বাঙালিদের সম্পর্কে ১৬ টি ধ্যান ধারণা, আপনি জানেন কি ?

10:39 am 25 Apr, 2016


বলিউড হামেসাই কলকাতাকে মিত্রভাবাপন্ন শহর হিসাবেই তুলে ধরেছে, যেখানে মেয়েরা বিশালাক্ষির অধিকারী ও কর্মস্থলেও কপালে একটি বড় সিঁদুরের টিপ, পরনে আঠ পৌড়ে শাড়ী পরে সারাদিন কাটায় অন্যদিকে যেখানকার ছেলেদের ইংরাজি ও হিন্দিতে কথা বলতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়, অথচ তারাই সবচেয়ে মার্জিত এবং উপকারী হয়। এই শহরের সবাই যেন মাছ ও ফুটবল ভালবাসে আর হাওড়া ব্রিজ-এর নিকটে বসবাস করে।

যাক, সত্যি কথা বলতে আমরা ভীষণ রকমের পূর্বপরিকল্পিত ধ্যান ধারণা নিয়ে বসবাস করি এই দেশে- তার কারন হলো:

১. এমন কোনো মানে নেই যে সারা পৃথিবীর সব বাঙালি-ই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হবে।

আমাদের সারা দেশ জুড়ে বাঙালি জাতির অবস্থান। আমাদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশ এবং উত্তর-পূর্ব রাজ্য যেমন ত্রিপুরা, শিলচর, গুয়াহাটি-এর আদি বাসিন্দা এবং এরাও ততটাই বাঙালি যতটা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা।

২. আমরা সবাই কিন্তু চিরাচরিত বাংলায় কথা বলি না

ভিন্ন স্থানের বাঙালিরা তাদের স্থানীয় বাংলা ভাষায় কথা বলে আর তাদের বাংলা চিরাচরিত বাংলা ভাষার থেকে একটু ভিন্ন।

৩. এতএব আমরা সবাই বাধাধরা বাঙালি রূপের অধিকারী নই।

‘বাঙালি মেয়ে মানেই বড় বড় চোখ’ এই গতানুগতিক ধ্যান ধারণা ত্যাগ করার এই হলো উপযুক্ত সময়!

৪. না আমাদের সকলের খাদ্যরুচি সমান নয়

পৃথিবীব্যাপী বাঙালিরা, যাদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মের প্রয়োজন অন্য রাজ্য কিম্বা অন্য দেশে যেতে বাধ্য করেছে, তাদের কাছে মিষ্টি দই আর মাছের চেয়ে চকলেট কেক অথবা শুকরের মাংসের কাবাব বেশি প্রিয় হতেই পারে। তেমনি কলকাতা বাসী হয়েও কারো কারো জন্ম থেকে মাছে অরুচি থাকতেই পারে, এটা সবার ভিন্ন পছন্দের প্রতিফলন, ঠিক কিনা?

৫. যখন ব্যক্তিগত পছন্দের কথা উঠলই সেখানে আরো কিছু বলে রাখা দরকার

আপনার সমগোষ্ঠীয় বন্ধুমহলের সাথে কি আপনার পছন্দ সর্বদা খাপ খায়? এবং সেই একই কারণে আপনার একটি বাঙালি বন্ধু আমোদ-প্রমোদের থেকে বই পড়া বেশি পছন্দ করে মানে এই না যে সব বাঙালিই সেরকম। সত্যতা যাচাই করতে হলে কলকাতার যেকোনো পানশালায় ঘুরে দেখে আসুন, সেগুলি এতটাই আল্হাদিত লোকে পরিপূর্ণ যে তা যেকোনো দিল্লির পানশালা কে টক্কর দিতে পারবে। পাশ্চাত্য সঙ্গীত ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের ক্ষেত্রেও এই চিত্রটি আলাদা নয়।

৬. “যেসব বাঙালিরা ফুটবল পছন্দ করেনা, তাদের কখনই বিশ্বাস করা উচিত নয়” সত্যি?

এসব কথার কোনো মানে হয়! আমাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যাদের কাছে ইস্টবেঙ্গল র মোহনবাগান-ই সব ধ্যান-জ্ঞান কিন্তু অনেকেই এইসব ব্যাপারে খুব একটা গা করেন না।

৭. “সচিন বনাম সৌরভ” এর বাধাধরা তর্ক বিতর্কে নির্দিষ্ট একজনই জিতবে এমনটা অনুমান করা বরই কঠিন।

সমগোত্রীয় ভাবাবেগ কে দুরে রেখে কারোর ভিন্ন পছন্দ থাকা বা প্রতিভা যাচাই-এর ভিন্ন অভিমত থাকা, তাকে কখনই বাকিদের থেকে আলাদা করে দেয় না। পুনশ্চ: তবে এটা কখনই অস্বীকার করছি না যে আমরা অনেকেই সৌরভ গাঙ্গুলী-এর প্রতি একটু বেশি-ই আবেগপ্রবন।

৮. প্রেসিডেন্সি, যাদবপুর ও কলকাতা বিশ্যবিদ্যালয় এর ছাত্র মানেই যে ঝোলা কাধে করে ঘুরে বেড়াবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

বাধাধরা চিন্তাভাবনার চরম নিদর্শন হলো এটি, আসুন কলেজ চত্তরগুলোতে একবার ঘুরে, মনের সংসয় দুর করে যান।


৯. ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও হাওড়া ব্রিজ বাদেও কলকাতায় অনেক কিছু দর্শনীয় স্থান আছে।

১০. এবং সবশেষে বাঙালি মানেই তারা বাংলা স্বরভঙ্গিতে হিন্দি/ইংরিজি উচ্চারণ করে না।

সুস্মিতা সেন, বিপাশা বসু, প্রনয় রায়, অমর্ত্য সেন সকলেই বাংলায় জন্ম নিয়েছেন এবং তাদের শৈশবকাল এখানেই কাটিয়েছেন।

১১. না, সব বাঙালি সর্বক্ষণ তাদের ঝোলাতে বোরোলিন এর কৌটো নিয়ে ঘোরে না।

(যখন কিনা এমন ক্রিম আবিষ্কৃত হয়ে গেছে যা আর চটচট করে না।)

১২. বাঙালি মেয়েরা পাশ্চাত্য পোশাক ও সালোয়ার কামিজ পড়তে ততটাই ভালবাসে যতটা তারা শাড়ী পড়তে ভালবাসে।

তাকে প্রথমটাতে বেশি ভালো দেখতে লাগতেই পারে।

১৩. এটি কোনো ধ্রুব সত্য নয় যে সব দিল্লিবাসী বাঙালিরাই সি.আর.পার্ক -এই বসবাস করবে।

১৪. যদিও আমাদের খাদ্যাভাসকে গতানুগতিক ধারায় তুলে ধরা হয়, বাস্তবে অনেকেই কিন্তু খাবার-এর উপর নিয়ন্ত্রণ রাখে আর তারা তাদের এই নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস সবার কাছে রটিয়ে বেরোয় না।

১৫. যদিও বেশিরভাগ বাঙালি বাবারা ‘Vicky Donor’ এর Ashima-এর বাবার মত শান্ত প্রকৃতির হয়, তবে ‘DDLJ’-এর ‘Baldev Singh’ এর মতো বাবাও কিন্তু বাংলায় বিরল নয়।

১৬. সর্বশেষে সব বাঙালির শখ-ই কবিতা লেখা ও পড়া নয়। অনেক বাঙালিই পদ্যতে বিরক্তি বোধ করে।

আমরা একবিংশ শতকের মানুষ। আমাদের কাছে গতানুগতিক রীতি-রেওয়াজ শুধু মাত্র অযাচিত নয় অনাবশ্যক ও। নিজের ভিন্ন রুচি ও পছন্দকে স্বাগত করার মধ্যে অপরাধ কিছুই নেই। নিত্য ধ্যান ধারণার থেকে আলাদা হওয়া কখনই আপনাকে সমাজের কাছে পাপী করে তোলে না।

বাস্তবে এটি সৃজনশীল ও ভিন্ন মানসিকতার পরিচয় যাতে আপনার টিকে থাকা উচিত।

Popular on the Web

Discussions



  • Co-Partner
    Viral Stories

TY News