বাংলায় জন্মগ্রহণকারী 12 জন অদম্য সাহসী মানুষ

6:55 pm 29 Apr, 2016


বিখ্যাত এক ব্যক্তিত্য একদা বলে গেছেন “Badass is what badass does” প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তির মালিক এই মানুষগুলোর সুখ্যাতি প্রাপ্য কারণ তারা নিজেদের লক্ষ্য জয়ে বেপরোয়া ছিলেন, অন্যায়ের সাথে কোনদিন আপোস করেননি, এবং জ্যাক ব্ল্যাক যেন ”School of Rock”-এ এদের উদ্দেশেই লিখে গেছেন “Stuck it to the man”।

অনেক বাঙালি আছেন যারা পৃথিবী-বিখ্যাত অধ্যাত্মবাদী, দার্শনিক ও লেখক হয়েছেন। কিন্তু, আমরা নাহয় আরেকদিন তাদের সম্পর্কে আলোচনা করব। বাঙালিরা সাহসী ও দ্বিধাহীন মনোভাবের থেকেও তাদের মসৃন বুদ্ধিবৃত্তির জন্য বেশি পরিচিত। কিন্তু এখানে আলোচিত মানুষগুলো ছিলেন ব্যতিক্রম।

1. সূর্যসেন – স্কুলশিক্ষক থেকে বিপ্লবী।

একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন করে ব্রিটিশদের ভয় দেখানোর জন্য তিনিই যথেষ্ট ছিলেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, চট্টগ্রাম থেকে ব্রিটিশ সংযোগ বিছিন্ন করতে সমস্ত যোগাযোগ স্থাপনের পথ কে বিযুক্ত করেন, এবং সেন ও জাতীয়তাবাদে অনুপ্রানিত তাঁর সহকর্মীরা ব্রিটিশ অস্ত্রাগার লুন্ঠনে সক্ষম হন। তিনি ও তার সহকর্মী পুরুষরা ইংরেজ সেনাবাহিনীর সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং লুঠ নিয়ে পালান।

Source: TowardsFreedom.in

ব্রিটিশদের হাতে ধরা পরার পর অসম্ভব নির্যাতনে মৃত্যুমুখী হওয়া সত্তেও সেন তার জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে একটুও বিচলিত হননি এবং মাথা উচু রেখেই মৃত্যুবরণ করেন।

2. বাঘাযতীন – সুকৌশলী বিপ্লবী।

বাঘা যতীন (tiger Jatin) যতীন্দ্রনাথ মুখার্জী হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর সমস্ত শক্তি দিয়ে ব্রিটিশদের বিরোধিতা করে তার বৈপ্লবিক পরিচয় দেন। তিনি ছিলেন ইংরেজ শাসন বিরোধী বহু গোপন কর্মপরিকল্পনার একজন দক্ষ্ম স্তিস্ক। সেই সময়ের স্বৈরাচারী নেতাদের নিশ্চিহ্ন করতে যে সমস্ত পরিকল্পনা করা হয় সেই সব পরিকল্পনার মূলে ছিলেন তিনি। তিনি শুধুমাত্র বৈপ্লবিক-সাহসিক চিন্তাধারার মাধ্যমে ইংরেজদের শায়েস্তাই করেননি, ইংরেজ সরকারের অধীনস্ত বহু নেতাদের কাছে একটি দুঃস্বপ্ন-এর মত ছিলেন।

3. বিনয়, বাদল ও দীনেশ – সাংঘাতিক ত্রয়ী

এই তিন জাতীয় বীরদের কেউই 30 বছরের পরবর্তী জীবনকে দেখে যেতে পারেন নি। এই তিনজন নেতাজি গঠিত বাংলার স্বেচ্ছাসেবক সমিতিতে যোগদান করেন।

নিষ্ঠুর কর্নেল এন.এস.সিম্পসন (কারা মহাপরিদর্শক) কে হত্যা করার দরুন এই তিন বীর মৃত্যু বরণ করেন। স্পষ্টতই তারা ইংরেজ সেনাবাহিনীর তুলনায় নগন্য পরিমান হওয়া সত্বেও কর্ণেলের সাথে বন্দুক যুধ্বে এই তিন সাহসী হার মানতে নারাজ ছিলেন। অবশেষে, যখন অপরপক্ষ তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ঘিরে ফেলেন, তখন কোনপ্রকার আত্মসমর্পণের না করে তারা আত্মহননের পথ বেছে নেন।

4. রাসবিহারী বসু – জন্ম-বিপ্লবী

তিনি ফ্রান্স ও জার্মানিতে মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী অর্জন করেছেন, শিক্ষায় একটি শক্তিশালী পটভূমি থাকা সত্তেও, রাসবিহারী বসু একজন সক্রিয় বিপ্লবী হয়ে ওঠেন। তিনি লর্ড হার্ডিঞ্জ-এর হত্যার প্রচেষ্টায় একটি গোপন ভূমিকা পালন করেন। এক অদম্য ইচ্ছাশক্তির মালিক তো তিনি ছিলেনই, ইংরেজদের নাকের ডগায় থেকেও তার কার্যক্রম সম্পর্কে ইংরেজদের সামান্য আভাসও পেতে দেন নি। ‘ঘাদার’ বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার পরও তিনি ব্রিটিশদের হাতের পাঞ্জায় ধরা পরেন নি। এই সময় তিনি জাপানে পালিয়ে যান, যেখানে সুভাষ চন্দ্র বসুর সাথে মিলিত হয়ে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি গঠন করেন।

Source: Ibtl.in

5. সৌরভ গাঙ্গুলী – প্রত্যাবর্তনের দাদা।

সৌরভ গাঙ্গুলী একটি সমৃদ্ধশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হয়ত নিজেই কল্পনা করেননি তার সাহসিকতার চূড়া কোথায়ঃ ভারতীয় ক্রিকেট দলের একজন অধিনায়ক যিনি কিনা খালি গায়ে হয়ে হাওয়ায় নিজের জামা ওরাচ্ছেন ক্রিকেটের আতুরঘর লর্ডস এর বারান্দায়।

ব্যালকনিতে দলের মাঝে তার সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত ছাড়াও, তার যাত্রা নিজ মহিমায় উজ্জ্বল।

2004 সালে কোনরকম আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ছাড়াই সৌরভ কে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং তার প্রত্যাবর্তনের পর তাকে কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের কাছে নির্বাসনের দাবির মুখোমুখি হতে হয়। চ্যাপেলের কারণে আবার দলের বাইরে যেতে হয় তাকে এবং ক্রিকেট সুলভ বয়সের দাড়িপাল্লার শেষ প্রান্তে দাড়িয়েও সৌরভ ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা অব্যাহত রাখেন এবং অবশেষে দলে প্রত্যাবর্তন করেন।

2008 এর দ্বিতিয়ার্ধে তার ক্রিকেটিও জীবনের সাফল্যের চূড়াতে থাকা অবস্থায় নিজ ইচ্ছায় মাথা উচু করে, তার আগ্রাসী মনোভাব অক্ষুন্ন রেখে খেলাকে বিদায় জানান। লক্ষ-লক্ষ ভারতীয় ক্রিকেট ভক্ত বিশ্বাস করেন যে দাদা হলেন ভারতীয় দলের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক। যে দল ধোনিকে একের পর এক সিরিজ জয় এনে দেয় সেই দল সৌরভ-এর ই তৈরী।

6. ক্ষুদিরাম বসু – মরণেচ্ছার দূত।

মাত্র 16 বছর বয়সে তিনি ইংরেজ সরকারের পুলিশ স্টেশনে ও সরকারি কর্মকর্তার বাসস্থানে বোমা নিক্ষেপ করেন। একজন সরকারি কর্মচারীর পুত্র, ক্ষুদিরাম বসু একজন দেশপ্রেমিক হয়েই জন্মগ্রহণ করেন, যার জন্য তার পিতা মাতাকে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বকনিষ্ঠ ক্ষুদিরামকে ১৯ বছরেরও কম বয়সে ব্রিটিশ সরকার ফাঁসিতে ঝোলায়। বন্দীদশায় যখন তাঁকে একটি বিচারের জন্য আনা হয়, সেই সময় দ স্টেটসমৈন লেখে: “রেলস্টেশনে ভীড় জমেছে ছেলেটাকে দেখতে। ১৮-১৯ বছরের নিছকই এক বালক যাকে বেশ সঙ্কল্পিত দেখাচ্ছে। সে একটি প্রথম শ্রেণীর কামরার বাইরে এল এবং বাইরে তার জন্য একটি অনাবৃত চার চাকার ঘোরার গাড়ি রাখা, সে উচ্ছসিত একটি প্রাণ যার মধ্যে কোনো উদ্বেক নেই… আসন গ্রহণ করে ছেলেটি জোরে বলে উঠলো ‘বন্দে মাতরম’ ”

অন্যান্য বিপ্লবীদের বাঁচাবার জন্য ক্ষুদিরাম ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে বোমা নিক্ষেপের সমস্ত অভিযোগ দায়ভার গ্রহণ করেছিলেন।

এটা যদিও একটা ব্যর্থ চেষ্টা ছিল কিন্তু তাঁর সাহসিকতার দৃষ্টান্ত 1857 সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল। এই যুগ অগ্নি-যুগ নাম পরিচিতি লাভ করে।

1908 সালের 11ই অগাস্ট ক্ষুদিরামের ফাঁসি সম্পন্ন হয়। তাঁর শরীর সোজা এবং দৃঢ় হয়ে থাকে, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও তার ঠোটের কোনায় হাসি লেগে ছিল, মারা যাওয়ার সময়েও তাঁর মুখ ছিল কৈশোরের সারল্য ও এক অদ্ভুত প্রশান্তি। স্থানীয় ও ব্রিটিশ সংবাদপত্র পরদিন তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আপনাকে প্রনাম হে তরুণ শহীদ!

7. সুরেশ বিশ্বাস – অন্যতম পরিত্রাতা।

আক্ষরিক অর্থেই কর্নেল সুরেশ বিশ্বাস একজন সুপারহিরোর চেয়ে কম কিছু ছিলেন না। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে মানুষকে বাচানো থেকে কলকাতার ময়দান এলাকা ব্রিটিশদের হাত থেকে বাচানো পর্যন্ত কেউ যতটা অসীম সাহস প্রদর্শন করতে পারে বিশ্বাস ছিলেন ততটাই অদমিত মনবলের অধিকারী। স্নাতকের পরে একটা নিয়মিত কাজ অনুধাবন করতে অক্ষম হয়ে বিশ্বাস তার কিশোর বছর নিজেই ভূ-পর্যটন শুরু করেন।


রেঙ্গুনে তিনি আগুনের হাত থেকে একজন নারীকে উদ্ধার করেন। তারপর তিনি লন্ডনে চলে আসেন যেখানে তিনি দিনের বেলায় পত্রিকা বিক্রি করতেন ও রাতে অপরাধীদের সাথে লড়তেন। তিনি এরমই অদ্ভুত ছিলেন যে প্রায়ই তিনি প্রায়ই সকালে নারীদের পাশে ঘুম থেকে উঠতেন এবং তার কাছে পূর্ববর্তী রাতের কোনো স্মৃতি থাকত না এবং তার পকেট নিঃস্ব অবস্থায় থাকত।

নারীরা অবশ্যই তাঁর badassery জন্য তাকে ভালোবেসেছিল। সুরেশ বিশ্বাস জীবনে আরো অগ্রসর করেন এবং অবশেষে ব্রাজিলেই তার স্থায়ী ঠিকানা স্থাপন করেন। ব্রাজিলে তিনি বক্তৃতা দেন এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি Niteroi-এর যুদ্ধে ব্রাজিলের নৌ হামলা প্রতিসংহারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন যা তাকে ব্রাজিলের লোকাচারবিদ্যায় এক ধর্মীয় মূর্তি হিসেবে প্রথিস্তিত করে।

8. জয়ন্ত নাথ চৌধুরী – মেজর সাহাব

1908 সালে একটি ঐতিহ্যগত বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করা জয়ন্ত নাথ চৌধুরী ছোটবেলা থেকেই অসম্ভব কে সম্ভব করার সংকল্পী ছিলেন। তার একগুঁয়েমি তাকে 1928 সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতীয় ইংরেজ সেনাবাহিনীতে যোগদানে আগ্রহী করে। শুধুমাত্র দৃঢ় সংকল্প এবং সাহসের ভিত্তিতে 1937 সালে চৌধুরী ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন আফ্রিকান মরুভূমিতে তার অপরের প্রতি সেবা-সাহায্যমূলক কাজকে ব্রিটিশ সরকারও স্বীকৃতি দেয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পুরস্কৃত করা হয়।

শিক্ষাদীক্ষা এবং সেবার ক্ষেত্রে তার অকুতোভয়তা অব্যাহত থাকে, যার জন্য তিনি 1985 সালে মেজরের পদমর্যাদা লাভ করেন। চৌধুরীকে পরে কাশ্মীরের যুদ্ধক্ষেত্রের দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়, হায়দ্রাবাদের পোলো খেলার ক্রিয়াপ্রণালীতে ও আরও অনেক সামরিক অবস্থানের দায়িত্বও তার ওপর অর্পিত হয়, তিনি তার সমস্ত কর্তব্য তার স্বাভাবিক আপোসহীন অদম্য মনোভাবের সঙ্গে নিখুঁতভাবে পালন করেন। তার এই অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দিতে তাকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার পদ্মবিভূষণ-এ বিভূষিত করা হয়।

9. সুব্রত মুখার্জি – ডানাধারী মানুষ।

সুব্রত মুখার্জি ভারতীয় বিমান বাহিনীর জনক হিসেবে পরিচিত এবং তার এই পরিচিতি যথার্ত। তিনি ছিলেন ভারতীয় বিমানবাহিনী দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম দিককার একজন এবং প্রথম মনোনীত বাহিনী প্রধান। অত্যন্ত শিক্ষিত পূর্বসুরীদের বংশধর হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজ লক্ষ্য জয়ে স্বমহীমায় উজ্জ্বল। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে এক সামরিক প্রবণতা স্পষ্ট ছিল।

তার এই অদম্য মনোভাব তাকে 1932 সালে রয়্যাল এয়ার ফোর্স এ নিযুক্ত করায়, যার প্রাপ্য হিসেবে তিনি আরও 5 জনের সাথে মিলিতভাবে রয়েল এয়ার ফোর্সের প্রথম ভারতীয় দল গঠন করেন। একই দিনে ভারতীয় বিমানবাহিনী আইন পাস হয়, এবং এইভাবে ভারতীয় বিমানবাহিনী জন্মগ্রহণ করে।

1939 সালে তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে স্কোয়াড্রন লিডার পদে উন্নীত হন এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রথম এয়ার মার্শাল পরিণত হয়ে ওঠার চেষ্টায় ব্রতী হন। মুখার্জীকে তার স্বতন্ত্র কার্যকলাপের জন্য ব্রিটিশ সরকারের আদেশ অনুযায়ী পুরস্কৃত করা হয়। জানেন কি, তিনি মোহনবাগানের হয়েও খেলেছেন। তাকে সম্মানিত করতেই তারই নামে সুব্রত কাপ পরিচিতি লাভ করে। পরে তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রথম এয়ার মার্শাল ওঠেন।

10. সুস্মিতা ব্যানার্জি – অব্যক্ত মালালা।

সুস্মিতা ব্যানার্জিকে সম্ভবত অনুচ্চারিত মালালা বললেও ভুল হবেনা। তার গল্পটা সংগ্রাম এবং বিজয়ের। ব্যানার্জী গোপনে কলকাতায় একজন আফগান পুরুষকে বিয়ে করেন। রক্ষণশীল বাবামায়ের ক্রোধের হাত থেকে বাচতে তিনি তার স্বামীর সাথে দেশের বাইরে পালিয়ে যান এবং ইতিমধ্যে আবিষ্কার করেন যে আগে থেকেই তার স্বামীর আফগানিস্তানে এক স্ত্রী ছিল। তার দুর্দশা চরমে ওঠে যখন তার স্বামী তাকে ফেলে রেখেই কলকাতা ফিরে আসেন এবং তিনি নাতো স্বামীকে আটকাতে নাতো কলকাতায় ফিরতে সক্ষম হন।

আফগানিস্তানে তালিবান শাসকদের নিষ্ঠুর নৃসংশ অত্যাচারের প্রত্যক্ষ্সা ক্ষী ছিলেন ব্যানার্জী। তার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির দ্বারা একটি চিকিত্সালয় খুলে মহিলাদের সাহায্য করার জন্য তিনি সচেষ্ট হন। ধীরে ধীরে ক্লিনিকে মেয়েরা আসা শুরু করে এবং মিলিশিয়ার অবাঞ্ছিত ব্যানের্জীকেও তাদের মনে ধরে। তার এই সাহসিকতামূলক কাজ দমন করার জন্য তালিবানরা তাকে আক্রমন করে এবং নিদারুন প্রহারের মাধ্যমে তাকে প্রায় আধমরা করে দেয়। অনেকবার পালানোর চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন, তার ওপর ফতোয়া জারি করা হয়, কিন্তু এসবের পরেও তিনি AK-47 রাইফেল দিয়ে তিনজন সৈনিককে হত্যা করার পর পালাতে সক্ষম হন। ভারতে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি তালিবান শাসিত আফগানিস্তানের মহিলাদের দূর্দশা-লাঞ্ছনাকে কেন্দ্র করে অনেক বই লেখেন। তার আগমন নিয়তির ভাগ্য লিখনকে প্রমান করে, 2013 সালে জঙ্গিদের হাতে তার মৃত্যু হয়।

11. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর – সংস্কারক।

একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বলে ঈশ্বরচন্দ্রকে শৈশবে রাস্তার আলোর নিচে লেখাপড়া করতে হয় এবং তিনিই মাত্র 21 বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সংস্কৃত বিভাগের প্রধান হয়ে ওঠেন। আর ঠিক দশ বছর পরে, সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ-এর আসনে বসেন তিনি। আমাদের মধ্যে বেশিরভাগই জানেনা আমরা এই বয়সে জীবনের কাছে ঠিক কি পেতে চাই। এটাই শেষ নয়। সর্বপরি আমাদের কাছে সার্থক আগারওয়ালের দৃষ্টান্ত রয়েছে যিনি সি.বি.এ.সি বোর্ড পরীক্ষায় অবিশ্বাস্য 99.6% নম্বর পেয়েও সেন্ট স্টিফেনস-এর অপেক্ষা তালিকায় শেষ করেন। বাংলায় হিন্দু নারীদের জন্য এক নজিরবিহীন ভূমিকা পালন করেছেন ঈশ্বরচন্দ্র। হ্যাঁ, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা (ব্রাহ্মসমাজ, উদাহরণস্বরূপ) ছিল যদিও। কিন্তু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সনাতন হিন্দু ধর্মের গোঁড়ামি দূর করে নতুন সমাজ গঠনের সিধান্ত নিয়েছিলেন। হিন্দু গোঁড়াদের বিরুদ্ধে যা বিপ্লব ডেকে আনে।

কেন?বেশ, ওই দিনগুলোয় ফিরে তাকালে দেখা যাবে উচ্চবর্ণের, শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধশালী (পরে ব্রিটিশ, অবশ্যই) ব্যক্তিগণ নিজ পছন্দ অনুযায়ী যতবার খুশি বিবাহ সম্পন্ন করার বিলাসিতা ভোগ করতেন। এমনকি সে মৃত্যুসজ্জায় কিনা তাও গা করা হত না। এরা কিশোরী মেয়েদের বিয়ে করতে পারতেন। প্রতি বছর এই মেয়েদের অনেকেই বিধবা হতেন। তাদের জীবন ছিল নরকের জীবন। অনেকে শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রম করতে করতেই মৃত্যুমুখে ঢলে পরতেন। আর বাকিরা বাঁচার জন্য গণিকাবৃত্তি অবলম্বন করতে বাধ্য হতেন। ব্রিটিশরা নয় আমরা নিজেরাই নিজেদের দেশে জাহান্নাম তৈরি করেছি।

1856 সালে বিদ্যাসাগরই প্রথম বিধবা বিবাহ আইন পাস করাতে অগ্রসর হন এবং প্রস্তাব দেন।

12. নেতাজি – ভারতের না পাওয়া সর্বকালের শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী।

সুভাষ চন্দ্র বসু, জার্মানিতে ভারতীয় সৈন্যরা যাঁকে নেতাজি বলে সম্বোধন করতেন, তিনি তার শেষ নিশ্বাস অবধি এক আলোড়নপূর্ণ জীবনের অধিকারী ছিলেন।জীবনের শেষ দিন অবধি তিনি দেশ স্বাধীনের জন্য লড়ে গেছেন। প্রথমে তিনি গান্ধীর অনুসারী ছিলেন, পরে ইংরেজ সরকার তার দ্বারা হুমকি প্রাপ্ত হয়ে তাকে গৃহবন্দী করে রাখলে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

নেতাজীর কর্মক্ষমতা ছিল এরকমই অনবদ্য, জার্মানিতে উড়ে যাওয়ার পর তিনি এক শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার এবং অহিংসার পরিবর্তে যুদ্ধ-বলের দ্বারা ইংরেজ সরকার কে পরাজিত করার পরিকল্পনা করেন। তার অনমনীয় মনোভাব প্রমান করে যে তাঁর অনন্যসাধারণ প্রতিভা একাই যথেষ্ট ছিল ভারতীয় সেনাদের উদ্বুদ্ধ করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে জোট গঠন করতে।

তার ব্যাপক আবেদন সম্পর্কে ইংরেজ সরকার ভালোভাবে ওয়াকিবহাল ছিল এবং নিজ সীমার মধ্যেই অহিংস রাজনীতিবিদদের সঙ্গে মোকাবেলা করা শ্রেয় মনে করে। তিনি এমনকি আন্দামানে ভারতীয় সরকারের শর্তাধীন স্বাধীনভাবে সভাপতিত্ব ও করেন। 1985 সালে বিমান দুর্ঘটনায় তার সন্দেহজনক মৃত্যুর পরেও অবিশ্বাসী ও নিন্দুকরা বিশ্বাস করেন যে সময় হলেই তিনি ফিরে আসবেন এবং সম্পাদন করবেন তার অভিষ্ট জয়–ভারতবর্ষের স্বাধীনতা।

Popular on the Web

Discussions



  • Viral Stories

TY News