সপহান্তে ভ্রমণযোগ্য বাংলার নয়টি সুন্দর জায়গা

5:08 pm 26 Apr, 2016


রবীন্দ্রনাথ বাংলাকে ভারতের গুপ্তধন বলে বর্ণনা করেছেন। যারা সেই বাংলা ভ্রমনের সুযোগ পেয়েছে তারা সবাই তাঁর সাথে একমত হযেছেন। বাংলা এমনই জায়গা যেখানে হিমালয়ের মাহাত্বও আছে আবার বঙ্গোপসাগরের শীতলতাও আছে।অথচ রাজ্যের দুর্বল পর্যটন শিল্প এবং অত্যধিক পরিপৃক্ত রাজনীতির দরুন এর বেশির ভাগ ই গভীর অন্ধকারে আচ্ছাদিত। পর্যটকের তৃষ্ণা মেটাতে এমনই কিছু জায়গার খোজ এখানে দেওয়া হল।

১. সুন্দর বন

এখানে গহীন ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ভেতর দিয়ে রয়েছে নিশ্চল জলধারা। নদীর কলতান ছাড়াও যেখানে শুধই পাখির কুজন শোনা যায়। এটাই হলো সুন্দরবনের সংজ্ঞা।

পশ্চিমবঙ্গের ব-দ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত এই এলাকার শোভা দর্শন নৌকাভ্রমনে অসাধারণ।

২. তাজপুর

তাজপুর মেদিনীপুর জিলাস্থিত নতুন সমুদ্র সৈকত। এখানে গেলে গগনচুম্বী বিস্তির্ণ অথচ শান্ত বঙ্গোপসাগরের তীরে আসতে প্রস্তুত হও।

প্রকৃতি প্রেমিক ও রোমাঞ্চখোঁজি দের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার বেশ কিছু জলক্রীড়ার ব্যবস্থা করেছে।

৩. বিষ্ণুপুর

টেরাকোটার মন্দিরের জন্য বিখ্যাত শহর বিষ্ণুপুর। বাংলার সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং স্থাপত্যের নিদর্শন বিষ্ণুপুর কলকতা থেকে সপহান্তে ভ্রমণের জন্য আদর্শ।

তোমার শিল্পকলা ও ইতিহাসে রুচি থাকলে বিষ্ণুপুর তোমার অবশ্যই যাওয়া উচিত। এখানে ভালো সিল্ক ও উত্পাদিত হয়।

৪. পুরুলিয়া

অশান্ত শহুরে জীবন থেকে মুক্তির সহজ উপায় হলো পুরুলিয়া। এটি গড়পান্চকট, লাল পাহাড়, অযোধ্যা পাহাড়ের মত অনেক পাহাড়ী গন্তব্যের জিলা।

সবুজে আচ্ছাদিত বিস্তির্ণ পাহাড়ী ভূমি ও মধ্যে মধ্যে ঝরনা ও নদী পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

৫. মূর্শিদাবাদ

নবাব সিরাজ-উ-দৌল্লার জীবন ও সমসাময়িক ইতিহাস সম্বলিত মূর্শিদাবাদ বাংলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র।


এর স্থাপত্য, প্রাকিতিক সৌন্দর্য তোমাকে মুগ্ধ করবেই। বিষ্ণুপুর ছাড়াও এটি ভারতের অন্যতম সিল্ক উত্পাদনকারী জায়গা।

৬. মুকুটমণিপুর

মুকুটমণিপুর বাঁকুড়া জেলায় কুমারী ও কংসাবতী নদীর সংযোগ স্থলে অবস্থিত।

বিশাল বাঁধের ওপর থেকে যদি বিস্তির্ণ সবুজ তৃণক্ষেত্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাও তবে এটি তোমার উপযুক্ত স্থান।

৭. ঝালং

কর্কশ শহুরে জীবন থেকে মুক্তির অন্যতম স্থান হল হিমালয়ের কোলে অবস্থিত ঝালং।

ঝালং নদীর দক্ষিন তীরে অবস্থিত এই জায়গায় তোমার দিন কাটবে পাখির কুজন, গরম গরম মোমোসঙ্গি তাঁবু তে।

৮. ললেগাঁও

হিমালয়ের কোলে অবস্থিত বিস্তির্ণ তৃণভূমি, গহীন অরন্য আর আশ্চর্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্বলিত শহর ললেগাঁও বাংলার একটি আশ্চর্য। অথচ, বাকি ভারতবর্ষের অজানা। তুমি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দার্জিলিঙের কথা শুনে থাকবে কিন্তু ললেগাঁও যেন চিত্রশিল্পীর কল্পনা।

তুমি এখানে আয়াস করতে পারো, ট্রেকিং এ যেতে পারো অথবা গরম গরম মোমোতে হামলে পড়তে পারো। এর গহীন অরন্য তোমাকে পরিবর্তিত করে দেবেই।

৯. শান্তিনিকেতন

৭০ শতাংশ কলকাতাবাসীর আদর্শ ভ্রমণস্থান। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এখানে অবস্থিত।

শান্তিনিকেতন নামটি যথার্থ – শান্তির নিকেতন। ছোট নদী, অসংখ্য ছোট ছোট গ্রাম, ইউক্যালিপ্টাস গাছের অরন্য, আর অবশ্যই সেই অরন্যে চলা প্রতি হপ্তার কারুশিল্প মেলা শান্তিনিকেতনকে একটি আশ্চর্য -এ পরিনত করে।

Popular on the Web

Discussions



  • Co-Partner
    Viral Stories

TY News