ইস্টবেঙ্গল ও মোহন বাগানের ৫ আকর্ষণীয় তথ্যঃ কলকাতার সবচেয়ে শত্রুতাপূর্ণ ২ ক্লাব

2:11 pm 24 May, 2016


‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল’। মান্না দে–র এই গানটি বাঙালির প্রাণের কথা। আর বাঙালি মানেই কলকাতা। পুরোপুরি ফুটবল পাগল এই শহর।

এ সম্পর্কে আপনার বিশেষ ধারণা না থাকলে নজর দিন শহরের কোথায় ফুটবল টুর্নামেন্ট হচ্ছে। তবে যে কোনও ম্যাচ নয়। হতে হবে ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগানের মতো দুই মোক্ষম প্রতিপক্ষের ম্যাচ। যা গোটা শহরের শিরা–উপশিরায় ছড়িয়ে দেবে রোমাঞ্চ। ক্ষরণ হবে বাড়তি অ্যাড্রিনালিন। আর তখনই আপনি চাখতে পারবেন কলকাতার আসল ফুটবল উত্তেজনাকে।

ম্যাচের আগের দিন থেকেই খেলার আগাম ফলাফল নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে যায়। আর ম্যাচের দিন! লক্ষ্য করে দেখবেন সবাই তাদের প্রিয় টিমের জার্সি পরে চলেছে খেলা দেখতে। মুখে প্রিয় টিমের উদ্দেশ্যে নানা স্লোগান।

গোটা ব্যাপারটাই যেন একটা উত্সব। এখানে পাঁচটি তথ্য দেওয়া হল যা আপনাকে শহরের এই দুটি টিমকে নিয়ে মানুষের এমন পাগলামি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।

1. ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাবঃ বিজয় মালিয়ার মালিকানাধীন।

ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠা ১৯২০ সালে। এটি ভারতের অন্যতম নামকরা প্রতিষ্ঠিত ফুটবল ক্লাব। এদের ভাঁড়ারে রয়েছে ভারতের প্রায় সব নামী টুর্নামেন্টের খেতাব। কিংফিশার গ্রুপের চেয়ারপার্সন বিজয় মালিয়ার মালিকানাধীন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জার্সির রঙ লাল–হলুদ।

বহু বছর ধরে ইস্টবেঙ্গলের প্রধান প্রতিপক্ষ ক্লাব মোহনবাগান। কলকাতা ময়দানে এই দুটি টিমের ম্যাচ তাই পরিচিত ‘কলকাতা ডার্বি’ নামে। সরকারি ভাবে এই দুই টিমের ম্যাচ মানেই সল্টলেক স্টেডিয়াম।

2. মোহন বাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব: এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ফুটবল ক্লাব।

এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ফুটবল ক্লাব মোহন বাগান। ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। ইস্টবেঙ্গলের পরেই ভারতের সবচেয়ে সফল ক্লাব মোহন বাগান। তবে ঐতিহ্যে এ ক্লাব ভারতের অন্যান্য ক্লাবকে অনায়াসে পেছনে ফেলে দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোহন বাগানের এমন এক সাফল্য যা ভারতের অন্য কোনও ক্লাবের নেই। আর সেটা হল পরাধীন ভারতে ইস্ট ইয়র্কশায়ার নামের এক ইউরোপিয়ান টিমকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৯১১ সালে আই এফ এ শিল্ড চ্যাম্পিয়ান হওয়া। দেশ জুড়ে ইস্টবেঙ্গলের মতো মোহন বাগানেরও ফ্যান ক্লাবের ছড়াছড়ি।

3. এই দুই টিমের মোট অনুরাগীর সংখ্যা আকাশছোঁয়া,ভারতের যে কোনও ফুটবল ক্লাবের থেকে বেশি।

এই দুই টিমের অনুরাগীরা ফুটবল সম্পর্কে অসম্ভব আবেগপ্রবণ। ম্যাচে শুধু ফুটবলাররাই মাঠে খেলে না। গ্যালারিতে থাকা দুই টিমের অনুরাগীরাও ম্যাচের আঁচ ভাগ করে নেয়। ডার্বি ম্যাচ মানেই দুই টিমের সমর্থকরা নিজেদের প্রিয় ক্লাবের জার্সি চাপিয়ে মাঠমুখো। কখনও ম্যাটাডোরে করে এক ঝাঁক সমর্থক ম্যাচ দেখতে হাজির হয়।


মোহন বাগানের ফ্যান ক্লাব পরিচিত ‘সবুজ মেরুণ স্বপ্ন’ ও মোহন বাগান ক্লাব নামে। এই সব ফ্যান ক্লাবে হাজারেরও বেশি সদস্য আছে। ইস্টবেঙ্গলেরও এমন অনেক ফ্যান ক্লাব রয়েছে। ভারতের যে কোনও ফুটবল ক্লাবের থেকে এই দুই ক্লাবের মোট সমর্থক সংখ্যা হাজার গুণ বেশি।

4. কলকাতা ডার্বি ম্যাচঃ সবাই এটার দিকেই চেয়ে থাকে।

ফুটবল পাগল কলকাতাবাসী অধীর আগ্রহে ডার্বি ম্যাচের অপেক্ষায় থাকে। যেন একটা উত্সব। এমনিতেই কলকাতায় ফুটবলপ্রেমীর সংখ্যা কম নয়। তারওপর যখন তাদের প্রিয় দুটি টিম মাঠে নামে তখন সমস্ত উত্সাহ উদ্দীপনা ছাড়িয়ে যায়।

ইস্টবেঙ্গল ও মোহন বাগানের এই প্রতিদ্বন্ধিতা ছিয়াশি বছরের পুরনো এবং ফিফা লিস্টেও এই ম্যাচ অন্যতম ঐতিহ্যপূর্ণ ডার্বি। সল্টলেক স্টেডিয়ামে ১,২০,০০০ দর্শক একসঙ্গে বসে ম্যাচ দেখতে পারে। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার ডার্বি ম্যাচে একটি সিটও ফাঁকা থাকে না।

কাউন্টার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সব টিকিট শেষ। গ্যালারিতে সমর্থকরা তাদের প্রিয় টিমের জন্যে অসম্ভব আবেগপ্রবণ ও আগ্রাসী। তাদের সামলাতে পুলিশেরও কালঘাম ছুটে যায়। ডার্বি ম্যাচের আবেগ উত্তেজনার সঙ্গে একমাত্র বিশ্ব কাপের কোনও ম্যাচেরই তুলনা টানা যায়।

5. এই দুই শত্রু টিম কখনও বন্ধু হবে না: অন্তত সমর্থকরা হতে দেবে না।

কোনও বাঙালির কাছে এই দুই টিমের শত্রুতা কোনওদিন শেষ হবে না। এমনও দেখা গেছে, কোনও টুর্নামেন্টে ইস্টবেঙ্গল হেরে গেলেও যে কোনও ভাবে মোহন বাগানকে হারাতে পারলেই ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা খুশি। ঠিক একই ব্যাপার ঘটে মোহন বাগান সমর্থকদের মধ্যেও।

আইপিএল ক্রিকেট যা করতে পারেনি, ফুটবলে এই দুই ক্লাবের প্রতিদ্বন্ধিতা তা করে দেখিয়ে দিয়েছে অনেক আগেই। আপনি একমাত্র রিয়েল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনা ম্যাচের টানটান উত্তেজনার সঙ্গে এর তুলনা করতে পারেন। ব্যস, এর বেশি কিছু নয়।

Popular on the Web

Discussions



  • Co-Partner
    Viral Stories

TY News