বাঙালি মেয়ের সঙ্গে ডেটিং–এ গেলে ৭ টি জিনিস মাথায় গেঁথে নিতে হবে

1:48 pm 25 Apr, 2016


কোনো বাঙালি মেয়ের সঙ্গে ডেটিং–এ যাওয়া মোটেই সহজ কাজ নয়। রীতিমতো পরিশ্রমসাধ্য। প্রস্তুতিপর্ব ভালো না হলে মুশকিল। বাঙালি মেয়েদের কখনওই হালকা ভাবে নেওয়া চলবে না। চটুল ব্যবহার তো নয়ই। সিরিয়াস থাকতে হবে। নাহলেই সর্বনাশ! বাঙালি মেয়েদের অন্য রাজ্যের মেয়েদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে একইরকম ব্যবহার করলেই বিপদ। চটুল ব্যবহার বাঙালি মেয়েরা একদমই পছন্দ করে না। উল্টে বিরক্ত হয়। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বাংলা আলাদা, তার নিজস্ব ধ্যান–ধারণা আর বিশ্বাসে। সঙ্গে, নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি অগাধ গর্বের জন্যেই বাঙালিরা পরিচিত। তাই এসব খেয়াল রেখেই কোনো বাঙালি মেয়ের সঙ্গে ডেটিং–এ যাওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

‘পহলে দর্শনধারী/ পিছে গুণবিচারি।’ বাঙালি মেয়েরা এই প্রবাদ মনে–প্রাণে বিশ্বাস করে। তাই গোড়াতেই আপনার ‘দর্শন’ হোক ফাটাফাটি। মানে পোশাক–পরিচ্ছদ হতে হবে নজরকাড়া। যেন ওখানেই অর্ধ্বেক বাজি মেরে দেন। এর সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে ভালো সুগন্ধী। কারন, এটিও বাঙালি মেয়েদের পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকেই আছে। এখানে এমনই কিছু টিপ্স দেওয়া হল, যা কোনো বাঙালি মেয়ের সঙ্গে ডেটিং–এ গেলে আপনাকে খেয়াল রাখতেই হবে।

১. সবার আগে তার মতামতকে গুরুত্ব দিন

ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যই পিতৃতান্ত্রিক। কিন্তু বাংলাকে পুরোপুরি পিতৃতান্ত্রিক বলা যায় না। এখানে মেয়েরাও সমান গুরুত্ব পায়। তাদের মতামতকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়। মেয়েরা এখানে কিছুটা হলেও স্বাধীন। তাই বাঙালি মেয়ের সঙ্গে প্রেম করতে চাইলে তাকে নিজের মনের কথা মন খুলে বলতে দিন। নিজে শ্রোতার ভূমিকায় থেকে তার কথা মন দিয়ে শুনুন। তার কথার মাঝখানে নিজে কথা বলে খুঁচিয়ে ঘা করতে যাবেন না। তাকে ও তার কথাকে গুরুত্ব দিন। তবেই আপনি তার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পুরুষ হয়ে উঠবেন। নাহলে ফক্কা।

২. মেধাবী হওয়ার চেষ্টা করুন, অন্ততপক্ষে বুদ্ধিমান হোন

বাঙালিরা মেধাবী বলেই পরিচিত। সে ছেলেই হোক কিংবা মেয়ে। বাঙালি মেয়েরা তাদেরই পছন্দ করে যারা চলনে–বলনে, কথা–বার্তায় মেধাবী। বলা যায় মেধাবীরাই তাদের ঘিরে থাকে। এই বাধা ভেদ করতে হলে আপনাকেও যত বেশি সম্ভব কথাবার্তায় চৌকস হতে হবে। আর চাই রসবোধ। বাঙালি মেয়েরা রসিকতা পছন্দ করে। শ্রদ্ধা করে বললেও ভুল বলা হবে না। ঠিক জায়গায় যথাযথ রসিকতাটি লাগাতে পারলে আপনাকে আটকায় কে! তাহলে আর দেরি কেন! আমাদের সবারই মস্তিষ্ক আছে — এবার সময় এসেছে সেটা মেয়েদের ওপর প্রয়োগ করার।

৩. প্রকৃত সাহিত্যপ্রেমিক হয়ে উঠুন

যে কোনও বাঙালি মেয়েকে বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন? কিংবা জানতে চান, সে বই পড়তে ভালোবাসে কিনা? আনন্দে সে লাফিয়ে উঠবে। একজন বাঙালি মেয়ে সবসময় বই ভালোবাসে। সে চায় বইগুলো তাকে ঘিরে থাকুক। অবস্থা এমন যেন বই ছাড়া সে কিছুই জানে না। ক্লাসিক সাহিত্য হোক বা নতুন কোনও লেখা, উপন্যাস হোক কিংবা কবিতা, সবরকম বইই তার পছন্দ। তার মন জয় করার সেরা উপায় হল, বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে তাকে বই উপহার দেওয়া। আর সে যদি জানে আপনিও বই পড়তে ভালোবাসেন তাহলে তো পোয়াবারো। গলে জল তাকে হতেই হবে। কারণ, আপনার প্রিয় বইটার ঠাঁই তো আপনার প্রেমিকার লাইব্রেরিতেই হবে।

৪. বাঙালি মেয়েকে মাছ খেতে নিমন্ত্রণ করুন

প্রাচীন প্রবাদ — মাছে ভাতে বাঙালি। এ ক্ষেত্রে ছেলে–মেয়ে সমান। বাঙালি মেয়েরা তো যে কোনও সময়েই মাছ খেতে ভালোবাসে। তাদের মন জয় করার সবচেয়ে ভালো উপায় আপনি যদি এখনই বেশি-বেশি মাছ খাওয়া (যদি আপনি নিরামিষাশী হন) অভ্যাস করুন। নাহলে পুরো ব্যাপারটা তার ওপর ছেড়ে দিন। সে যতটা চায় ততটা মাছ খান (যদি আপনি নিরামিষ না খান)। খাবারের সঙ্গে মাছের কোনও পদ বাঙালি মেয়েদের চাই–ই। আর সেটা যদি ইলিশ, চিংড়ি বা অন্য কোনও লোভনীয় মাছ হয়, তাহলে তো কথাই নেই। কোনও বাঙালি মেয়ের সঙ্গে যখন ডেটিং–এ যাবেন তখন তাকে বাংলার কোনও সুস্বাদু মাছের পদ খাওয়ান। দিব্যি দিয়ে বলা যায়, সে আপনার।


৫. তাকে নাটক দেখাতে নিয়ে যান

শিল্পরসিক বাঙালি নাটক, থিয়েটার দেখতে ভালোবাসে। আর বাঙালি মেয়েরা তো সিনেমা, থিয়েটারের পোকা। আপনার সঙ্গিনীকে নিয়ে যান কোনও মাল্টিপ্লেক্সে। দেখিয়ে আনুন তার পছন্দের কোনও সিনেমা। ভালো লাগলে একই সিনেমা বারবার দেখতে কসুর করবে না সে। এবার যদি সে জানতে পারে আপনার মধ্যেও সেই শিল্পপ্রেমিক সিনেমা–রসিক ভাবটি আছে, তবে নিশ্চিন্তে থাকুন, সে আপনাকে ছেড়ে কোনওদিন যাবে না। আর হ্যাঁ, এ ব্যাপারটা যদি এখনও না ভেবে থাকেন, তবে সময় হয়েছে এবার ভাবুন।

৬. মাঝেসাঝে সুতির কুর্তা পড়ুন

বাঙালিরা কুর্তা–কে বলে ‘পাঞ্জাবী’। এটা বাঙালির নিজস্ব পোশাক। সাধারণ সুতির তৈরি, কিন্তু ঐতিহ্য চিরন্তন। পশ্চিমি পোশাকের থেকে পাঞ্জাবী –তে যে কাউকেই একটু বেশি সুন্দর লাগে। ‘সে’ যেন ‘সে’ নয়। একটু অন্যরকম। সঙ্গিনীর সঙ্গে পুজোতে বা মন্দিরে গেলে অবশ্যই পাঞ্জাবী পরুন। সে চমকে যাবেই। আর এরপর থেকে আপনি পাঞ্জাবী আর সঙ্গিনী দু’জনকেই আজীবন ভালোবাসবেন।

৭. মিষ্টি সঙ্গিনীকে মাঝেমাঝেই মিষ্টি খাওয়ান

বাঙালি মেয়ের সঙ্গে প্রেম করছেন আর তাকে এখনও মিষ্টি খাওয়াননি? এ ঘোরতর অপরাধ! এরকম চললে সঙ্গিনী আপনার থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিতে বেশি সময় নেবে না বাঙালি শুধু মিষ্টি ভালোবাসে তাই নয়, এ তার প্রাণের শান্তি আত্মার আরাম। দিনে অন্তত একখানা মিষ্টি তার চাই। সেটাই তাকে সারাদিন খুশিতে রাখবে।

রসগোল্লা, সন্দেশ, ভাজা–মিষ্টি, জিলিপি, রাবড়ি, মিষ্টি দই, পান্তুয়া, ল্যাংচা — মিষ্টির নামের লিস্ট শেষ হবে না। আপনি হয়তো অনেক মিষ্টির নামই শোনেননি। কুছ পরোয়া নেহি। আপনি শুধু কোথাও খেতে গিয়ে মিষ্টির ব্যাপারটা তার সামনে তুলুন। তারপর দেখুন ম্যাজিকটা।

Popular on the Web

Discussions