ে দেন ‘বেদান্ত’–এর জ্ঞানের আলো। ১৮৯৩ সালে শিকাগোর সর্বধর্ম সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতা তাঁকে পশ্চিমী দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করে। সেখানকার মানুষদের পূর্বের জ্ঞান এবং দর্শনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।

সেতুবন্ধন ঘটান প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের ভাবনায়। ১৮৭৯ সালে এই মনীষী প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। তাঁদের ব্যাচের একমাত্র তিনিই ছিলেন প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক।

Popular on the Web

Discussions