কলকাতার বিখ্যাত গায়কেরা ও ৫টি ব্যান্ড

1:40 pm 22 Jun, 2016


ভালো গান ভাষার ব্যবধান মুছে দেয়। উত্কৃষ্ট সঙ্গীত দেশকালের সীমানা টপকে যায় অনায়াসে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ছুঁয়ে যায় মানুষের হৃদয়। একটা সময় ভারতীয় সঙ্গীত কেন্দ্রীভূত ছিল কয়েকজন বিখ্যাত ওস্তাদ গাইয়ে এবং বলিউডের প্রধান গায়কদের মধ্যে।

পট বদলেছে। বেশ কিছু ব্যান্ড উঠে এসেছে যাদের গান জনমানসে ব্যাপক ছাপ ফেলেছে। সঙ্গে বেশ কয়েকটি শুধুই গানের চ্যানেল এসেছে টেলিভিশনে। এতে আরও বেশি মানুষ আরও বেশি গান শোনার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়াও কিছু মানুষ আছেন যাঁরা লোকসঙ্গীত–সহ পপ ও রক গান সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। ফলে লোকসঙ্গীতও আবার তার হারানো সিংহাসন ফিরে পাচ্ছে। দেশেরও বিভিন্ন জায়গায় পপ ও রক গানের চর্চা বেড়েছে। আমরা এখানে কয়েকজন বিখ্যাত গায়ক ও ব্যান্ড সম্পর্কে জানব, যাদের গান সারা ভারত শোনেঃ

1. পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী

ভারতীয় রাগসঙ্গীতের অন্যতম সেরা গায়ক ও শিক্ষক পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী। হিন্দুস্থানি রাগসঙ্গীতে তিনি ‘পাটিয়ালা’ ঘরানার গায়ক। তালিম নিয়েছেন বড়ে গোলাম আলি খাঁ–র সন্তান ওস্তাদ মুনওয়ার আলি খান–এর কাছে। গুরুই তাঁর সঙ্গীতের অনুপ্রেরণা। পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী এখন একজন পরিণত গায়ক এবং সুপরিচিত সুরকার। গানের ছন্দ এবং তান–এর ব্যবহার তাঁকে এনে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি। তাঁর কন্যা কৌশিকী দেশিকান–ও প্রসিদ্ধ রাগসঙ্গীত শিল্পী। উঠতি গাইয়েদের কাছে তাঁর গানের কদর বিশাল। তরুণ শিল্পীদের কাছে কৌশিকী একজন পরম শ্রদ্ধেয় শিল্পী।

2. ঊষা উত্থুপ

ভারতে এমন একজনকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না যে গায়িকা ঊষা উত্থুপ–কে চেনে না। তাঁর গানের স্বর বাঁধা গতের বাইরে হলেও জনপ্রিয়তায় খামতি পড়েনি একচুলও। হ্যাঁ, আমরা জানি তিনি বাঙালি নন। কিন্তু বাংলার প্রতি তাঁর গভীর প্রেম সুবিদিত (তাঁর কপালের টিপের ওপর ‘ক’ অক্ষরটি ছাপা থাকে)। তাই এই তালিকায় তাঁকে বাইরে রাখা বড় ভুল হবে। ভারতের পপ ও জ্যাজ সঙ্গীতের দক্ষ গায়িকা তিনি। আর তাঁর বাংলা ‘কলকাতা কলকাতা’ গানটি তো সব বাঙালির হৃদয় ছুঁয়ে গাছে। কলকাতার যে কোনও অনুষ্ঠানে তাঁকে এই গানটা গাইতেই হবে।

3. পূর্ণ দাস বাউল সম্রাট

যদি লোকসঙ্গীতে আপনার আগ্রহ থাকে তবে অবশ্যই আপনাকে বাংলার বাউল গান শুনতে হবে। যাঁদের মধ্যে বাউল সঙ্গীত শিল্পী পূর্ণ দাস বাউল–এর গান অন্যতম। ‘বাউল’ তো একটা সম্প্রদায়। যাঁদের চারণ কবি বললেও খুব ভুল হবে না। এঁরা ভগবান কৃষ্ণ–র জীবনকে ছন্দ সুর বসিয়ে গান বাঁধেন। আর গৃহস্থের বাড়ি বাড়ি ঘুরে সেই গান শুনিয়ে খাবার সংগ্রহ করেন। সুফি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাউলদের অনেক মিল পাওয়া যায়। কিন্তু এই ঐতিহ্যশালী বাউল গান বাংলার বাইরে পৌঁছতে পারেনি। ব্যতিক্রম পূর্ণ দাস বাউল।

১৪০ টি দেশে ঘুরে ঘুরে গান শুনিয়ে তিনি বাউল সঙ্গীতকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন। যদি আপনি সবে বাউল গীতি শুনতে শুরু করেন তবে প্রথমেই ‘তোমায় হৃদমাঝারে রাখব, ছেড়ে দেব না’ গানটি শুনুন। নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, আপনি বাউল গানের প্রেমে পড়বেন।


4. বাংলা ব্যান্ড: ফসিলস, চন্দ্রবিন্দু ও ভূমি

বাংলা ব্যান্ডগুলির মধ্যে ফসিলস, চন্দ্রবিন্দু ও ভূমি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলায় রাজত্ব করছে। এই তিনটি ব্যান্ড একসঙ্গে রাজত্ব চালালেও তাদের গানে একটি বিশেষ পার্থক্য আছে। যেমন ফসিলস–এর গানে আছে পপ ও রক সঙ্গীতের মূর্চ্ছনা। আবার চন্দ্রবিন্দু–র জনপ্রিয়তা তাদের গানের কথায় রসিকতা, ব্যঙ্গের মিলমিশের সঙ্গে শক্ত কথা সহজে বলার ধরনে।

আর ভূমির গানে আছে সহজ সরল মেঠো সুর যা একই সঙ্গে প্রান্তিক মানুষের পাশাপাশি নাগরিক মননকেও ছুঁয়ে যায় অবলীলায়। আমাদের সুপারিশ: ফসিলস–এর ‘ও মন’ এবং ‘বসে বাইসাইকেল সিটে’, চন্দ্রবিন্দু–র ‘জুজু’ ও ‘ভিনদেশি তারা’ আর ভূমি–র ‘বারান্দায় রোদ্দুর’ এবং ‘তুই আমারে পাগল করলি রে’ গানগুলি অবশ্যই শুনুন।

5. অঞ্জন দত্ত

খিড়কি থেকে সিংহ দুয়ার হয়ে বেলোয়ারি ঝাড়ে বাংলা গান যখন মাথা ঠুকছে তখনই বাংলা গানে এক আমূল পরিবর্তন আনলেন অঞ্জন দত্ত। তাঁর গান বাংলা সঙ্গীতে নিয়ে এল এক ঝলক টাটকা বাতাস। অঞ্জন দত্ত ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন পাশ্চাত্য সঙ্গীত থেকে। তাই তাঁর গানে লোকসঙ্গীতের সঙ্গে অবলীলায় মিশে যায় জ্যাজ, ব্লুজ ও কান ট্রি মিউজিক। তাঁর গানের সহজ কথা সরল সুর সাবলীল বয়ে চলে নদীর মতো।

তিনি বাংলা গানে দক্ষতার সঙ্গে মিশিয়েছেন রাগসঙ্গীতের গাম্ভীর্য, রবীন্দ্রসঙ্গীতের মূর্চ্ছনার সঙ্গে সমসাময়িক চলচ্চিত্রের গানের চটুল সুর। তিনিই বাংলা গানে প্রথম স্যাক্সোফোন ব্যবহারের সাহস দেখিয়েছিলেন। সমস্ত প্রজন্মের কাছেই তাঁর গান সমান জনপ্রিয়। আর বাংলায় এমন একজন মানুষও পাওয়া যাবে না যিনি অঞ্জন দত্তের ‘বেলা বোস’ গানটি শুনে তার প্রেমে পড়ে যাননি।

Popular on the Web

Discussions



  • Viral Stories

TY News