কলকাতায় 15টি মজাদার করণীয় কাজ

3:50 pm 18 May, 2016


কলকাতাকে লোকে জানে তার উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য। সেই কারণেই তো কলকাতাকে বলা হয় “পূর্বের প্যারিস”। ভারতের বাকি শহরের তুলনায় কলকাতার একটা আলাদাই ঐশ্বর্য আছে। কলকাতার সংস্কৃতি, খাবার, মন্দির, ক্যাথিড্রালস, স্তম্ভ, বাজার – সবেতেই যেন একটা পুরনো দিনের গন্ধ লেগে।

কলকাতা ভারতের বৃহত্তম মেট্রো শহরের মধ্যে একটা এবং অত্যন্ত জনবহূল, কিন্তু সেটাই তো আমাদেরকে আরো বেশী করে কারণ দেয় কলকাতায় এসে এই সব জিনিসে মেতে তার মজা উপভোগ করতে। এইখানে ১৫টা সেইরকম জিনিসের একটা তালিকা দেওয়া হলো যা কলকাতায় আসলে অবশ্যই করা উচিত।

1. মার্বেল প্রাসাদের চাকচিক্য দেখে নিজেকে মুগ্ধ করা।

১৮৩৫-এ রাজা রাজেন্দ্র মল্লিকের দ্বারা তৈরী মার্বেল প্যালেস কলকাতার সর্বাধিক আকর্ষনীয় স্মৃতিস্তম্ভর মধ্যে থেকে একটা। প্যালেসটি ১০০র চেয়েও বেশী রকমের মার্বেল দিয়ে তৈরী আর ব্রিটিশ রাজ কালের বিভিন্ন ধরনের উত্কৃষ্ট পূরাতন জিনিসপত্র আর আসবাবপত্র এইখানে রাখা আছে।

2. ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে বসে গানের তালে নাচতে থাকা ফোয়ারা দেখা।

প্রত্যেক সন্ধ্যাবেলা ৭টার সময় যখন গানের তালে ঝরনা গুলো নেচে ওঠে, তখন গোটা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে আলো ও সুরের মেলবন্ধনে এক অপরূপ দৃশ্য ফুটে ওঠে।

3. অসাধারণ সাইন্স সিটিতে ঘুরতে যাওয়া।

কলকাতায় ভারতের সব থেকে বড় সাইন্স সিটি অবস্থিত যেইখানে অনেক লোভনীয় জিনিস আছে যেমন স্পেস ওডেসি, ডায়নামোশন, ডায়নোসরাসের মূর্তি দিয়ে তৈরী কৃত্রিম গুহা এবং জীবন বিজ্ঞানের জন্য সংগ্রহিত জায়গা, সাইন্স পার্ক, টয় ট্রেন এবং রোপওয়ে।

4. নিক্কো পার্ক-এ ঘুরে বেড়ানো।

কলকাতার ডিস্নি ল্যান্ড হিসাবে বিখ্যাত নিক্কো পার্ক, এইখানে সকলের জন্যই কিছু না কিছু আছে। প্রচুর আনন্দদায়ক যান, একটা সুন্দর লেক এবং একটি বিরাট খাদ্যশালা, আপনি অনায়াসে এখানে সারাটাদিন কাটিয়ে দিতে পারবেন।

5. বিখ্যাত সল্টলেকে নৌকা ভ্রমণ করা।

মূল শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে, স্বপরিবারে বনভোজন করার মত উপযুক্ত জায়গা সল্টলেকে। ৪০০ একরের বেশি জায়গা নিয়ে তৈরী এই লেকেতে বিভিন্ন ধরনের নৌকা ভ্রমনের ব্যবস্থা আছে যা এইটাকে পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের সাথে ঘুরে আসার মত উপযুক্ত স্থান করে তুলেছে।

6. কলকাতায় ইন্ডিয়ান বোটানিক্যাল গার্ডেনকে ভালো করে জানা।

কলকাতার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক মিনার দেখতে-দেখতে যদি বিরক্ত হয়ে যান, তাহলে শান্তিপূর্ণ ভাবে ইন্ডিয়ান বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঢূ মেরে আসা যায় বটে। এই জায়গাটি যেন এক প্রাকৃতিক বিশ্বকোষ পৃথিবীর সব ধরনের গাছ, পাতা আর ফুলের।

7. ইঁদুরের কলোনী তে ঘুরে আসা।

কেননা ইঁদুরকে গনেশ ঠাকুরের বাহন বলে মনে করা হয়ে, তাই ইঁদুরদের এই কলোনিটা তাদের জন্য সংরক্ষণ করা একটি পার্ক। লোকেরা এইখানে এসে খোলাখুলি ভাবে ইঁদুরদের খাওয়ায়, আর ইঁদুরদের কাছে যেন এটা এক বনভোজন-এর জায়গা।

8. নিউ মার্কেটের সেই বিখ্যাত দরকষাকষি।

ঐতিহাসিক লিন্ডসে স্ট্রিটে অবস্থিত, নিউ মার্কেট একটি জনপ্রিয় বাজার যেইখানে সকলের জন্যই কিছু না কিছু আছে। বাজারটি প্রকান্ড এবং বিভিন্ন ধরনের জনপ্রিয় খাবারের, গয়নার আর জামাকাপড়ের দোকান আছে এইখানে।


9. বড় বাজারে কেনাকাটা।

কলকাতার চাঁদনী চক হিসাকে বিখ্যাত, বড় বাজারে সব চাহিদার অবসান হয়। তাছাড়া, বাজারের দাম গুলোও ঠিকঠাক এবং রকমারি জিনিস থেকে পছন্দ করা যায়।

10. এশিয়ান খাবার খেয়ে তৃপ্ত কন্ঠে বলুন ওহ! ক্যালকাটা।

বাংলার বিভিন্ন রকমের লোভনীয় খাওয়ারের স্বাদ পেতে হলে ওহ! ক্যালকাটার থেকে ভালো জায়গা আর হয় না। ধনী বাঙালিরা এইখানকার সাবেকি পরিবেশ পছন্দ করেন।

11. কলকাতায় মেক্সিকান আর ইতালীয় স্বাদ চাকন করা।

পৃথিবীর সব রকমের মুখরোচক স্বাদ আপনি কলকাতায় উপভোগ করতে পারেন। কিন্তু সব থেকে ভালো মেক্সিকান আর ইতালিয়ান খাবারের স্বাদ আপনি যথাক্রমে আমিগোস আর ফায়ার এন্ড আইস-এ পেতে বাধ্য।

12. সাউথ পার্ক স্ট্রিট-এর কবর স্থানে কিচ্ছু ক্ষণ শান্তিতে হাঁটা।

আশ্চর্যজনক ভাবে, কলকাতা শহরে শান্তি খুঁজতে হলে, একবার দক্ষিণ কলকাতায় গিয়ে দক্ষিণ পার্ক স্ট্রীটের কবর স্থানে ঘুরে আসতে হয়। এই শান্ত জায়গায় আপনি একবার পরিক্রমণ করলে আপনার মন দীর্ঘক্ষণের জন্য প্রশান্ত থাকবে।

13. ভক্তিভরে দক্ষিনেশ্বরের কালী মন্দির ঘুরে আসা।

বিখ্যাত হুগলি নদীর উল্টো দিকে অধিষ্ঠিত অতি বিখ্যাত দক্ষিনেশ্বরের মন্দির যা সব ধরনের হিন্দু সমাজের মধ্যে তাত্পর্যপূর্ণ। তাই কলকাতা থাকা কালীন এইখানে একবার ঘুরে আসা উচিত।

14. কলকাতার মুখরোচক স্বাদ ভোগ করা।

কলকাতায় যেইখানেই যান না কেনো, কোনো এক মুখরোচক খাবারের দোকানে দাড়াতে আপনি বাধ্য। টুকটাক স্নাক্স খাবারই বলুন কি হিমশীতল রাবড়ি কি লস্যি, ভারতের সব ধরণের স্বাদই আপনি পাবেন এই শহর কলকাতায়।

15. সুন্দরবনে অভয়ারন্যে যাওয়া।

ইন্ডিয়ানা বাঘকে চোখের সামনে খেলতে দেখার জন্যে সুন্দরবনের চেয়ে ভালো জায়গা পাওয়া সত্যই সম্ভব না। তাই যদি কিছু দুঃসাহসিক কাজ করতে আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে যদি ইচ্ছে করে তাহলে কয়েক দিনের জন্যে সুন্দরবন যাওয়াটা অতি জরুরি।

Popular on the Web

Discussions



  • Co-Partner
    Viral Stories

TY News