কলকাতা ও তার কাছাকাছি অবস্থিত ৯টি কালী মন্দির

12:53 pm 2 Jun, 2016


ভারতে হিন্দু ধর্মের লোকই বেশি। সারা দেশ জুড়ে বিভিন্ন দেব–দেবীর আরাধনা করা হয়। কিন্তু বাঙালির মাতৃ আরাধনাতেই শান্তি। আর সেই মা হলেন কালী। এই কালী আসলে পার্বতীরই অনন্য রূপ। অনেকের মতে কলিকাতা (প্রাচীন নাম কলকাতা) নামটি কালী নাম থেকে এসেছে। যদিও এর কোনও অটুট প্রমাণ নেই।

যাইহোক, বাঙালির আরাধ্য দেবী মা কালী। আর পশ্চিমবঙ্গে আপনি বহু প্রাচীন ও বিখ্যাত কালী মন্দির দেখতে পাবেন। যাঁরা আকুল আকাঙ্খায় ঘুরে দেখতে চান তাঁদের জন্যে কলকাতা ও তার কাছাকাছি বিখ্যাত কয়েকটি কালী মন্দিরের একটি তালিকা দেওয়া হল।

1. কীর্তিশ্বরী মন্দির, মুর্শিদাবাদ

৫১ পীঠের একটি এই কীর্তিশ্বরী মন্দির। মুর্শিদাবাদের অন্যতম প্রাচীন এই মন্দির মুক্তেশ্বরী মন্দির নামেও পরিচিত। আসল মন্দিরটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবার পর ১৯ শতকে বর্তমান মন্দিরটি নতুন করে প্রতিষ্ঠা করেন দর্পনারায়ণ। সতীর ‘মুকুট’ এখানে পড়েছিল বলে বিশ্বাস। বাংলার অন্যতম মন্দির যেখানে কোনও দেবী মূর্তি নেই। শুধু একটি কালো পাথর রয়েছে। এখানে তারই আরাধনা হয়।

2. কঙ্কালীতলা মন্দির, বোলপুর

পৌরাণিক মতে ৫১ পীঠের আরও একটি কঙ্কালীতলা মন্দির। বোলপুর থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে। পুরাণ মতে এখানে সতীর কঙ্কাল অথবা কোমর পড়েছিল। নিছক গ্রামীণ একটি মন্দির বলে মনে হতে পারে। কিন্তু মন্দিরে এলে আপনার গা ছমছম করবেই। অদ্ভুত হলেও সত্যি।

3. কনকদুর্গা মন্দির, পশ্চিম মেদিনীপুর

পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্যতম প্রাচীন এই মন্দির চিল্কিগড়ের কাছে অধিষ্ঠিত। মন্দিরটির স্থাপত্যে আর্য ও অনার্য সংস্কৃতির মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় বিশ্বাস, ঘন জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত এই মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর কাছে যা চাওয়া হয় তা তিনি পূর্ণ করেন। যতদূর জানা যায়, এখানে কোনও প্রাণী বা ফল–মূল নয়, একসময় নরবলি হত।

4. সর্বমঙ্গলা মন্দির, গড়বেতা

ছবির মতো শহর গড়বেতায় অধিষ্ঠিত এই মন্দির। বিক্রমাদিত্য মৃতদেহের ওপর বসে তন্ত্র সাধনা করে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের দেবীকে তুষ্ট করেছিলেন। আসলে তাল এবং বেতালের সঙ্গে লড়ার জন্যে বিক্রমাদিত্যকে দেবী অলৌকিক ক্ষমতা দিয়েছিলেন। যাইহোক, সবচেয়ে অদ্ভুত হল এই মন্দিরের উত্তর দিকের দরজা।

5. হংসেশ্বরী মন্দির, বাঁশবেড়িয়া

কলকাতা থেকে মাত্র দেড় ঘন্টার দূরত্ব। এই মন্দির ১৯ শতকে স্থাপিত। এখানে মা কালী হংসেশ্বরী অবতার হিসেবে পূজিত হন। মন্দিরের চূড়াগুলি অনেকটা ওয়াল্ট ডিজনি–র দূর্গের মতো দেখতে। এই মন্দিরের লাগোয়া বাসুদেব মন্দির। মন্দিরগাত্রে খোদাই করা বাংলার অপূর্ব টেরাকোটার কাজ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।


6. ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির, বোড়াল

ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির কলকাতার মধ্যেই অবস্থিত। কিন্তু দুঃখের বিষয় খুব বেশি লোক এই মন্দির সম্পর্কে জানেন না। এখানে আপনি দেখতে পাবেন মূর্তির পায়ের কাছে রয়েছেন বিখ্যাত পঞ্চদেবতা — রুদ্র, ঈশ্বর, ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর। মা কালী এখানে ত্রিপুরাসুন্দরী রূপে পূজিত হন। কালী মূর্তিটি একটি পদ্মের ওপর বসানো। সেই পদ্মটি বের হয়েছে শিবের নাভি থেকে।

7. দক্ষিণেশ্বর মন্দির, কলকাতা

কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত মন্দিরগুলির অন্যতম দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির। হুগলি নদীর তীরে এই মন্দিরেই শ্রী রামকৃষ্ণ কালীকে জগদীশ্বরী কালীমাতা ঠাকরুণ–রূপে আরাধনা করেছেন। মূল মন্দিরের ভেতরে রয়েছে একইরকমের সুদৃশ্য ১২ টি শিব মন্দির।

8. তারাপীঠ

বীরভূমের রামপুরহাটে অবস্থিত এই মন্দির ৫১ শক্তি পীঠের একটি। হাওড়া থেকে ট্রেনে এখানে আসতে সময় লাগে সাড়ে ৪ ঘন্টা। শ্মশানের মাঠের ওপর গড়া এই মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা তারা। কাঁটায় কাঁটায় ভোর চারটের সময় মন্দিরের দরজা জনসাধারণের জন্যে খুলে দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয়, সতীর চোখের মণি পড়েছিল এই তারাপীঠে।

9. কালীঘাট মন্দির, কলকাতা

এটি কলকাতার অন্যতম প্রধান মন্দির। শহরের প্রাণকেন্দ্রে কালীঘাট মন্দির। যদিও ১৫ শতকের গোড়ার দিকে এই মন্দিরের জায়গায় ছিল দূর্গ। বর্তমান মন্দিরটি স্থাপিত হয়েছে ১৯ শতকের গোড়ায়। তৈরি করেন রাজা মানসিংহ। গর্ভগৃহে কালী মূর্তিটি বিশাল। আর বাংলার অন্যান্য জায়গায় যে ধরণের কালী মূর্তি দেখা যায় কালীঘাটের কালী মূর্তি তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। পুরাণ মতে সতীর ডান পায়ের পাতা পড়েছিল এখানে। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম আরাধ্য কালী মন্দির।

Popular on the Web

Discussions



  • Viral Stories

TY News