তিন তালাক: সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে বিচার চেয়ে রক্ত দিয়ে চিঠি লিখলেন মহিলা

তিন তালাকের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি.এস. ঠাকুরের কাছে নিজের রক্ত দিয়ে চিঠি লিখলেন মধ্যপ্রদেশের একজন মুসলিম মহিলা। তিনি সীজেআই এর কাছে দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট বিচার করুক তা না হলে তাকে মৃত্যুবরণ করার অনুমতি দিক। মহিলার নাম শাবানা। মহিলার অভিযোগ নার্সিং কোর্স করার পর তিনি চাকরি করতে চান। কিন্তু তার স্বামী তাকে ক্ষেতে কাজ করতে বাধ্য করতো। যৌতুকের জন্য তার ওপর নির্যাতন করা হত। শাবানা জানিয়েছেন তার স্বামী টিপু দ্বিতীয় বিয়েও করেছে।

 

রিপোর্ট অনুযায়ী, শাবানা এই ধরনের আইন নিষ্কাশন করার দাবি করেছে যার ফলে তার ও তার চার বছর বয়সের মেয়ের জীবন ছারখার হচ্ছে। অন্যদিকে মহিলার স্বামী টিপু জানিয়েছে তার স্ত্রী ঠিকভাবে বাড়িতে থাকতো না। তার স্বামীর অনুযায়ী শাবানা সবসময় চাকরির করার কথা বলতো। কিন্তু সে চাকরি করতে পারবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত একমাত্র পরিবারই নেবে। টিপু এও জানিয়েছে শাবানর কাছ থেকে সে ইসলামী রীতি অনুযায়ী তালাক নিয়েছে।

শাবানার বিয়ে হয়েছিল 2011 সালে। তার স্বামী তিনবার তালাক-তালাক বলে তাকে এবং তার চার বছরের মেয়েকে ছেড়ে দিয়েছে। মহিলা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে দেওয়া চিঠিতে লিখেছেন সে তিন তালাকের তীব্র বিরোধিতা করে। আর সে লিখেছে দেশের আইন ব্যবস্হা সকলের জন্য সমান। এই ধরনের ব্যক্তিআইনে সে বিশ্বাস করে না। যা তাকে এবং তার মেয়েকে খারাপ ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

বেশ কিছু সময় ধরে মহিলারা তিন তালাকের বিরোধিতা করছেন। গাজিয়াবাদের এক মুসলিম মহিলা তিন তালাকের জন্য হিন্দুধর্ম অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিন তালাকের পর তার স্বামী তাকে পতিতাবৃত্তি করার জন্য বাধ্য করছিল।

মহিলা জানিয়েছেন তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছিল। পরে নিকাহ হলালার আওতায় তার স্বামী তাকে তার এক বন্ধুর কাছে পাঠিয়েছিল। কিন্তু তিনমাস পর সে যখন তার স্বামীর কাছে ফিরে আসে তখন তার স্বামী তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং তাকে পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য করে।

Facebook Discussions