যেসব বাঙালির মাছে রুচি নেই, তাদের ১০ টি অসুবিধা

3:05 pm 28 Apr, 2016


মাছে – ভাতে বাঙালি। এ তো প্রাচীন প্রবাদ। এবং খাঁটি নির্জলা সত্য। ৯৯ শতাংশ বাঙালির পাতে মাছ না থাকলে তাদের খেয়ে তৃপ্তি হয় না। এদের জীবন ‘মাছ – ময়’। আর বাকি ১ শতাংশ বাঙালির জীবনে মাছ আর মিষ্টি ছাড়া কিছুই নেই।

কেন জানুনঃ

1. মা প্রতি পদে-পদে আপনাকে মনে করিয়ে দেবেন যে, কত খেটেখুটে, কত কষ্টে আপনার জন্যে তিনি খাবার রান্না করে দিচ্ছেন।

যে বিশাল কাজ তিনি প্রতিদিন আপনার জন্যে করে যাচ্ছেন, আপনাকে কমেন্ট্রির ঢঙে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা শুনিয়ে যাবেন তিনি। সঙ্গে মনে করিয়ে দেবেন তাঁর জন্য আপনার জীবন ধন্য হয়ে গেছে। কিন্তু যেদিন তাঁর মেজাজ খারাপ সেদিনই কেলো। জোর করে তখন আপনাকে মাছের ঝোল – ভাত খাওয়াবেনই। সঙ্গে শুনিয়েও দেবেন যে, সংসারের সবার রান্না করে তারপর তিনি আপনার মুখের গোড়ায় খাবার ধরছেন। এমন দিনে ভগবানই আপনার সহায় হোন।

2. এই বুঝি উপযুক্ত খাদ্যের অভাবে আপনার শরীরে অপুষ্টি বাসা বাঁধল। এই নিয়ে ঠাকুমা/দিদিমা – দের চিন্তায় ঘুম নেই।

তাঁদের কাছে, মাছ অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। আর সেই মাছ না খেয়ে কী করে হতভাগ্য নাতি/নাতনিরা এই কঠিন জীবন যুদ্ধে যুঝবে?!

3. নিমন্ত্রণ মানেই খাবারের থেকে বিনিমাগনায় জ্ঞান জুটবে বেশি।

মোটামুটি আপনার সব আত্মীয়ই নিজেদের খাদ্য বিশেষজ্ঞ বা ডায়াটেশিয়ান হিসেবে দাবি করেন। এতে আপত্তি নেই। কিন্তু ঝামেলা হল আপনি না বুঝতে চাইলেও তাঁরা আপনাকে মাছের পুষ্টিগত গুণাগুণ বুঝিয়েই ছাড়বেন। এবং এ ব্যাপারে কিন্তু কোনও রকম অস্ত্র ছুঁড়তে তাঁরা কসুর করবেন না।

4. কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে সব মায়েরা একসঙ্গে জড়ো হলেন। ব্যস, শুরু হয়ে গেল আপনার আত্মীয় – স্বজনের শিশুদের সঙ্গে আপনার বেড়ে ওঠার চুলচেরা বিচার–বিশ্লেষণ।

আপনিই যত নষ্টের গোড়া!

5. এবং শেষ পর্যন্ত কিছু বুঝে ওঠার আগেই আপনি পরিবারের হাসি – ঠাট্টার খোরাক হয়ে ওঠেন।

আপনার বেশিরভাগ ভাই – বোনেরাই আপনার থেকে অনেক তাড়াতাড়ি মাছের কাঁটা বেছে ফেলতে পারে। সেজন্য তারা যথেষ্ট গর্বিত। তার কারণও আছে। আপনি মাছ খাবেন না বলার আগেই তারা মাছের কাঁটা বেছে ফেলে।

giphy


6. বেড়ে উঠুন। বাজার করাও একটা শিল্প। নাহলে সারা বছর ধরে অনভিজ্ঞ বাজাড়ু হিসেবে খোঁটা শুনতে হবে আপনাকে।

খোলা বাজার এখন প্রায় উঠে গেছে। বদলে এসেছে আধুনিক মল। কিন্তু বাঙালির কাছে, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের মল – এ বাজার করা পোষায় না। কারণ খোলা বাজারের মতো এখানে দরদাম করা যায় না। অথচ বয়স্কদের এই দরদামেই সুখ। উবু হয়ে বসে টিপে – টুপে পটল, উচ্ছে বেছে দরদাম করে বাজার করতেই তাঁরা ভালোবাসেন। তা বলে এই নয় যে তাদের কাছে মল – এর জিনিসের দাম দেওয়ার মতো টাকা নেই। অবশ্যই আছে। কিন্তু দরদাম তাঁদের করতেই হবে। এটা শুধু তাঁদের শখ নয় বরং আবেগ, অভ্যাস, ভালোবাসা। কিন্তু আজকের প্রজন্ম দরদামে মোটেই দড় নয়। দরদাম ব্যাপারটাই তাদের কাছে ফালতু। বরং খোলা বাজারে মাছের হাটে আঁশটে গন্ধ আপনাকে বিরক্তই করবে।

7. আপনার মধ্যে সংসার চালানোর গুণাগুণ আছে কি না, থাকলে কতটা, এ ব্যাপারে মতামত দিতে সবাই এক পায়ে খাড়া।

মানুষের জানা যত রকম মাছের খাবার আছে তা জেনে রাখাই বিবাহিত জীবনের প্রথম শর্ত।

8. প্রার্থনা করুন যাতে টিপিক্যাল বাঙালি পরিবারে আপনাকে বিয়ে করতে না হয়।

অনেক বাড়িতে দুপুরের খাবারে প্রতিদিন শুধু মাছের ঝোলই হয়। এবং অনেক বাড়িই আছে যেখানে বৌমা – কে বাড়ির রাঁধুনির বেশি কিছু মনে করা হয় না। সেইসব মেয়েদের কাছে বিয়ের বয়সটা দুঃস্বপ্ন। এইসব সময়েই প্রাক্তণ প্রেমিকের কথা মনে পড়ে। তার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে দেবার জন্য দুঃখ হয়।

9. যদি আপনার সন্তান ‘মাছ – ময়’ হয়ে থাকে তবে নিশ্চিত শেষ পর্যন্ত আপনি মা’য়ের কষ্টটা বুঝতে শুরু করবেন।

সাধারণত ঘটে না! তবু আপনার ভাগ্যেই যদি মনের মতো সঙ্গী বা সঙ্গিনী জোটে তাহলে কেয়া বাত। সঙ্গে যদি সহ্য ক্ষমতা আছে এমন একটা পরিবার পান তাহলে সোনায় সোহাগা। কিন্তু আপনার সন্তানেরা যদি টিপিক্যাল বাঙালি স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে যায় আপনি কি তাকে তার প্রিয় খাবার থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন?

10. শেষ পর্যন্ত আপনি যথার্থ অভিভাবক হয়েছেন। এবং নাম না জানা রকমারি সব পদ খাইয়ে আপনার সন্তানের বন্ধুদের কাছে ঈর্ষার পাত্র হয়ে উঠেছেন।

আপনার ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটির ইতিহাসে ৯০ শতাংশ সুষম খাদ্যের পদই পুরোপুরি ‘মাছ ছাড়া’। এখন থেকে সেইসব পদ রান্না করুন। দেখবেন, কিছুদিনের মধ্যেই আপনি আপনার সন্তান ও তার বন্ধুদের কাছে হয়ে উঠেছেন সেরা রাঁধুনি।

Popular on the Web

Discussions



  • Viral Stories

TY News