১২টি হাস্যকর কথা যেগুলি কলকাতার বাসে ভ্রমন করার সময় যেকেউ শুনতে বাধ্য

1:59 pm 25 Apr, 2016


তবে স্বীকার করেই নেওয়া যাক, কলকাতার রাস্তায় গণপরিবহন করে ভ্রমন করা কখনই মানুষকে একঘেয়েমি অনুভব করতে দেয় না (যদিও কখনও কখনও এটি বিরক্তিকর হয়ে দাড়ায়)। বাসগুলি না তো ফাকা হয় না, তাতে বাতাস খেলে (আপনি হয়ত গ্রীষ্মের সকালের বাসের মধ্যেকার দম বন্ধ হয়ে যাওয়া আর্দ পরিস্থিতিকে বর্ণনা করার জন্য নতুন বাক্যের উদ্ভাবন করতে পারেন), নাতো মানুষের বিনোদনের খাতিরে কোনো বাসে রোজ রোজ গান বাজে।

তবে কোন জিনিস বাস যাত্রাকে এত মজার করে তোলে? স্বভাবতই এইকাজটি বাসের পরিচালক ও তাতে উপস্থিত যাত্রীরা খুব দক্ষতার সাথে পালন করে থাকেন (সেটি আপনিও হতে পারেন!)। এছাড়াও নিয়মিত ভাবে ট্রাফিক পুলিশের মশকরা তো লেগেই রয়েছে।

এই তালিকায় আমরা এমন কিছু হাস্যকর বাক্য সংগ্রহ করেছি যা কোলকাতার বাস এ ভ্রমনকারী ব্যক্তি শোনেননি এমন পাওয়া সম্ভব নয়।

১. দিচ্ছি… এতো তারা কিসের? লাস্টে নামব! আমরা বাঙালিরা অলস প্রজাতির মানুষ।

এই সত্যটি রোজ বারংবার প্রতিস্থাপিত হয় যখনই কন্ডাকটর টিকিট চায় এবং ৭০% ক্ষেত্রে যাত্রীদের জবাব পাওয়া যায় “দিচ্ছি… এতো তারা কিসের? লাস্টে নামব!” অথবা তার থেকেও ভালো “পালিয়ে যাচ্ছি নাকি!?” উফফ! আমাদের রঙ্গতামাশার জুরি মেলা ভার।

২. হাওড়া, কলেজ স্ট্রিট, মানিকতলা, খান্না, শ্যামবাজার….! অথবা পার্কস্ট্রিট, এসপ্লানেন্ড, বাবুঘাট, হাওড়া…

এমনকি বাস স্টপেজ খালি থাকলেও কন্ডাকটর-রা এই বুলি আওড়ে যাবে।

৩. এবং যদি কেউ কন্ডাকটর-কে ‘বেহালা’ সঠিক ভাবে উচ্চারণ করতে শোনে তবে সে পুরস্কারের দাবি রাখে।

তারা নৈমিত্তিক ভাবেই তাদের নিজস্ব ভঙ্গিতে বেআলা-বেআলা বলে চেচিয়ে নীরস কাজের দিনের শুরুতে কিম্বা শেষে অত্যাবশ্যকীয় একটি রঙ্গরস প্রদান করে। বেহালা হলো কলকাতার পার্শবর্তী একটি এলাকা। আপনি নিশ্চয়ে জানেন।

৪. চালা, চালা…. এই শালা ড্রাইভার ইচ্ছেকরে সিগনাল খাচ্ছে!

অফিস টাইমে স্বাভাবিকের থেকে বেশিক্ষণ ট্রাফিক-এ আটকে থাকা ক্ষুদ্ধ যাত্রীদের মুখে এই কথাটি স্তোত্র বাক্যের মত লেগে থাকে।

৫. খালি গাড়ি… খালি গাড়ি!

ভিতরে বসার জায়গা না থাকলেও আপনি হামেশাই কন্ডাকটর-কে এই বুলিটি চেল্লাতে শুনবেন। কখনও-কখনও আপনার পক্ষে বাসে পা রাখার জায়গা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে, কিন্তু কন্ডাকটর-দের কাছে তখনও গাড়িটি ফাকা।

৬. পিছনে এগিয়ে যান…..পিছনে এগিয়ে যান!

ও হ্যা, একটি দরজা বিশিষ্ট বাসের কন্ডাকটর-রা সর্বদাই বাসের পিছনের দিক কে খালি দেখতে পান।

তাই ভিতরে যতই গেঞ্জাম হোক না কেন, আপনি তাদের একটি কথাই বলতে শুনবেন “পিছনে এগিয়ে যান…..পিছনে এগিয়ে যান!”

indianamericanmom


৭. বাঁয়ে যা….বাঁয়ে যা!

যদিও কন্ডাকটর শুধুমাত্র বাস চালককে বাঁ দিকে যেতে বলছে কিন্তু নিরন্তর উদ্দীপনা নিয়ে তার সেই কেমনতর বাচনভঙ্গিতে চেচানো এই সাধারণ কথাটিকেও যাত্রীদের কাছে অবিস্বরনীয় করে তোলে।

৮. অ্যাই সালা কেস খেয়েছে!

বেপরওয়া গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার জন্য ছোটোগাড়ী ও বাসের কেস খাওয়া এক নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা। যেকোনো রুটের-ই বাস হোক না কেনো যাত্রীরা সবসময় চিত্কার করে একটাই কথা বলবে “অ্যাই সালা কেস খেয়েছে!”

এবং যদি কোনো কারণে যাত্রীগণ বুঝতে পারেন যে ভুল কারণ বশত গাড়ীকে আটক করা হয়েছে, তবে যাত্রীরা ট্রাফিক পুলিশের উদ্দেশে বলে “অ্যাই, মাসের শেষে হাত খালি!”

৯. বাচ্চা-লেডিস!

কম বয়সী বা যুবতী মেয়েদের জন্য তারা একটি বিশেষ বাক্য ব্যবহার করে থাকে….বাচ্চা লেডিস!

১০. আসতে লেডিস কোলে বাচ্চা!

যেসব মানুষেরা কলকাতার বাসে যাতায়াত করেছেন, তাদের কাছে এই কথাটি অতুলনীয় এবং চমকপ্রদ।

১১. আস্তে… লেডিস!

এবং এটি হলো কন্ডাকটর-দের সবচেয়ে প্রিয় বুলি, আর হবে নাই বা কেন, নারী সৌজ্যনই বলেও তো একটা কথা আছে!

১২. ১০০ ও ৫০০ টাকার খুচরা চাহিয়া লজ্জা দিবেন না!

হাস্যকর কিম্বা বিরক্তিকর লাগুক, স্বীকার করতেই হয় এই কন্ডাকটর-রাই আমাদের একমাত্র ভরসা যখন আমাদের ১০০ ও ৫০০ টাকার খুচরোর প্রয়োজন হয়!

সব বাসের ভিতরেই বড়-বড় অক্ষরে “১০০ ও ৫০০ টাকার খুচরা চাহিয়া লজ্জা দিবেন না” কথাটি লেখা থাকে।

আপনি কি নতুন কিছু সংযোজন করার কথা ভাবছেন? দয়া করে নিচে আমাদের লিখে জানান।

Popular on the Web

Discussions