নার্সিংহোমে শিশু পাচার চক্র, নার্সিংহোমে বিস্কুটের পেটির মধ্যে উদ্ধার দুই শিশু

4:44 pm 24 Nov, 2016


বাদুড়িয়ার শিশু পাচার চক্রের মুল চক্রী উত্তর চব্বিশ পরগণার মছলন্দপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্হা। স্কুলের আড়ালে চলতো শিশুর জন্ম ও পাচারের কারবার। তল্লাসির পর সংস্হা সিল করে দিয়েছেন গোয়েন্দারা।

শিশু পাচারের জাল কলকাতা নার্সিংহোমেও। সোমবার উত্তর চব্বিশ পরগণার বাদুড়িয়ার সোহান নার্সিংহোমে তল্লাশি চালিয়ে তিন সদ্যজাতকে উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার করা হয় নাজমা সহ আটজনকে। সি-আইডি-গোয়েন্দাদের হাতে যে তথ্য উঠে এসছে তার থেকে এটা পরিস্কার যে কলকাতা সহ বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে আছে এই চক্রের জাল।

ধৃতদের জেরা করে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে গোয়েন্দাদের চিন্তায় ফেলেছে। তিনটি নার্সিংহোম থেকে পাচার করা হয়েছে 100 র বেশি শিশু।

সিআইডি সূত্রে খবর, কলেজ স্ট্রীটের শ্রী কৃষ্ণ নার্সিংহোম থেকে পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে দেবযানী এবং বেহালার সাউথ ভিউ নার্সিংহোম অ্যান্ড মেটারনিটি ক্লিনিক থেকে পুতুল বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বড়দি ও প্রভা প্রামাণিক ওরফে মেজদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দমদমের বাসিন্দা সন্তোষকুমার সামন্তকে। তাদের জেরা করে আরও চার-পাঁচটি নার্সিংহোমের নাম উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বাদুড়িয়া নার্সিংহোমের মতো কলকাতার অন্যান্য নার্সিংহোমে একই কৌশলে গায়েব করা হতো শিশুদের। জন্মের পর তাদের বাড়ির লোকদের বলা হতো মৃত শিশুর জন্ম হয়েছে। তারপর সেই শিশুদের নাজমার মাধ্যমে দেশে-বিদেশে বিক্রি করা হতো।

বাদুড়িয়ার বাগজোলায় যদুরআটিতে নাজমা ও তার স্বামী বাকবুল বৈদ্যের বিশাল বাড়িতে ছিল এই ক্লিনিক। বাকবুর কংগ্রেসের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য। এই ক্লিনিকে মেয়েদের গর্ভপাত করানো হতো। দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের প্রসব করানো হতো। তারপর তাদের জানানো হতো সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। সদ্যজাত শিশু ছাড়াও পথচারী শিশুদেরও পাচার করা হতো। নাজমাকে জেরা করে গোয়েন্দারা জেনেছেন কোনও শিশু দুই লক্ষ টাকায় বিক্রি হলে তিনি পেতেন 15 হাজার টাকা।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন,এই পাচার চক্রের সাথে যুক্ত বেহালা নার্সিংহোমের দু-তিনজন চিকিত্সকের নাম পেয়েছেন। তারা আরজিকর হাসপাতালের একজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিত্সকেরও নাম উঠে এসেছে এখানে। তাদের খোঁজেও তল্লাসি চলছে।

Discussions