বাঙালিকে চেনা কোনও শক্ত কাজ নয়, খুবই সহজ; এই হল ১৮টি উপায়

3:20 pm 28 Apr, 2016


বিশ্বায়ন ঘটেছে। সঙ্গে বাঙালিরও। পৃথিবীর যে কোনও প্রান্ত খোঁজা হোক, বাঙালির দেখা মিলবেই। আসুন চিনে নিই বাঙালির বৈশিষ্ট্যগুলি। পৃথিবীর কোথায় বাঙালি খুঁজতে যাবেন, সেটা ব্যাপার নয়। কারণ, যেখানেই যান বাঙালির সঙ্গে আপনার মোলাকাত হবেই। সে আপনার কাজের জায়গা হোক বা বেড়াবার জায়গা। আপনার বাঙালি ‘দর্শন’ নিশ্চিত। আর বাঙালি চেনা কোনও শক্ত কাজ নয়। খুবই সহজ। কারণ, আমাদের মতো তারাও বেড়াতে যতটা ভালোবাসে, বাড়ির পরিবেশকে ততটাই চোখে হারায়।

1. ব্যাপারটা অনেক দিনের। প্রায় ক্লিশে। তবুও বাইরে কোথাও গেলে খাবার বগলদাবা করে নিয়ে যাওয়া চাই বাঙালির।

না মশাই, শুধু মাছের কথা বলছি না।পরপর খাসির মাংস কিংবা হাঁসের ডিমের দোকান বাঙালি মহল্লা ছাড়া আপনি আর কোথায় পাবেন শুনি?

2. ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র বিশেষ ‘রবিবাসরীয়’ ক্রোড়পত্র ছাড়া রবিবারকে ঠিক রবিবার বলে মানায় না।

একঘেয়ে লাগতে পারে। তবু আপনাকে পড়তেই হবে।

3. আমরা কিপটে বইকি!

১০ টাকায় ৫ টা ফুচকা, জিভে লেগে থাকা একটা এগ চিকেন রোল ৩০ টাকা, সপ্তাহান্তে মন্দারমণি মাথাপিছু ৫ হাজার টাকা। মন্দ কী! একটু ভালো সময় কাটানোর জন্যে হাজার-হাজার টাকা খরচ করতে কে আর চায়!

4. ভাপা ইলিশ আর চিংড়ি মাছের মালাইকারি – এই দুই সুস্বাদু পদে না বলার সাহস আছে!

5. চারদিকে পানিপুরি আর গোলগাপ্পার স্টল। এর মধ্যে টক – ঝাল ফুচকার লোভনীয় স্বাদের জন্য নাল ঝরে!

6. চলো বন্ধুরা, একঘেয়েমি কাটিয়ে একটু ‘পার্টি’ হোক।

বাঙালির ‘রোয়াকের আড্ডা’ কোনওদিন বন্ধ হবে না। এর স্বাদই আলাদা। আর ‘রোয়াকের আড্ডা’ মানেই বন্ধুদের সঙ্গে প্রাণখোলা হাসি–ঠাট্টা–ইয়ার্কি। তর্ক–বিতর্কও হয় বিস্তর। তবে হ্যাঁ, আড্ডার জন্যে বন্ধু হওয়া চাই মনের মতো।

7. সেই একান্নবর্তী পরিবার আজ ভেঙে গেছে। এজন্যে খারাপ লাগে। কিন্তু হঠাত করে অল্প সময়ের মধ্যে পরিবারের সবার একসঙ্গে হওয়াটাও কম আনন্দের নয়।

আমরা একটু বেশিই স্পর্শকাতর, ঠিক – কিছু করার নেই।

8. পরিবারের সবাই মিলে পিকনিক ছাড়া আবার শীত কাল মানায় নাকি!

কিংবা একসঙ্গে পৌষমেলায় শান্তিনিকেতন ঘুরে আসা।

9. এবং অবশ্যই পিঠে–পাটিসাপটা।

আর এ ব্যাপারে কোনও কথা হবে না।

10. সবচেয়ে অস্বস্তিকর মুহূর্ত হল ‘এক দর’। মানে যখন ছাপা দামেই কোনও বই কিনতে হয়।

এইসব সময়ে কলেজ স্ট্রিটের অভাব বোঝা যায়। কেন? আপনি যে কোনও সময়ে নতুন বই কিনুন। সবসময় ৩০ শতাংশ ছাড় আপনার জন্যে বাঁধা।


11. অন্ততপক্ষে প্রতি রবিবার রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনা।

অথবা যদি চান শুনতে পারেন বাংলা রক ব্যান্ড। ব্যস, আপনার রবিবার জমে ক্ষীর।

12. দুর্গাপুজোর ভিড় অনেকেরই অপছন্দ। তাই বলে এর থেকে দূরে থাকতে পারবেন না আপনি।

পুজোর ছুতোয় প্রেমিকার সঙ্গে পরপর চার দিন (বেশিও হতে পারে) একান্তে সময় কাটানোর এমন রোম্যান্টিক মুহূর্ত কোন বুদ্ধু হাতছাড়া করতে চায়!

13. পার্ক স্ট্রিটের বিভিন্ন আমেজ। তবু ক্রিসমাস ডে – র আলো ঝলমলে পার্ক স্ট্রিট নিজের গুণে অনন্য।

সন্ধ্যের অনুষ্ঠান তো আছেই। সঙ্গে সারা রাত হুল্লোড়ের মজাই আলাদা।

14. বইমেলায় না গিয়ে থাকতে পারবেন?

হতে পারে আপনি পড়ুয়া নন। বইপোকা তো নয়ই। কিন্তু মনের মেঘলা ভাব কাটাতে মেলা চলাকালীন অন্তত দু’ঘন্টা আপনাকে বইমেলায় কাটাতেই হবে।

15. কলেজ কেটে গঙ্গার বুকে বোটে করে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটানোর দিনগুলো মনে পড়ে?

আর আউট্রাম ঘাটে পাওভাজি খেয়েই আইসক্রিম খাওয়ার স্বাদের মুগ্ধতা – এই তো জীবন।

16. বন্ধুদের বার – বি – কিউ কিংবা ওলি পাবে খাওয়াতে কেমন লাগবে?

কিছু জিনিসের আকর্ষণ কোনওদিন কমে না। সত্যি।

17. দুর্গাপুজোর ভাসানের সেই উদ্দাম নাচে আবার পা মেলাতে ইচ্ছে করে না?

হ্যাঁ, আমাদের জিজ্ঞাসা করুন। আমরা আপনাকে বাতলে দেব গোমড়ামুখো বয়স্ক মানুষও কীভাবে চ্যাংড়া ছেলে হয়ে যায়।

18. ‘নন্টে – ফন্টে’, ‘হাঁদা – ভোঁদা’, ‘বাঁটুল দি গ্রেট’ – এর মতো মজাদার আর রোমহর্ষক কমিকস এড়িয়ে কেউ কোনওদিন বড় হয়েছে?

আহ, প্রাণ জুড়োনো শৈশবের সারল্য।

Popular on the Web

Discussions



  • Co-Partner
    Viral Stories

TY News