১২ জন বাংলার বিখ্যাত সাহিত্যিকের বিষয়ে আপনার জানা উচিত

2:27 pm 25 Apr, 2016

আনন্দের শহর ছাড়াও কলকাতা গর্বিত ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে। চলচ্চিত্র, থিয়েটার, সঙ্গীত ও সাহিত্য যেকোনো বিষয়েই বাঙালি তাদের পারদর্শীতার চিহ্ন সর্বত্রই রেখেছেন। এই অনুচ্ছেদে আমরা কয়েক জন সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের অবদান আরো ভালো করে জানার চেষ্টা করব — কিছুজনকে আপনারা খুব ভালোভাবে চেনেন আবার কিছুজন একটু নতুনও হতে পারে।

১. মাইকেল মধুসুধন দত্ত

বাংলার অন্যতম প্রতিভাসম্পন্ন কবি মাইকেল খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহন করেছিলেন পশ্চিমে পালিয়ে যাওয়ার জন্য, যেখানে তার কবিতা আরও বেশী প্রসংসনীয় হবে। কিন্তু তার ভুল উপলব্ধি করার পর তিনি ভারতবর্ষে ফিরে এসেছিলেন এবং বাংলায় কবিতা লেখা শুরু করেন –যে ভাষাকে তিনি একসময় অবজ্ঞা করেছিলেন। বাকিটা তো ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষর-এ রচিত আছে। আমরা সুপারিশ করব সেই কবিতাগুলি, যেগুলো তিনি তার অনুশোচনায় বাংলার ঐশ্বরিক মা কে লিখে গেছেন।

২. সত্যজিত রায়

এই বাউন্ডুলে ব্যক্তিত্ব শুধু একজন শিল্পীই ছিলেন না, একজন গীতিকার, সুরকার, শিল্পী এছাড়াও একজন দক্ষ্য লেখক ছিলেন। একশোটা শিশুসাহিত্য থেকে চলচ্চিত্র নির্মান এবং জীবনী থেকে বিজ্ঞান সাহিত্য –তিনি সবকিছুইতেই পারদর্শিতার পরিচয় দিয়ে গেছেন। তিনিই ফেলুদার স্রষ্টা –যিনি বিশ্বব্যাপী প্রতিটি বাঙালীর প্রিয় গোয়েন্দা।

৩. উপেন্দ্রকিশোরে রায়চৌধুরী

তিনি অনেক সৃজনশীল বিভাগের গুরু ছিলেন –সেটা হতে পারে গান, ছবি আঁকা বা কোনো দুঃসাহসিক কাজের ঝুকি অথবা কোনো বিস্ময়কর গল্পজাল বোনা! তিনি এখনও শিশুদের জন্য সেরা লেখক হিসেবে খ্যাত এবং তিনিই বাংলার প্রথম শিশু পত্রিকা রচনা করেছিলেন। এই মহান ব্যক্তিত্বকে প্রায়ই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক চরিত্র বলে গন্য করা হয় এবং এছাড়াও তিনি ছিলেন সত্যজিত রায় এর দাদু এবং সুকুমার রায় এর বাবা।

 

৪. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

যদিও এটা পরিচিত সত্য যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হলেন ভারতবর্ষের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’ এর রচনাকার, কিন্তু অনেকেই যে সত্যতা সম্পর্কে সচেতন নয় তা হল বঙ্কিমচন্দ্রই প্রথম ভারতীয় যিনি ইংরাজি উপন্যাস ‘রাজমহনের বউ’ লেখার জন্য কলম ধরেন। এছাড়াও তাঁর ঝুলিতে অসংখ্য বাংলা উপন্যাস রয়েছে, প্রত্যেকটাই আলাদা-আলাদা বিষয় ব্যক্ত করে। যদি আপনারা তার কোনো লেখা না পড়ে থাকেন তো এটাই উপযুক্ত সময় শুরু করার।

৫. শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

জনসাধারণের লেখক হিসেবে গন্য শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সহজ ভাষা, আড়ম্বরহীন সজ্জা এবং সামাজিক বিষয়গুলিই আরো বেশি করে তাকে বাংলার একজন শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক বলে নির্বাচিত করেছে। কিছু লোকের মতে, তিনি নাকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের থেকেও উত্তম লেখক, সেটা সত্যি হোক বা নাই হোক, তাঁর সর্বসাধারনকে নিবেদন করার ক্ষমতা সত্যিই বেশি ছিল! পরিণীতা, দেবদাস, শ্রীকান্ত — তারই কলম থেকে সৃষ্ট রত্ন।

৬. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলার লেখকদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ, বাংলার বিদ্যালয়ের এই শিক্ষক আধুনিক বাংলা সাহিত্যের উপস্থাপক বলে গন্য হন। শিশু উপন্যাস থেকে ছোট গল্প তিনি যাই লিখেছেন তাতেই পারদর্শিতার ছাপ রেখেছেন। আমাদের সুপারিশ হবে তার আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘পথের পাচাঁলি’, যে বইটির ওপরে পরে সত্যজিত রায় চলচিত্র তৈরী করেছিলেন।


৭. শংকর

সাহিত্যের কাজ হলো আমাদের সমাজের মুখোসকে অনাবৃত করে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা এবং তা পুরোদস্তুর পারদর্শিতার সাথে শংকর করে দেখিয়েছেন। সম্ভবতঃ এই কারণে তার অনেক উপন্যাসই সত্যজিত ও অন্যান্য মহান পরিচালকদের দ্বারা উত্কৃষ্ট চলচিত্রে রুপান্তরিত হয়েছে। আপনি উপন্যাস বা গল্প পড়তে ভালবাসেন কিনা জানি না, তবে বাজি রেখে বলতে পারি আপনি তার উপন্যাসের প্রশংসা করতে বাধ্য!

৮. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কয়েকজন বৈপ্লবিক সাহিত্য প্রতিভার মধ্যে সর্বাগ্রে ছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। যদিও তিনি ২০০র ওপর উপন্যাস, ছোট গল্প লিখেছেন, তবুও তিনি সবসময়ই কবিতা কে তার “প্রথম প্রেম” হিসেবে গন্য করেছেন। এবং হবে নাই বা কেন! তার অনুবাদিত নিখিলেশ আর নীরা সিরিজ (যথাক্রমে ‘Murmur in the Woods’ এবং ‘For You, Neera’) পরে দেখুন, আপনিও তার কবিতার প্রেমে পরবেন!

৯. জয় গোস্বামী

এই প্রজন্মের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কবিদের মধ্যে একজন হলেন জয় গোস্বামী। তার প্রাণবন্ত বর্ণনা, পরাবাস্তব কল্পনা এবং উজ্জ্বল পদ্য নির্বাচনের জন্য তিনি পরিচিত। তার “ঘুমিয়েছি, ঝাউপাতা” পড়ুন না, তিনি কোমল ভাষার মধ্যে দিয়ে কেমন ভাবে তার চিন্তাধারা(এবং যন্ত্রণা) কে ব্যক্ত করেছেন তা দেখলে আপনি বিস্মিত হবেন!

১০. বাদল সরকার

সর্বকালের সেরা এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী নাট্যকার (যাঁকে গিরিশ কারনাড তার ভার্চুয়াল গুরু হিসাবে বিবেচনা করেন), বাদল সরকার হার মানিয়েছেন সনাতন মঞ্চে অনুষ্ঠিত নাটককে, এবং তিনি দৃষ্টিপাত করেছেন অসচরাচর এবং কিম্ভুতকিমাকার থিয়েটার যেটা বাংলার টালমাটাল সময়ের সাথে সঠিকভাবে যাবে। আমরা আপনাকে সুপারিশ করছি তাঁর “এবং ইন্দ্রজিত” পড়তে যা ভারতীয় নাটকের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে ওঠে।

১১. সুকুমার রায়

এই অসামান্য প্রতিভা কে আবোল তাবোল ছড়ার স্রষ্ঠা হিসেবে বিশ্বজুড়ে দক্ষ সাহিত্যবিদ দের মধ্যে গণ্য করা হয়! শিশুদের উপন্যাস থেকে শুরু করে নাটক (যা নিয়ে পন্ডিতরা এখনো গবেষণা করছে), এই অ-রক্ষণশীল প্রতিভা সবই লিখেছেন এবং সবার থেকেই সুনাম অর্জন করেছেন! তিনি সব বয়সের জন্য চিত্তাকর্ষক” লেখকদের মধ্যে একজন!

১২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কোনো কিছু বলা কি বাকি আছে এই পন্ডিত সম্পর্কে যিনি ছিলেন একজন নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, সুরকার, গীতিকার, একজন লেখক, কবি, চিত্রকর, ভাষাবিদ, শিক্ষাবিদ-উফফ, এবং আরও কত কিছু? বাংলায় একটি প্রবাদ আছে যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি একাধারে সব অনুষ্ঠানের জন্য – দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত, এবং এটাই সত্য ! আচ্ছা, আপনি কি জানেন তিনি একবার একটি ছবির জন্য চিত্রনাট্য লেখেন?

Discussions



TY News