6টি বিখ্যাত চলচিত্র যেখানে আপনি কলকাতার আসল রূপ দেখতে পাবেন

10:21 am 30 May, 2016


সত্যিকারের কলকাতাকে কোথায় খুঁজবেন? কলকাতাকে গভীর ভাবে জানতে হলে এই শহরের সাথে কিছু সময় কাটাতেই হবে। কিন্তু যারা ঘরে বসে থেকেই সিনেমার মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গা সম্পর্কে জানতে চান তাদের জন্যেও অনেক বিকল্প আছে।

একথা কি আপনি অস্বীকার করতে পারবেন যে ভ্রমনের পর যে কোনো জায়গাকে চিনে নেবার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো চলচ্চিত্র? বহু ছবিতেই কলকাতার রাস্তাঘাট, ধুতি পরা লোকের ধুমপান করতে-করতে খবরের কাগজের পড়া অথবা খাঁটি বাঙ্গালী কায়দায় শাড়ি পড়া নারীর ছবি আপনার দৃষ্টিগোচর হয়ে থাকবে।

এটি কোন বিরল দৃশ্য নয় এবং আমরা এখানে আপনাকে 6টি সিনেমার উদাহরন দিলাম যেখানে কলকাতার প্রকৃত তিলোত্তমা রুপ ও তার মানুষজনের জীবনযাপন ক্যামেরাবন্দী করা হয়েছে।

1. কাহানি

সুজয় ঘোষ পরিচালিত বিদ্যা বালান অভিনীত বর্তমান সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ছবি ‘কাহানি’। এই সিনেমার প্রায় গোটা অংশই কলকাতায় শ্যুটিং করা হয়েছে এবং কলকাতাবাসীর কাছে সুজয় ঘোষের এই পরিশ্রম যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছে কারণ তিনি তার পরিচালনায় কলকাতার আসল রুপকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

রাস্তাঘাট, ট্রাম, মেট্রো, অন্ধকার গলি এবং দুর্গাপুজা সিনেমায় ব্যবহৃত প্রতি জিনিসই কলকাতাকে স্বকীয়তা দান করেছে ও কলকাতার প্রতি মানুষের সেই চিরাচরিত অনুভূতিকে প্রানবন্ত করেছে। পরিচালকের এই প্রচেষ্টা এই কারণেই প্রশংসার দাবি রাখে যে এর আগেও বহু পরিচালক তাদের ছবিতে কলকাতাকে ব্যবহার করলেও গল্পের গুরুভারে এই শহরকে প্রধান গুরুত্ব দেন নি।

2. রেইনকোট

এই ছবির পরিচালক ছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ, যিনি গত বছর প্রয়াত হয়েছেন। এই ছবির অভিনেতা ও অভিনেত্রী অজয় দেবগন এবং ঐশ্বরজা রাই দুজনেই চোখ ঝলসানো জমকালো অভিনয়ের খোলস ছেড়ে সাদামাটা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিটি ‘ও’হেনরির’ ছোট গল্প “দ্য গিফট অফ দ্য ম্যাজাই” অবলম্বনে তৈরি হয়েছে, যদিও ছবির খানিকটা অংশ কলকাতার বাইরেও শ্যুটিং হয়েছে।

ছবিতে বৃষ্টিমুখর কলকাতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তাই সিনেমায় ব্যবহৃত রাস্তাঘাট সবই ঝাপসা ও অস্পষ্ট। কিন্তু সিনেমায় দৃশ্যে আপনারা যেমনটি দেখেছেন বাস্তবিক বৃষ্টিস্নাত কলকাতার দৃশ্যটিও তেমন। চারপাশের রাস্তাঘাট সবকিছুই দৃষ্টির বাইরে চলে যায়। বৃষ্টিমুখর কলকাতার রুপ দেখতে এই সিনেমাটি অবশ্যই দেখা উচিত।

3. যুক্তি,তক্ক ও গপ্প

1978 সালে দর্শকের অগতানুগতিক ব্যক্তিত্য ঋত্বিক ঘটক ছবিটি পরিচালনা করেন। তিনি শুধুমাত্র বাংলা চ্চলচিত্র জগতের অন্যতম পথিকৃত্ই ছিলেন না, ভারতবর্ষের প্রথম সারির পরিচালকদের একজন ছিলেন। এই ছবিটিতে তিনি নিজেও অভিনয় করেছেন এবং বলা হয় যে এটি আংশিকভাবে তার জীবনকাহিনী নিয়ে তৈরি।


আপনারা নিশ্চয় বাংলার নকশাল আন্দোলনের উত্পত্তি ও গতিবিধি সম্পর্কে শুনে থাকবেন, সেই সময়ের নকশালরা যেভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল এবং যে রাজনৈতিক ভীতির সৃষ্টি করেছিল, তার উদাহরণ এই ছবিতে পাওয়া যায়। তাই নকশাল আমলের কলকাতাকে জানতে হলে এই ছবিটি দেখতেই হবে।

4. নৌকাডুবি

এই চ্চলচিত্রের পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ ছিলেন শতাব্দী বিষয়ক বাংলা সিনেমার অন্যতম অগ্রদূত এবং তার প্রতিটি ছবিতেই বাংলার বৈশিষ্ট ফুটে উঠেছে। যারা কলকাতার অতীত এবং বহুযুগ আগের শহর কলকাতা সম্পর্কে কৌতূহলী এই ছবিটি তাদের জন্য অপরিহায্য।

1920 সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘নৌকাডুবি’ উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি তৈরি হয়েছে। বৃদ্ধ ও বিধবাদের এবং যাদের উপর যেকোনো ধরনের অন্যায় হেয়েছে তাদের সংকটাপন্ন অবস্থা ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমায় ব্যবহৃত পোশাক-পরিচ্ছদ জনপ্রিয়ও হয়েছিল এবং তা থেকে সেই সময়ের বাঙালিদের পোশাকের সম্পর্কে ধারনা করা যায়।

5. মহানগর

ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচালক সত্যজিত রায় এই বিখ্যাত বাংলা সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন। একথা প্রশ্নাতীত যে মহানগর বলতে কলকাতা এবং কলকাতাবাসীর জীবনযাপনের কথা বলা হয়েছে।

স্বাধীনতা পূর্ববর্তী বঙ্গভঙ্গের পর মধ্যবিত্ত বাঙ্গালী কিভাবে পূর্বপুরুষের রক্ষণশীলতার বেড়াজাল ভেঙ্গে নিজ পরিশ্রমে পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্বাধীনভাবে অর্থ উপার্জনে সচেষ্ট হয়েছেন তা এই ছবিতে দেখানো হয়েছে। সম্ভাবনাময় এই শহরের বানিজ্যিক সংস্কৃতির সাথে পাল্লা দিতে হলে নিজেকে পরিবর্তনশীল হতে হয় যা কোনরূপ সহজ কাজ নয় তা এই চলচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে।

6. দুই বিঘা জমি

এটি বিমল রায়ের সর্বোত্কৃষ্ট সিনেমা যা ভারতের ইতিহাসে অদ্বিতিয়। ছবিটি বাংলার পটভূমিতে তৈরি। ছবিতে ফুটিয়ে তোলা হয় বাণিজ্যিকীকরণের ক্ষতিকারক প্রভাবের চিত্র, কীভাবে ছবির প্রধান চরিত্রের কাছ থেকে তাঁর দুই বিঘা জমি চক্রান্ত করে কেড়ে নেওয়া হয় শুধুমাত্র অর্থলোভী কিছু মানুষের নিজ প্রতিপত্তি বৃদ্ধির লালসায়। এরপর তিনি আর কোনোদিনই নিজ জমি উদ্ধার করতে সক্ষম হননি, এমনকি এক মুঠো মাটিও সে পায়নি।

কীভাবে কলকাতায় ধীরে-ধীরে শিল্পোন্নতি ও বেসরকারিকরণ প্রবেশ করলো তা এই ছবিটিতে ধরা হয়েছে। সেই সময়ে শিল্পগত ও সম্পদগত চিন্তার প্রতি বাঙ্গালী মননশীলতার পরিচয় পাওয়া যায় এই চ্চলচিত্রটিতে।

Popular on the Web

Discussions