প্রিয় টিমের ফুটবল ম্যাচ চলার সময় বাঙালি যে ৫টি কুসংস্কার মেনে চলে

12:33 pm 15 May, 2016


বিশ্বকাপ ফুটবল। গোটা বিশ্বকে একসুতোয় গেঁথে ফেলে এই টুর্নামেন্ট। সে আপনি ব্রাজিলে থাকুন বা টেলিভিশনের সামনে, বিশ্বকাপ দেখার মতো মজা আর কোনও কিছুতেই নেই।

বিশ্বকাপের ঐতিহ্য, উন্মাদনা, আবেগ সবই আলাদা। ও হ্যাঁ, ফুটবল নিয়ে যখন কথা হচ্ছে, তারপর বিশ্বকাপ, সেখানে বাঙালি চুপ করে থাকতে পারে? কভি নেহি। ফুটবল বাঙালির রক্তে। ঘুমে? হ্যাঁ মশাই, বিশ্বকাপ চলার সময়কার ঘুমটা পরের মাসের জন্যে তোলা রইল। খাবার? ওহ, এটা করতে গিয়েই সময়ের দফারফা হয়ে যায়। কাজ? ওটা মশাই অফিসেই সেরে এসেছি।

খেলার সময় বাঙালি টেলিভিশনের সামনে থাকবে, বাদবাকি সব চুলোয় যাক। চলবে খেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করা। আর বাঙালিদের সঙ্গে খেলা দেখতে বসে তাদের সংস্কারগুলো না মানলে একটু সাবধানে থাকবেন।

বাঙালি অন্তর থেকে বিশ্বাস করে যে নিয়ম, আসলে অন্ধবিশ্বাস, এবার সেগুলো দেখা যাক:

1. সব জায়গাই গুনতিতে ধরা হবেঃ খেলোয়াড়দের জন্যে নয়, এটা আপনার জন্যে।

আপনি খেলা দেখছেন। হঠাতই একটা পোকা আপনার গায়ে এসে বসল। তারপরেই ফড়ফড়িয়ে উড়ে গেল। আপনি পোকাটার পিছু ধাওয়া করলেন। ঘরের অন্ধকার কোণে গিয়ে সেটাকে মেরেও দিলেন। কিন্তু এরমধ্যে যদি আপনার প্রিয় টিম গোল করে দেয় তাহলেই গেল!

আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন, ঘরের ওই অন্ধকার কোণ চিরদিনের জন্য আপনার হয়ে গেল। অর্থাত আপনার প্রিয় টিমের খেলা থাকলে, সে যখন, যেদিনই হোক না কেন আপনার জায়গা ঘরের ওই অন্ধকার কোণ। ওখান থেকে একটু নড়াচড়া করলেই ঘরের বাকিরা আপনাকে ছিঁড়ে খাবে। বাঙালিরা এসব জিনিস মনে রাখে। হতে পারে ওই অন্ধকার কোন ঘরের সবচেয়ে খারাপ জায়গা। হতে পারে সেখানে পাখার হাওয়া পৌঁছয় না, মশা কামড়ায় খুব। এমনকী অন্য কোথাও বসার জায়গা থাকলেও আপনাকে ওখানেই বসতে হবে। মানে যতক্ষণ খেলা চলছে আপনি ওখান থেকে নট নড়ন চড়ন, নট কিচ্ছু। এবং গোটা ব্যাপারটাই আপনি আনন্দের সঙ্গে করবেন। আর বাকি সব চুলোয় যাক।

2. সবচেয়ে ভালো হয় যদি সেই জামাটাই আবার পরেন।

আপনার প্রিয় দুই টিমের ম্যাচ চলাকালীন আপনি শুধু সেই জামাটি বের করে পরুন। যে জামাটা পরলে আপনার প্রিয় টিম জেতে। এই জামা পরাটা বুঝিয়ে দেয় আপনার প্রিয় টিমের জেতা – হারাটা খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করে না, করে জামার ওপর! ওই জামা কাচলেও চলবে না। দরকারে অন্যদের থেকে দূরে বসবেন। কিন্তু জামা কাচা যাবে না। একমাত্র জামা কাচা যেতে পারে প্রিয় টিম হেরে গেলে। এতে হয়তো আপনার পরিবারের লোকেরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন। তাতে কী? মনে রাখতে হবে প্রিয় টিমকে জেতানোর জন্যে ওই না কাচা জামা একদম দৈববাণীর মতো। ওই জামা পড়লে টিম জিতবে। ওই জামা না পরলে টিম হারবে। যাই হোক টিম হেরে গেলেও, ওই জামার দোষ ধরা যাবে না। সে চিরকাল তার আপন কর্তৃত্বে অধিষ্ঠিত থাকবে।


3. দয়া করে বাথরুমে ঢুকুন।

ম্যাচ চলাকালীন আপনি বাথরুমে গেছেন। আর সেইসময়েই আপনার প্রিয় টিম ভালো কিছু করল। আর যদি প্রমাণ হয়ে যায় যে আপনার বাথরুমে থাকাটা দলের পক্ষে শুভ, ব্যস হয়ে গেল। বাকি সময়টা আপনাকে বাথরুমেই কাটাতে হবে। ঘরের বাকিরা রীতিমতো পরীক্ষকের দৃষ্টিতে আপনার ওপর নজর রাখবে, যাতে আপনি বাথরুমেই থাকেন। আপনাকেও ওই বাথরুমের ভেতর থেকেই হাঁক – ডাক করে অন্যদের কাছ থেকে জানতে হবে খেলার কী হল। এবং শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আপনাকে ওখানেই থাকতে হবে। অবশ্য এমন অনেক ফুটবল পাগল আছে, এমন অবস্থায় নিজেরাই নিজেদের বাথরুমে বন্দী করে রাখবে, সে বাইরে যাই হোক না কেন। গোটা ব্যাপারটাই খুব খারাপ। তাই সবচেয়ে ভালো হয় যদি খেলা শুরুর অনেক আগেই আপনি বাথরুমের কাজটা সেরে রাখেন।

4. চলতেই থাকবে।

এক চুমুক জল খান। তৈরি থাকুন। আবার খান, আবার খান, আবার, আবার…। কিছু করার নেই। আপনি এক চুমুক জল খাবার সময় যদি টিম ভালো কিছু করে, তখন কী হবে? আপনাকে থেমে থেমে এক চুমুক করে জল খেয়ে যেতেই হবে। আর বাঙালি এ কাজ স্বেচ্ছায় ‘গলায়’ তুলে নেবে। এবং টিম জিততে থাকলে আর নিজে টিমের জন্যে পয়া গেলে আনন্দের সঙ্গে সে গ্যালন-গ্যালন জলে চুমুক দিতে পারে। হয়তো মেসি গোল করার রাস্তা খুঁজছে, রোনাল্ডোকে হয়ত খুব বাজে ভাবে ট্যাকল করা হল অথবা নেইমার হয়তো একটা দুরন্ত ড্রিবলে বলকে জালের পথ দেখিয়ে দিল। কিন্তু যে এই ম্যাচটা জেতার আসল কারিগর হিসেবে দাবি করে সে এখন বারবার বাথরুমে ছুটছে।

5. তুমি যাচ্ছ না কেন বল তো?

প্রয়োজনে একজন বাঙালি পুরুষ আনন্দের সঙ্গে সময় কাটিয়ে দিতে পারে। ধরুন খেলা চলছে। আর কোনও দরকারে ঠিক সেইসময়ই আপনাকে ঘরে ঢুকতে হল। এবার আপনার স্বামীর গরগরে মুখটা দেখুন। কী হয়েছে? আপনি ঢুকতেই আপনার স্বামীর প্রিয় টিমের কতখানি ক্ষতি হয়ে গেল জানেন! ম্যাচ চলাকালীন যদি আবার ঢোকেন, আর সত্যিই যদি সেইসময় টিম খারাপ খেলে, তাহলে আর দেখতে হবে না। আপনি যে টিমের পক্ষে অপয়া সেটা সঙ্গে সঙ্গে হাতে – নাতে প্রমাণ হয়ে যাবে। সে সবসময়ই আপনাকে ভালোবাসে, শুধুমাত্র খেলার সময়টুকু বাদ দিয়ে। তখন তার ধৈর্যের সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। ওই সময়টা তার কাছ আপনি নেমেসিস–এর মতো। সুতরাং একসঙ্গে আর খেলা দেখবেন না। তার প্রিয় টিম হারলেও সে একাই খেলা দেখুক। কিন্তু যদি উল্টোটা হয়! স্বামীর প্রিয় টিমের জন্যে আপনি যদি পয়া হোন তাহলে সোনায় সোহাগা। আপনাকে ধরে এনে টেলিভিশনের সামনে বসিয়ে দেবে। গোটা বিশ্বকাপ জুড়ে। তখন আপনার খাতির দেখে কে! সেই জায়গা, সেই পোষাক, সেই মানুষ, সেই ঘর, সেই টেলিভিশন। তবে ম্যাচ জিতিয়েছে কিন্তু ঠিক–ঠাক মেনে চলা ওই সংস্কারগুলো। সে আপনি মানুন আর নাই মানুন।

Popular on the Web

Discussions