ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের আটকে থাকা যৌনদাসী আজ রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘গুডউইল অ্যাম্বাসাডর’

author image
6:34 pm 17 Sep, 2016


প্রায় তিন মাস ধরে আইএসআইএস জঙ্গী গোষ্ঠীর গণধর্ষণের শিকার হওযার পর পালাতে সক্ষম হলো নাদিয়া মুরাদক। গত বছর রাষ্ট্রপুঞ্জে তার ওপর হওয়া অত্যাচারের কাহিনী শুনিয়েছিলেন।

ইরাকের কুর্দ জনগোষ্ঠীর ইয়াজিদি ধর্মের মেয়ে নাদিয়া মুরাদ। 2014 সালে ইরাক যখন আস্তে আস্তে ইসলামিক স্টেটের দখলে চলে যাচ্ছিল তখন নাদিয়ার বয়স ছিল 19 বছর।

তখন ইরাকের নানা অংশে চলছিল ইসলামিক স্টেটের অত্যাচার। নাদিয়ার বর্ণনা অনুযাযী একদিন তাদের গ্রামে ঢুকে পড়ে আইএস জঙ্গিরা। ইয়াজিদিদের তারা ইসলামে ধর্মান্তরণ শুরু করে। ইয়াজিদি মেয়েরা একটি গ্রামের স্কুলে আশ্রয় নেয় কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাদের তুলে নিয়ে যায় জঙ্গিরা। তার মধ্যে ছিল নাদিয়াও।

যেদিন তাকে অপহরণ করা হয় সেদিন তার বাবা, মা, ভাইকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়।

নাদিয়া বলেন এরপর শুরু হয় গণর্ধষণ। দিন নেই রাত নেই যখনই তাদের মনে হতো তারা ধর্ষণ করতো। অনেকবার পালানোর ছক কষেন। প্রথমবার ধরা পড়ে যান। ছয়জন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। তবে শেষ পর্যন্ত পালাতে পারেন তিনি। পালিয়ে আশ্রয় পান একটা জার্মান অ্যাসাইলামে।

nadia

independent


রাষ্ট্রপুঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে নাদিয়া মুরাদকে গুডউইল অ্যাম্বাসাডর করলো। তাঁরই মতো অত্যাচারিত, নির্যাতিত মহিলা ও শিশুদের নিয়ে নাদিয়া কাজ শুরু করেছেন।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিজের ওপর হওয়া অত্যাচারের কথা বলতে গিয়ে আইএসআইএসকে দ্রুত শেষ করে দেওয়ার আপিল করেছেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নাদিয়া যখন তার ওপর হওয়া পাশবিক অত্যাচারের কথা বলছিল তখন ওখানে বসে থাকা লোকেদের চোখে জল এসেগিয়েছিল।

জঙ্গিদের আটকে থাকা 3200 ইয়াজিদি মহিলা ও মেয়েদের মুক্তির আহবান করেছেন। নাদিয়ার মতো আরও অনেক মহিলা যাঁরা আইএস-এর হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, তাঁদের পরিস্থিতি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে একটি মামলা করেন।

Popular on the Web

Discussions



  • Viral Stories

TY News